# a b c d e f g h i j k l m n o p q r s t u v w x y z

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত কমিটির পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। 

ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভর্তি ওয়েবসাইট https://jnuadmission.com-এ গিয়ে নিজ নিজ প্যানেলে লগইন করে ফলাফল দেখতে পারবেন। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি সংক্রান্ত পরবর্তী সব নির্দেশনা ও সময়সূচি (বিভাগ পছন্দক্রম পূরণ, ভর্তি ফি জমা ইত্যাদি) যথাসময়ে ওয়েবসাইটের নোটিশ সেকশনে প্রকাশ করা হবে। 

উল্লেখ্য, এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বতন্ত্রভাবে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করেছে। বিজ্ঞানের এই ‘এ’ ইউনিটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোতে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবেন।  

অপেক্ষার অবসান, ঢাকায় তারেক রহমান

 

ঢাকায় পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এদিন সকাল ১১টার পর পর ফ্লাইটটি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজে ২০২ বিমানটি। এরপর একঘণ্টা যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রাবিরতি শেষে বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।

এদিকে, আজ সকালে দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের পর তারেক রহমান সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।

এদিকে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে এবং রাজকীয় সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর ৩০০ ফিট (পূর্বাচল) এলাকায় তৈরি করা হয়েছে এক সুবিশাল মঞ্চ। 

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হচ্ছেন সমাবেশস্থলে। স্লোগানে মুখর চারপাশ। বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বলা চলে স্লোগান, প্ল্যাকার্ড আর উচ্ছ্বাসে পুরো সমাবেশস্থল যেন ‘উৎসবকেন্দ্র’ হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় পৌঁছানোর পর রাজধানীর পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট এলাকা) যাবেন তারেক রহমান। সেখানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেবেন তিনি। তারপর মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। 

গাজীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ‘জুলাই যোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভী গ্রেপ্তার


পরিচিতি: ঘটনা কি, কোথায় ও কেন?

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর, বুধবার গভীর রাতে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার গোপালপুর-টেকপাড়া থেকে তাহরিমা জান্নাত সুরভী নামে একজন তরুণীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। তাকে সংবাদমাধ্যমে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। Jagonews24+1

গ্রেপ্তারের ঘটনায় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেয় — যার মধ্যে পুলিশ এবং অন্যান্য আইনগত ইউনিট ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। Jagonews24

গ্রেপ্তারের পেছনের অভিযোগগুলো

তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে আছে—

ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
একটানা তদন্তে জানা গেছে, তিনি এবং তার সংগঠন মুক্তিক আমলে মামলার ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ। সূত্রগুলোতে বলা হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। The Daily Times Of Bangladesh

মামলা-বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগ
একাধিক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তিনি বিভিন্ন মামলাকেweaponize করে ভয় দেখাতেন এবং আইনি ভাবে হয়রানি সৃষ্টি করতেনBD Today

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য
পুলিশি সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনি সরকার-সংযুক্ত কিছু উপদেষ্টাদের ও সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে সামাজিক মিডিয়ায় কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। Jagonews24

এসব কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল এবং সেই নিয়মে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। Jagonews24


‘জুলাই যোদ্ধা’ শব্দটি কি বোঝায়?

“জুলাই যোদ্ধা” নামে খেতাবটি মূলত সামাজিক মাধ্যমের স্থানীয় ব্যবহার এবং নিজ পরিচয়ের ভিত্তিতে তিনি নিজের জন্য ব্যবহার করতেন। এটি কোনো সরকারি তকমা বা আইনি শংসাপত্র নয়

এখানে একটি বাইরের উৎস থেকে “July Rebels/July movement” শব্দটির সাধারণ পরিচয় জানা যায়, কিন্তু এই ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত খেতাবের সরকারি কোন ব্যাখ্যা নেই। আপনি চাইলে “জুলাই আন্দোলন” বা সংশ্লিষ্ট ইভেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Wikipedia-র জুলাই আন্দোলন পেজ দেখতে পারেন:
👉 https://en.wikipedia.org/wiki/July_Movement (উদাহরণ হিসেবে)

লক্ষণীয়: Wikipedia-তে বিপ্লব বা রাজনৈতিক আন্দোলনের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য আছে যা ঘটনাগুলো প্রসঙ্গে সহায়ক হতে পারে। বাংলা টেলিগ্রাফ


গাজীপুরে যৌথ বাহিনী অভিযানের পটভূমি

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যৌথ বাহিনী বলতে সাধারণত বোঝানো হয় পুলিশ, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB), আনসার-ভিডিপি এবং প্রয়োজনতর্মক অন্যান্য ইউনিট-কে যারা এক সঙ্গে অভিযানে অংশ নেয়।

এ ধরনের যৌথ অভিযান সাধারণত অপরাধ দমন এবং আইনগত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেই পরিচালিত হয়, যেটি সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার অংশ।
📌 প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানটির মাধ্যমে তাহরিমা জান্নাত সুরভী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। Jagonews24


ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট

তাহরিমা জান্নাত সুরভী গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও লাইভ প্রচারের মাধ্যমে তাকে দর্শক-জনগণের কাছে পরিচিত হতে দেখা গেছে। এসব আচরণ ও পরিচিতি থেকে তাকে “জুলাই যোদ্ধা” নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। MTnews24

তবে পুলিশি তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত মনে করে আইন অনুসারে গ্রেপ্তার করা হয়েছেThe Daily Times Of Bangladesh


সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া

গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে তোলা হয়ে থাকতে পারে এবং এর পরবর্তী পর্যায়ে আইনি কার্যক্রম সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হবে। সাধারণত এই ধরনের মামলায়—

  • গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়

  • আইনগত শুনানি হয়

  • আদালতের মামলার রায় প্রদানের পর ধারা অনুযায়ী সাজা বা মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা রয়েছে যেটি আইনের অধীনে পরিচালিত হয়।


উপসংহার

গাজীপুরে যৌথ বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে তাহরিমা জান্নাত সুরভী (যাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে) গ্রেপ্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজি-সম্পর্কিত অভিযোগ রয়েছে, যা পুলিশ তদন্তের পর ভিত্তিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর হয়। এ ঘটনাটা দেশের আইনি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

📌 নোট: এই লেখা সংবাদভিত্তিক ও নিরপেক্ষভাবে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত; কোনো রায় প্রদান করে না। Jagonews24 


সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)


জুলাই যোদ্ধা” কি সরকারি কোনো পরিচয়?

না, এটি কোনো সরকারি খেতাব নয়; সামাজিক মাধ্যমে নিজ পরিচয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত।



গ্রেপ্তারের মূল অভিযোগগুলো কি?


ব্ল্যাকমেইলিং, চাঁদাবাজি, মামলা-বাণিজ্য ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ।

তাকে কোন থানায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর-টেকপাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।



গ্রেপ্তারের পর কি সাধারণত কি ঘটে?

গ্রেপ্তারের পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং আইনি ধারা অনুযায়ী প্রক্রিয়া চালানো হয়।



ঘটনাটি কি বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাধারণ কাজের অংশ?

হ্যাঁ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধ দমন ও তদন্তের অংশ হিসেবে যৌথ অভিযান ঘটে থাকে।



আতাউর রহমান বিক্রমপুরী: পরিচয়, গ্রেপ্তার ও সাম্প্রতিক ঘটনা | সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ ২০২৫

 ✨ আতাউর রহমান বিক্রমপুরী: একজন ইসলামী বক্তা ও সাম্প্রতিক ঘটনা — একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ



বাংলাদেশে ধর্মীয় বক্তা এবং সামাজিক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর নাম সাম্প্রতিক সময়ে প্রচুর আলোচনায় এসেছে। তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ঘটনা, সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও সরকারি পদক্ষেপ নিয়েও জনগণের মধ্যে উচ্চ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এই দীর্ঘ ব্লগ পোস্টে আমরা তার পরিচয়, কার্যকলাপ, বিতর্ক, আইনগত অবস্থা এবং সমসাময়িক সংবাদ বিশ্লেষণ করবো।


🧑‍🏫 কে তিনি? — আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর পরিচয়

আতাউর রহমান বিক্রমপুরী সাধারণভাবে একজন ইসলামী বক্তা ও ওয়াজকারী (Islamic preacher) হিসেবে পরিচিত। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ধর্মীয় ভিডিও ও বক্তৃতা শেয়ার করে থাকেন এবং এ কারণে অনলাইন ভিত্তিক একটি অনুসারী শাখা তৈরি হয়েছে।

সাইবার মিডিয়া ও বিভিন্ন YouTube ভিডিওতে তার বক্তৃতা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, নসীহত (মনোনীত উপদেশ), আমল ও জীবনদর্শন নিয়ে আলোচনা করেন। YouTube

তবে, অনেক ক্ষেত্রে তার বক্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং কিছু সামাজিক গ্রুপ বা ব্যক্তি তাকে সমালোচনার লক্ষ্যেও পরিণত করেছে।


📰 সাম্প্রতিক খবর: গ্রেপ্তার ও আইনগত ঘটনা

২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নরসিংদী থেকে মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে বার্তাসংস্থা ও গণমাধ্যম একত্রে জানিয়েছে। Jagonews24+1

গ্রেপ্তারের খবর অনুযায়ী:

  • তিনি গত রাতে গ্রেপ্তার হন। Jagonews24

  • পুলিশ তার অবস্থান ও অনুসন্ধান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। RTV Online

এই খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিশ্চিতভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে এবং এটি একটি সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা


📌 বিতর্ক এবং জনমত

আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে ঘিরে জনমত বিভিন্ন দিক থেকে বিতর্কিত:

🔹 সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য

কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং ভিডিওতে তাকে দ্বেষমূলক ভাষা, সাম্প্রদায়িক মন্তব্য বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক/ধর্মীয় ইস্যুতে কঠোর মতামত প্রকাশ করতে দেখা গেছে। Dhaka Courier

কিছু পোস্টে বলা হয়েছে, তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন যা সমাজে বিভেদ, ধর্মীয় উগ্রপন্থা বা সহিংসতার প্রতি উস্কানি দিতে পারে। Dhaka Courier

🔹 অতীতে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

একটি খবর উল্লেখ করেছে যে, তিনি বিভিন্ন সময় অনলাইন বক্তব্যে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং কিছু পোস্টে “রাষ্ট্র/ধর্ম ও মতাদর্শের বিরুদ্ধে উগ্র মন্তব্য” করেছেন, যা আইনগত খাতিরে গুরুত্ব পেতে পারে। Dhaka Courier

এই ধরনের বিতর্ক জনমতকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে — কিছু লোক তার বক্তব্যকে “ধর্মীয় উদ্দীপনা” হিসেবে দেখেন, আবার অনেকে তা “সমাজে বিরূপ প্রভাব” হিসেবে মূল্যায়ন করেন।


📊 গঠনমূলক বিশ্লেষণ: কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটে?

যে কোনো ধর্মীয় বক্তা যদি তার বক্তব্যে সহিংসতা, ঘৃণা, বা বিভেদ সৃষ্টি করে এমন মন্তব্য করে থাকে, তখন এটি সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী করে এবং আইনগত অনুসন্ধানের বিষয়ও হতে পারে।

বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা সংবিধানগতভাবে সুরক্ষিত। কিন্তু সেই সাথে আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বক্তব্য যদি অপরাধ, সহিংসতা বা সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। এই ধরনের প্রসঙ্গকে সাধারণভাবে দেখতে পারেন বাংলাদেশে ধর্ম ও মত প্রকাশের নিয়মকানুনের আলোকে —
👉 বিবিধ আইনি কাঠামো ও বিধির জন্য দেখুন: বাংলাদেশ সরকারী আইন ও বিধি (Legal Framework) — যেমন বাংলাদেশের আইন, সংঘর্ষ প্রতিরোধ আইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিধি ইত্যাদি


📍 ইসলামী বক্তাদের ভূমিকা ও সমাজ

বিশেষ করে বাংলাদেশে ধর্মীয় বক্তাদের ভূমিকা অনেক বড় — তারা প্রচার করেন নৈতিক শিক্ষা, সাম্প্রদায়িক ঐক্য, এবং ব্যক্তিগত নৈতিকতার মূল্য। কিন্তু যখন বক্তৃতা একপাক্ষিক, হিংসাপ্রবণ বা বিভেদ মূলক হয়ে যায়, তখন:

  • সমাজে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

  • সাম্প্রদায়িক টানাপোড়েন বাড়তে পারে।

  • আইনগত ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এজন্য সামাজিক মাধ্যমে অভিযোজনশীল, সহানুভূতিশীল ও বাস্তবধর্মী বক্তব্য প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


📌 কী হতে পারে পরবর্তী ধাপ?

বর্তমানে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চলছে এবং মামলার প্রকৃতি সম্পর্কে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া দরকার।

যেহেতু এই ঘটনা ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ সংবাদ — এটি চলমান ঘটনাচক্রের অংশ, তাই পরবর্তী আইনী সিদ্ধান্ত, মামলা ও আদালতের কার্যক্রম সময়ের সাথে সামনে আসবে।


📌 সামগ্রিকভাবে বিষয়টি কী নির্দেশ করে?

মূল বক্তব্যগুলো সংক্ষেপে:

✔️ আতাউর রহমান বিক্রমপুরী একজন ধর্মীয় বক্তা যা তার বক্তৃতা ও অনলাইন বক্তব্যের জন্য পরিচিত। YouTube
✔️ তিনি ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। Jagonews24
✔️ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার বক্তব্য নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া ছিল। Dhaka Courier
✔️ ঘটনা বর্তমানে আইনি তদন্ত ও অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে।
✔️ সমাজে ধর্মীয় বক্তাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনাও তীব্র হচ্ছে।


🏁 উপসংহার

আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর বিষয়টি শুধু এক ব্যক্তির বিতর্ক নয়, বরং এটা ধর্ম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক ভাবাপন্নতা ও আইনি কাঠামোর মধ্যে সমন্বয়ের একটা বড় উদাহরণ। সমাজে ধর্মীয় বক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন, কিন্তু সেই ভূমিকা সদা দায়িত্বশীল, মানবিক ও আইনসম্মত হওয়া প্রয়োজন

এই ঘটনাটি আমাদের সামনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে — ধর্মীয় বক্তাদের দায়িত্ব, সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষমতা, আইনি সীমা, এবং সমাজে সাম্য ও সহমর্মিতার স্থান সম্পর্কে।

সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)


আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে কি কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি নরসিংদী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দ্বারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হতে পারে।



তিনি কি একজন বর্তমানে প্রভাবশালী বক্তা?


তিনি অনলাইনে ইসলামী বক্তৃতা ও ওয়াজের মাধ্যমে পরিচিত, এবং তার সমর্থক ও অনুসারীদের একটি অংশ রয়েছে।

কি কারণে সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে?

কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তার মন্তব্যগুলোকে ঘৃণা-মূলক বা বিভাজক হিসেবে দেখানো হয়েছে, যার ফলে সামাজিক প্রতিক্রিয়া এসেছে।



এই ঘটনা কি ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধ?

ধর্মীয় বক্তারা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু যদি বক্তব্য আইন বা সমাজের শান্তি/একতা ভঙ্গ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধি প্রযোজ্য হতে পারে।



আগামী কি হতে পারে?

তদন্ত এবং আইনি কার্যক্রমের ভিত্তিতে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। বিস্তারিত তথ্য সময়ের সাথে প্রকাশিত হবে।



বাংলাদেশের রাজনীতিতে BNP: ইতিহাস, নেতৃবৃন্দ এবং প্রভাব

 ১. ভূমিকা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) একটি গুরুত্বপূর্ণ দল। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি দেশের জনগণের জন্য সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করে এবং সরকারে ক্ষমতা লাভ ও দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

BNP এর ইতিহাস, নীতি, নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং বর্তমান প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই ব্লগ পোস্টে।




২. BNP এর ইতিহাস

২.১ প্রতিষ্ঠা ও প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে। এই পার্টি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী দল গঠন করা, যা গণতান্ত্রিকভাবে দেশের সরকার পরিচালনা করতে পারবে। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জাতির পিতা জিয়াউর রহমান, যিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নায়ক ও পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

BNP এর প্রতিষ্ঠার সময়কাল ছিল দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ নানা রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এই সময় বিএনপি একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

২.২ ১৯৭৫–১৯৯০: রাজনৈতিক কার্যক্রম ও আন্দোলন

BNP প্রতিষ্ঠার পর প্রথমে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে দলের ভিত্তি মজবুত করা হয়। ১৯৭৮ সালে দল সরকারে অংশগ্রহণ শুরু করে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে। ১৯৯০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বিরোধিতা ও গণঅভ্যুত্থান শেষে বিএনপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

২.৩ ক্ষমতায় আসা এবং সরকারী কার্যক্রম

BNP নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় আসে। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি একটি শক্তিশালী জয় লাভ করে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিএনপি অর্থনীতি, শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়।

২.৪ সাম্প্রতিক ইতিহাস (২০১০-এর পর থেকে বর্তমান অবস্থা)

২০১০ সালের পর থেকে BNP বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। দলটি সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে সমালোচনা ও বিতর্কে জড়িয়ে থাকে। বর্তমানে BNP দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে অবস্থিত।


৩. BNP এর মূল নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি

BNP দেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতির ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী পরিচয় তৈরি করেছে। দলটির নীতি মূলত গণতন্ত্র, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা-এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

৩.১ রাজনৈতিক দর্শন

BNP গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অঙ্গীকারবদ্ধ দল। এটি বিশ্বাস করে যে দেশের শাসন ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। দলটি স্বাধীন ও মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের গঠনকে সমর্থন করে এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার উপর জোর দেয়।

৩.২ অর্থনীতি ও সামাজিক নীতি

BNP এর অর্থনৈতিক নীতি মূলত বাজারভিত্তিক। তারা বিশ্বাস করে যে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও ব্যবসায়ের স্বাধীনতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে। সামাজিক নীতির ক্ষেত্রে, দলটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক নিরাপত্তার উপর গুরুত্বারোপ করে।

৩.৩ বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক অবস্থান

BNP বিদেশনীতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেয়। তারা সমঝোতা, কূটনৈতিক সংলাপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে কাজ করে। BBC Bangla এর রিপোর্ট অনুযায়ী BNP প্রায়শই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দেশের কূটনৈতিক নীতি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়।


৪. নেতৃবৃন্দ ও সাংগঠনিক কাঠামো

BNP একটি সুসংগঠিত দল, যার মধ্যে রয়েছে প্রধান কমিটি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি, এবং যুব ও নারী সংগঠন।

৪.১ প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতৃবৃন্দ

  • জাতির পিতা জিয়াউর রহমান – BNP এর প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।

  • বেগম খালেদা জিয়া – দলটির দীর্ঘদিনের সভাপত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

  • বর্তমান সভাপতি ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নাম, দায়িত্ব এবং অবদান।

৪.২ পার্টির প্রধান কমিটি এবং সংগঠন কাঠামো

BNP এর সাংগঠনিক কাঠামো নীচের স্তরগুলিতে বিভক্ত:

  • কেন্দ্রীয় কমিটি: নীতি নির্ধারণ ও বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

  • জেলা ও উপজেলা কমিটি: স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রম পরিচালনা।

  • যুব সংগঠন ও মহিলা দলের নেতৃত্ব: যুব ও নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

৪.৩ নারী ও যুব সংগঠন

BNP নারী ও যুবদের রাজনৈতিক জীবনে সম্পৃক্ত করার জন্য বিশেষ সংগঠন পরিচালনা করে। এই সংগঠনগুলো নারী ও যুবদের নেতৃত্বে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সমাজসেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ায়।

৫. BNP এর রাজনৈতিক কার্যক্রম ও অবদান

BNP বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করছে।

৫.১ নির্বাচনী ইতিহাস

BNP বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং কিছু সময় সরকার গঠন করেছে। উল্লেখযোগ্য নির্বাচন:

  • ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচন – বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।

  • পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও দল গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী হিসেবে থাকে।

৫.২ জনপ্রিয় উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম

BNP শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও অবদান রাখে। যেমন:

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহায়তা।

  • নারী ও শিশু উন্নয়ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ।

  • দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ।

৫.৩ দেশের রাজনৈতিক উন্নয়নে BNP এর অবদান

BNP দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। দলটি আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার ও সরকারি নিয়মকানুনের যথাযথ বাস্তবায়নে অবদান রাখে।


৬. সমালোচনা ও বিতর্ক

BNP ইতিহাসে কিছু বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে গেছে।

৬.১ রাজনৈতিক সমালোচনা

  • বিরোধী দল ও সমালোচকেরা মাঝে মাঝে BNP কে ক্ষমতার জন্য রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে অনিয়মে জড়িত বলে অভিযোগ করে।

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে।

৬.২ বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

BNP কিছু সময়ে রাজনৈতিক আন্দোলন ও হরতাল প্রয়োগের কারণে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। তবে দল মনে করে এটি জনগণের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ।

৬.৩ BNP ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক

BNP দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং বিরোধ উভয় ক্ষেত্রেই জড়িত থাকে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমালোচনা এবং সমঝোতার চক্রান্ত লক্ষ্য করা যায়।


৭. সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রভাব

বর্তমান সময়ে BNP দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

  • নির্বাচনী অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে।

  • সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা এবং জনমত গঠন করে।

  • ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে দলের প্রভাব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

Bangladesh Election Commission অনুসারে, BNP আজও দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।


৮. উপসংহার

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দলটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশকে উন্নয়নের পথে পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে BNP দেশের গণতন্ত্র এবং সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখছে।


রুনা খান: বাংলাদেশী সমাজ উদ্যোক্তা ও মানবিক নেতা | জীবন, অবদান ও পুরস্কার


পরিচিতি

রুনা খান একটি বিশিষ্ট বাংলাদেশী সমাজ উদ্ভাবক (Social Entrepreneur), যিনি মানবিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য নিরসন, জলবায়ু অভিযোজন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সেক্টরে অসাধারণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। তিনি ভার্সেটাইল ব্যক্তি — শিক্ষক, লেখক, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর কাজ শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে। World Economic Forum+1


রুনা খানের প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

রুনা খান বাংলাদেশের একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর শৈশব এবং শিক্ষা জীবনে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও পরিবেশের সাথে পরিচিত হন — যার ফলে তিনি বিভিন্ন দিক থেকে সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা অনুধাবন করতে সক্ষম হন। Dhaka Tribune

তিনি Lady Brabourne College (কলকাতা) থেকে ভূগোল বিষয়ে এবং Eden College (ঢাকা) থেকে মানবিক বিষয়ে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি Harvard Business School থেকে নন‑প্রফিট ব্যবস্থাপনা (Strategic Perspectives in Nonprofit Management) এবং Harvard Kennedy School থেকে নেতৃত্ব ও পরিবর্তনশীল নেতৃত্ব (Leadership for System Change) প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন। Daily Times Of Bangladesh


একজন শিক্ষিকা থেকে সমাজ উদ্যোক্তা: রুনা খানের যাত্রা

শুরুতে রুনা খান একটি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা সাধারণত রটিয়ে পড়াশোনা করে এবং তা ব্যবহার করতে পারে না; তাই তিনি নতুন শিক্ষণ পদ্ধতি চালু করেন, যা সমালোচনামূলক চিন্তা (Critical Thinking) ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করে। Ashoka

শিক্ষাজগৎ থেকে সমাজসেবা করা পর্যন্ত তাঁর যাত্রা ছিল এক দীর্ঘ ও অনুপ্রেরণাদায়ক — যা পরবর্তীতে “Friendship” নামে একটি বৃহৎ সামাজিক প্রতিষ্ঠান তৈরির দিকে নিয়ে যায়। Ashoka


Friendship NGO: দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংকট মোকাবেলায় রাজপথে এক শক্তিশালী নাম

রুনা খান ২০০২ সালে “Friendship” নামক একটি Social Purpose Organization / NGO প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে দূরবর্তী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করা। World Economic Forum+1

Friendship এর মূল কার্যক্রম

Friendship এর দখলে এমন পোর্টফোলিও রয়েছে:

✔️ সারা দেশে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, বিশেষত জোয়ার চরাঞ্চলে ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে। World Economic Forum
✔️ শিক্ষা ও সাক্ষরতা বৃদ্ধির উদ্যোগ। World Economic Forum
✔️ জলবায়ু অভিযোজন (Climate Adaptation) ও দুর্যোগ‑সমন্বিত উন্নয়ন। World Economic Forum
✔️ সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সশক্তি — বিশেষত নারীদের কর্মসংস্থান ও নেতৃত্ব। World Economic Forum
✔️ সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। blueearthsummit.com

এই প্রকল্পগুলি শুধু সমাজপথে সাহায্য করছে না, বরং টেকসই উন্নয়নের (SDG) লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। World Economic Forum


রুনা খানের নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি

রুনা খান তার নেতৃত্বের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত। তিনি:

🔹 Ashoka Fellow (1994) — সামাজিক উদ্ভাবন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। Club of Rome
🔹 Rolex Awards for Enterprise (2006) — উৎকর্ষ সমাজ উদ্যোগের জন্য। Club of Rome
🔹 IDB Women’s Contribution Award (2008) — নারীর উন্নয়নে অবদানের জন্য। Club of Rome
🔹 Schwab Foundation Social Entrepreneur Award (2012)Club of Rome
🔹 Green Award (2016) — পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নে। World Economic Forum

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বোর্ড ও কাউন্সিলের সদস্য, যেমন Global Dignity, British Asian Trust Bangladesh এবং Duke of Edinburgh Award Bangladesh তে অংশগ্রহণ করেন। World Economic Forum


উন্নয়ন লক্ষ্য ও রুনা খানের দর্শন

রুনা খান বলেন, “মানুষ দারিদ্র্য সহ্য করতে পারে, কিন্তু এগিয়ে চলার জন্য মর্যাদা ও আশা থাকা প্রয়োজন।” এই দর্শন তার সমগ্র কর্মজীবনকে প্রভাবিত করেছে। Wikipedia

তার উন্নয়ন মডেল “মানব‑কেন্দ্রিক” এবং “সমন্বিত উন্নয়ন” — অর্থাৎ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অংশগ্রহণ সবকিছু একসঙ্গে করে। Daily Times Of Bangladesh


রুনা খানের সাহিত্য ও প্রকাশনা

রুনা খান একজন প্রকাশক ও লেখকও — তিনি মোট ৮টি বই লিখেছেন, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা সম্পর্কিত পাঠ্যপুস্তক, পঠন উপকরণ ও শিশু গল্প। Wikipedia


রুনা খানের প্রভাব ও আন্তর্জাতিক বক্তৃতা

রুনা খান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রোগ্রামে বক্তৃতা দিয়েছেন, যেমন World Economic Forum ও বিশ্বব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে — যেখানে তিনি সামাজিক উদ্ভাবন, নেতৃত্ব, মূল্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন চিন্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। World Economic Forum


স্থানীয় ও বৈশ্বিক উদ্যোগে রুনা খানের প্রভাব

রুনা খানের নেতৃত্বে Friendship বাংলাদেশতে শুধুমাত্র মানবিক সেবা দেয় না, বরং এটি সম্প্রদায়‑ভিত্তিক পরিবর্তনের নীতি তৈরি করছে। স্থানীয়দের স্ব‑সাহায্য ও টেকসই উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে যা ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক উদাহরণ হতে পারে। blueearthsummit.com


উপসংহার

রুনা খান একজন সত্যিকারের চেঞ্জমেকার (Change Maker) — যিনি শিক্ষামূলক চিন্তা থেকে শুরু করে সমাজসেবার বিস্তৃত পরিবেশের মাঝে মানুষকে সত্ত্বা ও সম্ভাব্য নির্ধারণে সাহায্য করেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মশৈলী বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

রুনা খানের কাজ আমাদের শেখায় — টেকসই উন্নয়ন শুধুমাত্র প্রকল্প নয়; এটি একটি দর্শন, মূল্য ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে আসে।


সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)


রুনা খান কে?

রুনা খান একজন বাংলাদেশী সমাজ উদ্যোক্তা, সমাজসেবী ও শিক্ষা এবং দারিদ্র্য নিরসনে কাজ করা বিশিষ্ট ব্যক্তি। তিনি Friendship NGO প্রতিষ্ঠা করেছেন।



Friendship NGO কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?


Friendship NGO ২০০২ সালে রুনা খান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়।

রুনা খান কী ধরনের স্বীকৃতি পেয়েছেন?

তিনি Ashoka Fellow, Rolex Laureate, Schwab Foundation Award প্রাপ্ত ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত।



রুনা খানের মূল লক্ষ্য কি?

তাঁর লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় মানব‑কেন্দ্রিক, সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো।



তিনি কি বই লিখেছেন?

হ্যাঁ, রুনা খান শিক্ষা ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন বই লিখেছেন — মোট আটটি প্রকাশনা রয়েছে।



মহান বিজয় দিবস আজ

 

বিজয়ের এই দিনে একাত্তরের সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতি। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পতাকা ও ফুল হাতে নামবে অগণিত মানুষের ঢাল     বিজয়ের এই দিনে একাত্তরের সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতি।          সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পতাকা ও ফুল হাতে নামবে অগণিত মানুষের          ঢালছবি: বাসস

আজ লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করার দিন। আজ সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। সাধারণত বিজয়ী হওয়া আনন্দের। তবে মরণপণ করে সশস্ত্র যুদ্ধে শত্রুকে পরাজিত করে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের যে বিজয়, তার কোনো তুলনা নেই। আজ জাতির জন্য চিরগৌরবময় অবিস্মরণীয় এক দিন। স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙালির আত্মপ্রকাশ ও পৃথিবীর মানচিত্রে সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের আলোকোজ্জ্বল দিন আজ।

তবে একই সঙ্গে দিনটি গভীর বেদনারও। দেশ-জাতিকে পরাধীনতার নিগড়মুক্ত করতে অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা। অগণিত মা-বোন তাঁদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। জানমালের ক্ষতি হয়েছে অপরিমেয়। কৃতজ্ঞ জাতি আজ এই বিজয়ের আনন্দের দিনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে আত্মদানকারী সেই শহীদদের। স্মরণ করবে সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

Telegram Channel Join Now

আজ রাজধানীসহ সারা দেশের সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার, জাতীয় পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন করবে। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পতাকা ও ফুল হাতে নামবে অগণিত মানুষের ঢাল।

বাসস জানায়, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের আত্মার চিরশান্তি কামনা করেছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘আসুন ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রাখি।’

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘দেশকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল ভোগ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিজয় দিবস কেবল আমাদের গর্বের উৎস নয়, এটি আমাদের শপথের দিনও। শপথ আমাদের একতাবদ্ধ থাকার, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার।’

১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন: তারেক রহমান

 

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ হওয়া সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পরে জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। আমি এদিনে দেশবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানাই শুভেচ্ছা। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ভরে উঠুক তাদের জীবন। এই দিনে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমি স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। বিদেশি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন- আমি জানাই তাদের সশ্রদ্ধ সালাম।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া স্বাধীনতাযুদ্ধ ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়, পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে। দেশের অদম্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজী রেখে এ বিজয় ছিনিয়ে আনে। তাই ১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন। আজকের এ মহান দিনে আমি সেসব বীর সেনাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই।’

Telegram Channel Join Now

তিনি বলেন, ‘শোষণমুক্ত ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক গণতান্ত্রিক নীতিমালার ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ছিল নতুন রাষ্ট্রের মর্মমূলে। কিন্তু অমানবিক ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বারবার সেই প্রত্যয়কে মাটিচাপা দিয়ে সর্বনাশা দুঃশাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়। থামিয়ে দেয় বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা।’

১৯৭১-এ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্তকারীদের নীলনকশা এখনও চলমান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগ্রাসী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অবজ্ঞা করার ঔদ্ধত্য দেখায়। ওই অপশক্তির এদেশীয় এজেন্টরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন করার চক্রান্তজাল বুনে চলেছে। এরা ১৬ গত বছর ধরে একের পর এক প্রহসনের একতরফা নির্বাচন করে জনমতকে তাচ্ছিল্য করেছে। এদেশের মানুষের সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়। নাগরিক স্বাধীনতা অদৃশ্য করে মানুষকে করে অধিকারহারা। এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিরুদ্দেশ করা হয়। নিরুদ্দেশ করা হয় সংবাদপত্রসহ বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা। গণতন্ত্রহীন দেশে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপটে সর্বত্র হতাশা, ভয় আর নৈরাজ্যের অন্ধকার নেমে আসে। ক্ষমতা জবরদখলকারীরা জনগণের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে অদৃশ্য ও হত্যা করে এবং লাখ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর নৈরাজ্যময় হয়ে উঠে। যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সেই অবিসংবাদিত নেত্রীকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে অন্ধকার কারাগারে রাখা হয়েছিল। অমানবিক নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য একের পর এক গণবিরোধী পদক্ষেপ নিতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে মহান বিজয় দিবসের প্রেরণায় বলীয়ান হয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে এবং ২৪ এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার দুনিয়া-কাঁপানো আন্দোলনে তারা পরাজিত হয়। পতন হয় ইতিহাসের এক নিষ্ঠুরতম একনায়কের। দেশে আবার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা জেগে উঠে। এই মুহূর্তে নির্বিঘ্নে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য এই বিজয়ের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক-আমরা বিভাজন ভুলে, হিংসা ভুলে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকবো। মহান বিজয় দিবসে আমি দেশবাসী সকলের প্রতি সেই আহবান জানাই। বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।’