# a b c d e f g h i j k l m n o p q r s t u v w x y z
বিখ্যাত ও জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের লিংক সব একসাথে

বিখ্যাত ও জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের লিংক সব একসাথে

  ১. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় - উপন্যাস - গল্প - দিনলিপি - অন্যান্য ২. সত্যজিৎ রায় ৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৪. হুমায়ূন আহমেদ - হিমু সমগ্র - মিসির আলী সমগ্র - শুভ্র - গল্পসমগ্র - উপন্যাস - আত্মজৈবনিক রচনা - সায়েন্স ফিকশন সমগ্র - ছোটদের জন্য লেখা - অন্যান্য ৫. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় - উপন্যাস - নাটক - প্রবন্ধ ৬. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - টাইম ট্রিলজি - কাকাবাবু সমগ্র - কবিতা সমগ্র - নীললোহিত সমগ্র - পায়ের তলায় সর্ষে - অন্যান্য ৭. সুকুমার রায় ৮. কাজী নজরুল ইসলাম ৯. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন - রবীন্দ্রনাথ সিরিজ - বেগ বাস্টার্ড সিরিজ ১০. ড্যান ব্রাউন (Dan Brown) - রবার্ট ল্যাংডন সিরিজ (বাংলা) - Robert Langdon Series (English) ১১. হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড - অ্যালান কোয়াটারমেইন সিরিজ - শী / আয়েশা - অ্যালান এবং শী - অন্যান্য ১২. সৈয়দ মুজতবা আলী - রচনাবলী ১৩. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় - রচনাসমগ্র ১৪. J.R.R. Tolkien - The Hobbit - LOTR Trilogy ১৫. ওবায়েদ হক ১৬. George Orwell ১৭. আহমদ ছফা ১৮. Alexandre Dumas ১৯. Stephen King ২০. দিবাকর দাস ২১. শিবব্রত বর্মন ২২. কৌশিক মজুমদার ২২. সায়ক আমান ২৩. Paulo Coelho (পাওলো কোয়েলহো) - বাংলা - English ২৪. শহীদুল জহির ২৫. Rudyard Kipling ২৬. জীবনানন্দ দাশ ২৭. মুহাম্মদ আলমগীর তৈমুর ২৮. সাদাত হোসাইন ২৯. Nick Pirog - হেনরি বিনস (বাংলা) - Henry Bins (English) - Others ৩০. Dr. Muhammad Yunus ৩১. সমরেশ মজুমদার ৩২. তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৩. Haruki Murakami - Novels - Non-fictions - Short stories - বাংলায় মুরাকামি ৩৪. শাহাদুজ্জামান ৩৫. হেলাল হাফিজ ৩৬. জসিমউদদীন ৩৭. সুকান্ত ভট্টাচার্য ৩৮. Franz Kafka - বাংলায় ৩৯. আরিফ আজাদ Science related 1. Stephen Hawking 2. Carl Sagan 3. Neil deGrasse Tyson 4. Richard Feynman 5. Jamal Nazrul Islam (জামাল নজরুল ইসলাম) প্রসঙ্গ বাংলাদেশ : রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধ (ফিকশন ও নন-ফিকশন) ইসলামিক কর্ণার ১. কাসাসুল কুরআন ২. নবীদের কাহিনী ৩. সীরাহ ৪. আর রাহীকুল মাখতূম ৫. ইসলামি ইতিহাস: সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ (৫ খন্ড) - ড. রাগিব সারজানি Manga and Comics 1. Vinland Saga 2. নারায়ণ দেবনাথ কমিকস

বই সংগ্রহই তাদের নেশা!

 জাপানিজ ভাষায় না পড়ে বই জমানোর এই অভ্যাসকে বলা হয় সুনডোকু (Tsundoku)। সুনডোকুতে আক্রান্ত মানুষ বই কিনতে কিনতে একপর্যায়ে বই জমানোর দিকেই আগ্রহ খুঁজে পান। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু তাদের বাড়িতে বইয়ের বিশাল সংগ্রহ দেখে বড় হয়, তাদের মধ্যেও আপনাআপনি বই পড়ার প্রবণতা চলে আসে।


অনেক দুর্লভ কমিক সিরিজ মিলবে জুনাইদের লাইব্রেরিতে/ সৌজন্যে প্রাপ্ত ছবি

বই পড়লেই যে তা সবার সংগ্রহে থাকবে, এমনটা একেবারেই নয়। মার্ক টোয়েনের বই স্তূপ হয়ে থাকতো। কিন্তু এর বেশিরভাগই তার বন্ধুদের থেকে ধার করা বই। অবশ্য সেসব ধার করা বই দিয়েই তার বিশাল লাইব্রেরি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু অনেকে আছেন, বই পড়লেও যাদের সংগ্রহ নেই। তারা হয়তো ধার করে বা হালের যুগে অনলাইনেই বই পড়ছেন। অনেকে আবার পড়ার পর বিক্রিও করে দিচ্ছেন।

তবে বই যারা সংগ্রহ করেন, তাদের কাছে বই পড়া বাদেও, বই সংগ্রহ করা আলাদা একটি নেশা। এই নেশা একপর্যায়ে বই পড়াকে ছাড়িয়ে যায়। অর্থাৎ, বই হয়তো তারা নিয়মিত পড়ছেন না, কিন্তু কিনছেন ঠিকই। মাসে হয়তো এক কি দু বার বই হাতে নিচ্ছেন। অথচ নতুন বই একদিনে বিশটা কিনে ফেলতেও দ্বিধা করছেন না!

কারণ ঐ যে, বই পড়ি বা না পড়ি, সংগ্রহ করা চাই। নতুন বা আকর্ষণীয় বই দেখলেই সেটা নিজের করে নেওয়া চাই!

আজ এমনি কয়েকজন বইপ্রেমীদের কথা বলবো। যারা শুধু বই পড়েইনি, সেইসাথে তাদের বইয়ের সংগ্রহও বিশাল। তবে, এখন তারা যতটা না পড়েন, তারচেয়ে বেশি কেনেন।

বই পড়ার সময় ডায়েরী কলম নিয়ে বসেন তিনি

বই সংগ্রহকারীদের একজন হাসান শিবলী। পাঁচ বছর বয়স থেকেই জানালার গ্রিল দিয়ে বেয়ে পুরোনো পত্রিকাগুলো আলমারির উপর থেকে নামিয়ে পড়তেন তিনি। একটু বড় হয়ে ক্লাস টু-থ্রিতে থাকার সময়ই ফাইভ সিক্সের বাংলা বইয়ের সব গল্প পড়া শেষ তার। ছোট থেকেই বই পড়ার বেলায় কোনো বাছ বিচার করতে যাননা তিনি। সামনে যা পান, পড়ে ফেলেন। এই তো একবার নীলক্ষেতে ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখলেন, 'এনসাইক্লোপিডিয়া স্টুপিডিটি'। মানুষ কতরকম বোকামো করতে পারে তার একটি সংগ্রহ। খুব মজা পেলেন বইটা পড়ে। অন্য আর দশটা সাধারণ মানুষের এসব অদ্ভুত বইগুলোর প্রতি আগ্রহ না থাকলেও, শিবলী ঠিকই পড়ে মজা পান। যাবতীয় নতুন জিনিস জানায় তার সর্বদা আগ্রহ। তা সে যে বিষয়ই হোক না কেন। তবে হ্যাঁ, ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় শীর্ষে  আছে উপন্যাস, কবিতা আর প্রবন্ধ।

পরিবারের সবার ভাগ মিলিয়ে এখন প্রায় পনেরো হাজার বই আছে শিবলির সংগ্রহে। বইও যে সংগ্রহের বিষয় তা বাবার থেকেই শেখা তার। তাই যেমন পড়ার জন্য কিনেছেন, তেমন সংগ্রহের জন্যও কিনেছেন। তবে এই যে বিশাল বইয়ের সমাহার, এত বই কি তার পড়া হয়েছে?

উত্তরে জানান, 'আমার সংগ্রহে প্রায় হাজারখানেক উপন্যাস আছে, কিন্তু পড়া হয়তো হয়েছে একশোটা।'


বাবার বাসা, ভাইয়ের বাসা, নিজের বাসা, তিন বাসা মিলিয়ে হাসান শিবলীর লাইব্রেরি/ ছবি সৌজন্যে প্রাপ্ত

মূলত ব্যস্ততা, পরিবার সবকিছুর পর সময়টা বের করা মাঝে মাঝে কঠিন। আর লেগে থাকার ধৈর্য্যটাও কমে গেছে। এখন আর একটা বই পড়ে শেষ করে, আরেকটা বইয়ে হাত দেওয়া হয়না। বরং একসাথে তিন চারটা বই নিয়েই বসা হয়। এতে সময় লেগে যায় অনেক বেশি। পড়াও হয় কম।

তবে বই পড়ার অভ্যেস তার অন্য সবার মতো না। আগের তুলনায় এখন অনেক কম বই পড়া হলেও বই পড়ার ধরনে আসেনি কোনো হেলাফেলা।

জাপানিজ চলচ্চিত্র নির্মাতা আকিরা কুরোসাওয়া একবার বলেছিলেন, বই পড়তে দরকার কাগজ আর কলম; যেন সব টুকে ফেলা যায়। শিবলীও তা-ই করেন। সবসময় কাগজ আর কলম রাখেন বই পড়ার সময়। যেন প্রয়োজনীয় তথ্য টুকে ফেলতে পারেন। যা পড়েন, দরকারি বা পছন্দের লাইনগুলো টুকে ফেলেন। এখন নিজের গবেষণার কাজেই এই টুকে রাখা ডায়েরী থেকে টুকটাক তথ্য নিতে পারছেন।

তবে, বইয়ের সংখ্যা এত বেশি হয়ে যাওয়ায় এগুলোর যত্নআত্তি নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে এখন। না হয় বই পড়া, না হয় বইগুলোর যত্ন নেওয়া। ঘরভর্তি বইয়ের ভিড়ে মাঝে মাঝে গঞ্জনাও শুনতে হয়। কিন্তু তাতে শিবলী থেমে নেই।

বই কেনার অভ্যেস এখনো চলমান। এতটুকু চিড় ধরতে দেননি তাতে। রাস্তায়, মাঠে-ঘাটে কোনো বই পছন্দ হলেই কিনে ফেলেন। একসাথে ৩০টা বই কেনার রেকর্ডও আছে তার। তবে এখন নাকি আর সব একসাথে নিয়ে ঘরে ঢোকেন না। পাছে বকা খেতে হয়! তাই বেশি বই হয়ে গেলে অফিসে নিয়ে যান। এরপর প্রতিদিন একটা দুটা করে বাসায় নিয়ে ঢোকেন…

পড়ার চেয়েও বিভিন্ন এডিশন, প্রচ্ছদ সংগ্রহে রাখাই যখন নেশা

শিবলীর মতো কোথাও কোনো বই পছন্দ হলেই কিনে ফেলেন জুনাইদ। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে শিক্ষকতা করছেন।  

ছোটোবেলায় দাদু গল্প পড়ে শোনাতেন। মুখে মুখে শুনেই ঠাকুমার ঝুলি, বিভিন্ন বাচ্চাদের বই, এডভেঞ্জারের গল্পগুলো জানা হয়ে গিয়েছিল জুনাইদের। তখন থেকেই গল্পের প্রতি এক আগ্রহ তৈরি হয়। এছাড়া বাসার সবাই অল্পবিস্তর বই পড়তেন। কেজি টুতে পড়ার সময় থেকেই বই পড়ার অভ্যেস। ছাত্র থাকাকালীন নিউমার্কেট থেকে বই কিনতেন, আবার পুরোনো কিনতে হলে অন্যদের মতো নীলক্ষেতে ঢুঁ মারতেন।

এখন বেশি কেনা হয় অনলাইনেই। কোনো এক লেখককে ধরে তার সবগুলো বই সংগ্রহ করতে চেষ্টা করতেন। ক্লাস এইটে থাকতেই তিন গোয়েন্দা, অনুবাদ, সেবা প্রকাশনীর বই, হুমায়ূন আহমেদের বইগুলো পড়া হয়ে যায় তার। কমিক বইয়ের প্রতি একটা ঝোঁক ছিল ছোটোবেলা থেকেই। খুব বেশিনা, তবে খুব দুর্লভ কিছু সংগ্রহ তার রয়েছে। যেমন- ওলভেরাইন, অ্যালেন মুরের মিরাকেলম্যান, ব্রায়ান মিশেলের ডেয়ারডেভিল, ব্যাটম্যান ভার্সেস প্রিডেটর, সোয়াম্প থিং, নিউ এক্সমেনের সম্পূর্ণ সিরিজ তো আছেই। সাথে ক্যাপ্টেন আমেরিকা, ব্যাটম্যান, দ্যা ভ্যাম্পায়ার ক্রনিকেলস, স্পাইডারম্যান এন্ড ওলভেরাইনের মতো বিখ্যাত কিছু কমিকের প্রথম এডিশন তার আছে। তাছাড়া স্টিফেন কিংয়ের যে বিশাল সংগ্রহ তার আছে, তা এই দক্ষিণ এশিয়ায় খুব কম জনের কাছেই আছে বলে জুনাইদের বিশ্বাস।


অর্ধেক বই বিক্রি করে দিয়েছেন আশরাফুল আলম/ সৌজন্যে প্রাপ্ত ছবি

আগে যেখানে মাসে তিন চারটে বই পড়তেন। এখন মাসে তিনশো পৃষ্ঠার বইও পড়া হয় না। এটা অনেকটাই কমেছে ব্যস্ততার কারণে। তবে, বই শুধু পড়ার জন্যই কিনতেন না তিনি। বইয়ের যত্ন নিতেও ভালোবাসতেন। সেই কেজি টু থেকেই বইয়ের ব্যাপারে খুব যত্নশীল জুনাইদ। একদম যেখান থেকে বই বের করতেন, সেখানেই উঠিয়ে রাখতেন তিনি।

এখন বই পড়া না হলেও, এত সুন্দর সাজানো গোছানো আলমারি ভর্তি বই দেখলেই একটা গর্ব কাজ করে মনে মনে। বই পড়া হোক বা হোক, বই সংগ্রহ এখনো চলছে। একই বই নতুন প্রচ্ছদে এলে, বইয়ের কভার বা বিশেষ কোনো এডিশন ভালো লাগলেই কিনে ফেলেন তিনি। একইসাথে এত দুর্লভ এডিশন এবং সুন্দর প্রচ্ছদের এত দারুণ সংগ্রহ থাকায় নিজেকে ভাগ্যবানও মনে করেন জুনাইদ। শোপিস বা আর্ট দিয়ে যেমন মানুষ ঘর সাজায়, জুনাইদের কাছে বইও হলো তেমন এক অনুষঙ্গ।   

'তুমি বই নিয়ে বাসায় চলে যাও'

জুনাঈদের মতো বই সাজানোর পেছনে এত শক্তি সময় দেন না শামসুল আলম (৬৭)। আগে যখন শক্তি ছিল, বয়স ছিল নিজ হাতে যত্ন করতেন ঠিকই।  কিন্তু এখন আর সে শক্তি, ইচ্ছে হয়না তার। বইগুলো একপ্রকার স্তূপ আকারেই রাখা তার বাসায়। বসার ঘর, শোবার ঘর ঘরের প্রায় সবখানেই তার বইয়ের সমাহার। আলমারি, মাটি সবেতেই বইয়ের ছড়াছড়ি। প্রায় আট দশ হাজার বই পাওয়া যাবে তার সংগ্রহে।

শামসুল আলমকে সবাই স্যার হিসেবেই চেনে। ঢাকা সিটি কলেজে ইংরেজির অধ্যাপক। একবছর হবে অবসর নিয়েছেন। ঢাকার নিউমার্কেটের আশেপাশেই থাকেন। কিন্তু শামসুলের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা একদমই অজপাড়াগ্রামে। ফলে বই পড়ার অভ্যাস এবং কেনার মতো সুযোগ, কোনোটাই সেখানে ছিল না। তবে স্কুলের লাইব্রেরি ঘরটা তাকে টানতো। কতশত বই রাখা সেখানে! কিন্তু সাহস হতো না ওখানে গিয়ে বইগুলোতে হাত দেওয়ার। ক্লাস সিক্সে ওঠার পর সে সুযোগ হয়। লাইব্রেরি কার্ডের সুবাদে শুরু হয় লাইব্রেরিতে বসে বসে পড়া। তার আগ্রহ দেখে লাইব্রেরিয়ানও তাকে ব্যাগ ভরে বই দিয়ে দিত। যেন বাসায় গিয়ে পড়তে পারে।

বড় হয়েও এই লাইব্রেরিতে পড়ার অভ্যাস তার যায়নি। সাহিত্যের প্রতি ভালো লাগা তো ছোটো থেকেই ছিল। এরপর সাহিত্য নিয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় শামসুলের যেন ষোলোকলা পূর্ণ হলো। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে ভর্তি হন। সেখানে তার রুমমেট সারাদিন পড়ার বই মুখস্থ করতেন, আর শামসুল আলম মেতে থাকতেন সাহিত্য নিয়ে। প্রতিদিন ক্লাস শেষ হওয়ার পর লাইব্রেরিতে গিয়ে বসে থাকতেন। মাঝে মাঝে লাইব্রেরিয়ানও বিরক্ত হয়ে বলতো, 'তুমি বই নিয়ে বাসায় চলে যাও'।  

গ্রামে থাকায় বই কিনে পড়ার অভ্যাসটা তেমন তৈরি হয়নি। বই কিনে পড়া শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে। বই কেনার সাথে শুরু হয় নীলক্ষেত ঘিরে আড্ডাও। সময়টা তখন ৭৬ সালের শেষদিকে। নীলক্ষেতে একদিন ফুটপাতে পেয়ে গেলেন গ্যে রোক্সেনের 'হাংগার' বইটি। একাডেমিকের বাইরে ইংরেজি বইয়ের সাথে তার সখ্যতা শুরু হয় এ বই দিয়েই। কেননা মফস্বলে ইংরেজি বই তেমন পাওয়া যেত না।  

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে প্রথম দু বছর মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। এরপর এসে যোগ দেন ঢাকা সিটি কলেজে। কলেজের কাছেই বাসা নিয়ে নেন। ফলে নীলক্ষেত আর নিউমার্কেট এসে পড়ে হাতে কাছেই। পুরোনো বই কিনলে নীলক্ষেত আর নতুন বই কিনলে নিউমার্কেট।  

কিন্তু সামান্য শিক্ষকতা দিয়ে সংসার খরচ চলতো না। তাই বাসায় ব্যাচ পড়াতেন। প্রতিদিন কলেজ শেষে বাসায় যাবার সময় একবার ঢুঁ মেরে যেতেন নীলক্ষেত, আবার ব্যাচ পড়ানো শেষে সন্ধ্যায় আরেকবার আসতেন। দোকানদাররাও চিনতেন তাকে। তার পছন্দের বই আসলে উঠিয়ে রাখতেন। 'স্যার এসে কিনবে'। দামাদামিও চলতো না।

'শামসুল স্যারের' বইয়ের ভাণ্ডার/ সৌজন্যে প্রাপ্ত ছবি

শুধু কি বই কেনা? আড্ডাও চলতো দেদারসে। মহাদেব সাহা, অসীম সাহা, আহমেদ ছফা, নির্মলেন্দু গুণ, রফিক আজাদ আর তরুণদের মধ্যে রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, তসলিমা নাসরিন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ ব্যক্তিরা থাকতেন এই আড্ডায়। তবে অন্যদের তুলনায় শামসুল আলমের আড্ডায় অংশগ্রহণ কম ছিল। যখন অন্যরা বই কিনে আড্ডা দিত, একে অপরের বই নিয়ে আলোচনা করত, শামসুল তখন নীলক্ষেতের এ মাথা থেকে ও মাথা শুঁকে বেড়াতেন বইয়ের গন্ধ। আর দেখতেন নতুন কী কী বই আসলো, কোথায় কত পুরাতন বইয়ের এডিশন এসেছে। গোটা নীলক্ষেত ছিল তার নখদর্পণে।

কবিদের সাথে আড্ডাই না কেবল, নিজেও কবিতা লিখতেন বিভিন্ন ম্যাগাজিনে। ছদ্মনাম ছিল দীপঙ্কর মাহমুদ। পরে বইও লিখেছেন একটা। 'বজ্রের ফুল, ফুলের শিশির' ছিল বইটির নাম। এখন কবিতা লেখা একদম আর হয়না। তবে কবিতা পড়া হয় টুকটাক। হাতের কাছে কবিতার বইটুকু রাখেন। শরীর স্বাস্থ্যের অবনতির ফলে বই কেনাও যেমন কমে গেছে, পড়াও কমে গেছে।

কিন্তু একসময় বই কেনার জন্য টাকা উপার্জনও করতে হয়েছে। ব্যাচ পড়িয়ে পড়িয়ে স্বচ্ছলতা কিছুটা এসেছিল। কিন্তু সে স্বচ্ছলতা বাড়ি, গাড়ি বা অন্য কোনো বিলাসের পেছনে ব্যয় করতে দেননি। তিনি বলেন, 'আমার অন্য কলিগরা, বন্ধুবান্ধবরা কিনেছে বাড়ি গাড়ি, আর আমি কিনেছি বই, শুধুই বই।'

একদিকে বই বিক্রি, অন্যদিকে বই খরিদ

'যতবার কেউ নোবেল পুরস্কার পায়, দেখা যায় তার কোনো না কোনো বই আশরাফুল ভাই নিজেই বের করে দেখান।' আশরাফুল আলমকে নিয়ে এই জনশ্রুতি তার পরিচিতদের মধ্যে পাওয়া যায়। বিদেশি সাহিত্য, বিশেষত লাতিন আমেরিকান, ফ্রেঞ্চ, ইংলিশ, জার্মান, পোলিশ (পোল্যান্ড এর) বইগুলো তার বেশি পড়া হয়।  

ক্লাস থ্রি থেকেই বই পড়েন। তবে পার্থক্য হলো, তখন গল্পের বই পড়তেন আর এখন সব পড়েন। তবে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বই পড়া এবং দেখভাল করা দুটোতেই এসেছে বিদায়ের হাতছানি। প্রায় দশ হাজার বইয়ের সংগ্রহ থেকে গত দুই বছরে তিনি অর্ধেকেরও বেশি বই বিক্রি করে দিয়েছেন। এই বইগুলো পড়ারও কেউ নেই, আগেরমতো যত্ন নেওয়ারও কেউ নেই। পড়া হয়না বলে বইগুলো কিছুটা বোঝার মতোই ঠেকছে এখন। এমনকি হুট করে যদি কোনো বই পড়তে ইচ্ছে হয়, খুঁজে বের করাও মাঝে মাঝে দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। তাই বইগুলোকে এখন একটা সুব্যবস্থা করে দিয়ে যেতে চান।

একাডেমিক কাজে অনেকেই এসে বই নিয়ে যান। তবে এমন করে অনেক বই-ই হারিয়েছে তার। তাই সহসা বই কাউকে আর দিতে চান না। আর নিজের দুর্লভ সংগ্রহের ওপর কারও নজরও লাগতে দেন না!

আশরাফুল আলমের সংগ্রহ/ সৌজন্যে প্রাপ্ত ছবি

বই নিয়ে আশরাফুল আলম বরাবরই বেশ দখলদারী মনোভাবের ছিলেন। এখনো তাই। নিজের বয়স এবং শারীরিকভাবে এত অসুস্থতার পরও কোনো ছাড় দেননি বইয়ের ব্যাপারে। এখন আর নীলক্ষেতে আড্ডা হয়না, পল্টন, বিজয়নগর, সদরঘাট থেকে বই কেনাও হয়না। যতটা কেনা হয় তা আমাজন বা বইয়ের জাহাজের মতো অনলাইন ভিত্তিক দোকানগুলো থেকেই। আর বই পড়া তো আরও কমেছে। কিন্তু এখনো বই দেখলে বই কেনার লোভ সামলাতে পারেন না আশরাফুল আলম। এতদিনের অভ্যেস তো এত সহজেই যাবেনা। তাই পড়া হোক বা না হোক বই দেখলেই কিনে ফেলেন।

কিন্তু একইসাথে বইগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবনা চিন্তা করছেন। এত বছরের এই বিশাল সংগ্রহের ওপর মায়া পড়ে গেছে আশরাফুল আলমের। এই বিশাল লাইব্রেরি তো একদিনে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে দিতে হয়েছে বহু শ্রম, বহু সময় আর সেই সঙ্গে ঢালতে হয়েছে বিপুল অর্থ।

লাইব্রেরির ৪০শতাংশ বই পড়া বাকি…

অবসর সময়ে মাকে ঘরে বসে পড়তে দেখতেন সাকু চৌধুরী। পাড়ার লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে এসে মা বই পড়তেন, বেগম-উদয়নের মতো বিভিন্ন পত্রিকা- ম্যাগাজিনগুলো আসতো তার মায়ের কাছেই। অন্যদিকে বাবা জড়িত ছিলেন বাম রাজনীতির সাথে। তার হাতেও দেখতেন সবসময় বই। বাবা মায়ের মতোই ছোটো থেকে বই তিনি কাছে পেয়েছেন সবসময়।

মধ্যবিত্ত পরিবার, খুব একটা স্বচ্ছলতা ছিল না। শখ বলতে ছিল শুধুই 'বই পড়া'। বাড়িতে শৌখিন বস্তু বলতেও কেবল বই।

ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে বই কিনতে যেতেন। এরপর একটু বড় হলে নিজেই টাকা জমিয়ে কিনতেন বই। প্রতিদিন কলেজে না ঢুকলেও নীলক্ষেতে ঢুকতেন ঠিকই। বাড়িতে বই পড়া নিয়ে উৎসাহ দেওয়া হলেও, বইয়ের খরচ যোগাড় করতে বেগ পেতে হতো অনেক। তাই টিফিনের টাকা, খরচের টাকা থেকে জমিয়ে জমিয়ে কিনতেন বই। যেমন, চৌরঙ্গী বইটি কেনার সময় এক সপ্তাহ নাকি স্কুলে যাননি সাকু।

বইয়ের প্রতি তার এই লোভ একদম ছোটোবেলা থেকেই। তখন ১৯৯০ সাল। সোভিয়েত থেকে বই আসা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই রুশ বইগুলো সব অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে টিএসসির শিবমন্দিরে। মূল বইয়ের গায়ে লিখে রাখা হয়েছে বইয়ের অর্ধেক দাম। অর্ধেক দামে বই বিক্রি হলেও, সাকু চৌধুরীর কাছে সব মিলিয়ে একশো টাকাও নেই। সে লক্ষ্য করলো, প্রতিটি বইয়ের গায়ে পেন্সিল দিয়ে দাম লেখা রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মাথায় এলো দুষ্টু বুদ্ধি। এক মিনিট ভাবলেন; যদি বইগুলোর দাম রাবার দিয়ে মুছে কমিয়ে লেখা যায়, তবে অনেকগুলো বই-ই তিনি কিনতে পারবেন।   

সে অনুযায়ী কাজও সেরে ফেললো সাকু। বইয়ে লেখা দাম মুছে তাতে বসিয়ে দিলো নতুন দাম। বই বিক্রেতা তো মাথায় হাত, বইগুলোর দাম এত কম কেন?

কিন্তু কী আর করা। দাম যেহেতু লেখা, সুতরাং এই দামেই দিতে হবে। এভাবে ১৫-২০টার মতো বই নিজের ঝোলায় ঢুকিয়ে নিলেন সাকু চৌধুরী।

পরের দিন সেখানে গিয়ে সাকু দেখেন, বইয়ের ওপর দামগুলো সব কলমেই লিখে রাখা। বুঝলেন, চোরকে ধরতে না পারলেও, চুরিবিদ্যা ধরা পড়েছে ঠিকই। তাতে কি! নিজের যা যা পছন্দের ছিল, সবই তো আছে সেই ঝোলায়।  

রুশ বইয়ের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মেছিল বাবার বদৌলতে। তখন তো ঢাকায় সোভিয়েত বইয়ের যুগ। ফলে বামপন্থী পার্টি অফিসগুলোতেও আসতো অনেক ধরনের রুশ বই। বাবা বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেই বইগুলো পড়ার সুযোগ হতো সাকুর। বাসাতেও ছিল রুশ বইয়ের বিশাল সংগ্রহ।

সে বইয়ের ভাণ্ডার আজ প্রায় সাড়ে তিন বা চার হাজার ছুঁইছুঁই। বই পড়ার নেশা এবং কেনার নেশা কোনোটাকেই বাদ দিতে পারেননি। তবে আগে বইয়ের পৃষ্ঠা, প্রচ্ছদ এসব নিয়ে মাথা ঘামাতেন না, কিনতে পারলেই হতো তার। এখন এদিকে কোনো ছাড় দেন না। একদম অরিজিনাল বই চাই তার। নতুন বই আগুনে সেঁকে নিয়ে, তাতে ওষুধ দিয়ে প্রতিটি বই পলি করে আলমারিতে তুলে রাখেন তিনি। আবার প্রতি মাসে একবার পরিস্কার করে নেন তাকগুলো। বইয়ের যত্নে হেলাফেলা করেন না কখনোই।

বইয়ের নিয়মিত যত্ন নেন সাকু চৌধুরী/ সৌজন্যে প্রাপ্ত ছবি

পড়ার চেয়ে বই কেনা যেন বেড়ে গেছে বহুগুণ…

বাসায় যেহেতু বইচর্চার বিষয়টি তেমন ছিল না, তাই বই কিনতে কিছুটা বেগ পেতেই হতো মেহেদীকে। স্কুলে যাওয়া আসার টাকা জমিয়ে, জন্মদিন বা ঈদে বাবা মায়ের কাছে বই আবদার করতেন তিনি।

কলেজে থাকাকালীন প্রায়সময় কোচিং বাদ দিয়ে রাজশাহী নিউ মার্কেটের ভিতরে এক কোণায় বসে বই গিলতেন মেহেদী। একবার সোফির জগত বইটা নিয়ে পড়ছেন সে কোণায় বসে বসে, একজন এসে বলল, 'এখানে বসে বই পড়ো কেন, এখানে তো বসে বসে প্রেম করে সবাই।'

আরেকবার শীর্ষেন্দুর পার্থিব বইটি কিনে রাস্তা দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। নতুন বইটা পড়ার প্রতি এতই তীব্র লোভ হচ্ছিল যে, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই বই পড়া শুরু করে দিয়েছিলেন। হুট করে একজন আগন্তুক এসে বললেন, 'পার্থিব? এটা শেষ হলে দূরবীন আর মানবজমিনটাও পড়বে। খুব ভালো লাগবে।' এই দুটো ঘটনা আজও মনে হলে অবাক লাগে মেহেদীর।   

তখন থেকেই সমগ্র বা পুরো রচনাবলী কেনার একটা প্রবণতা চলে এসেছে তার মধ্যে। দেরি করে হলেও, তিনি টাকা জমিয়ে ঠিকই পুরো সমগ্র কিনে ফেলতেন। প্রথম টাকা জমিয়ে কিনেছিলেন মানিক রচনাবলী। বিশ্বভারতীর ১৮ খণ্ড রবীন্দ্র রচনাবলী পুরোটাই তার আছে। বাংলা সাহিত্যিকদের প্রায় ভালোরকম অখণ্ড সংগ্রহ পাওয়া যাবে তার কাছে।

আলমারি ভর্তি বই দেখতে খুব ভালো লাগে মেহেদীর/ ছবি সৌজন্যে প্রাপ্ত

বর্তমানে এই কেনাকাটার হার যেন বেড়ে গেছে বহুগুণ। দেখা যায়, নিজের কোনো বই কিনতে ইচ্ছে হলে সেটা মেয়েকে উপহার দেওয়ার নাম করে কিনে ফেলেন। যেমন একবার তিন বছর বয়সী মেয়েকে জন্মদিনে উপহার দিয়েছিলেন পুরো টিনটিন সমগ্র। আসলে তো মেয়ে না, নিজের জন্যই কিনেছেন তিনি সমগ্রটা! ছোটোবেলায় ইচ্ছে থাকলেও টাকার অভাবে কিনতে পারেননি। তাই মেয়েকে এই উপহার। আবার প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীকে উপহার দিয়েছিলেন বই। তিনি চান, আগের মতো একে অপরকে বই উপহার দেওয়ার রেওয়াজটা আবার ফিরে আসুক।

এখন তার বইয়ের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। বই কেনেন ঠিকই, তবে তা বই জমানোর জন্যই। আগে বই হাতে নিয়ে পড়তে যতটা ভালো লাগতো, এখন ঘরে এসে আলমারি ভর্তি বইগুলোর দিকে তাকাতেই বেশি ভালো লাগে। বইয়ের পাতা থেকে সরে গিয়ে সুখ এখন বইয়ের আলমারিতেই স্থান পেয়েছে।

নিজ লাইব্রেরীর ৩০-৬০ শতাংশ বই হয়তো তার পড়া আছে। বাকি সব অধরাই রয়ে গেছে।

জাপানিজ ভাষায় না পড়ে বই জমানোর এই অভ্যাসকে বলা হয় সুনডোকু (Tsundoku)। সুনডোকুতে আক্রান্ত মানুষ বই কিনতে কিনতে একপর্যায়ে বই জমানোর দিকেই আগ্রহ খুঁজে পান। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু তাদের বাড়িতে বইয়ের বিশাল সংগ্রহ দেখে বড় হয়, তাদের মধ্যেও আপনাআপনি বই পড়ার প্রবণতা চলে আসে। এই লেখায় তেমন কয়েকজনই ছিলেন, যারা তাদের বাবা মায়ের থেকে বই পড়া আয়ত্ত করেছেন। এখন হয়তো নিজেরা বই পড়া কমিয়ে দিয়েছেন। তবে বই সংগ্রহ আর থামাননি...

২১ শতকের সেরা ১০০ বই

 এই তালিকা হয়তো আপনাকে এমন একটি বইয়ের কথা মনে করিয়ে দেবে, যেটি আপনি অনেকদিন ধরেই পড়তে চাচ্ছিলেন। কিংবা হয়তো উদ্বুদ্ধ করবে কোন এক নতুন বইয়ের খোঁজ পেতে।




বই পড়া মানে কারও কাছে নতুন কিছু জানতে পারা; আবার কারও কাছে নিজেকে খুঁজে পাবার চেষ্টা,কিংবা নিছক আনন্দ লাভ। 

বই পড়ার নানাবিধ আগ্রহকে মাথায় রেখেই দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়। আর তা হলো ২১ শতকের প্রথম ২৫ বছর পেরিয়ে এসে কোন বইগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ছিল, তা খুঁজে বের করা।

'দি আপশট'-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্পে তারা শত শত সাহিত্যিক, সমালোচক ও প্রকাশককে একটি জরিপে অংশ নিতে বলেন। সেখানে তাদের অনুরোধ করা হয় ২০০০ সালের ১ জানুয়ারির পর প্রকাশিত সেরা ১০টি বইয়ের নাম লিখে দিতে।

এই তালিকায় অংশগ্রহণ করেছেন স্টিফেন কিং, বনি গারমাস, ক্লডিয়া র‍্যাঙ্কিন, জেমস প্যাটারসন, সারাহ জেসিকা পার্কার, কার্ল ওভে ক্রাউসগার্ড, রক্সান গে, মারলন জেমস, মিন জিন লি, জেনা বুশ হ্যাগারসহ আরও বহু বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও পাঠকনন্দিত ব্যক্তিত্ব।

এই তালিকা হয়তো আপনাকে এমন একটি বইয়ের কথা মনে করিয়ে দেবে, যেটি আপনি অনেকদিন ধরেই পড়তে চাচ্ছিলেন। আবার হয়তো নতুন করে উদ্বুদ্ধ করবে কোন এক নতুন বইয়ের খোঁজ পেতে।

২১ শতকের সেরা ১০০ বইয়ের তালিকা

১. মাই ব্রিলিয়ান্ট ফ্রেন্ড (২০১২)

লেখক: এলেনা ফেরান্তে; অনুবাদ: অ্যান গোল্ডস্টেইন

২. দ্য ওয়ার্মথ অব আদার সানস (২০১০)

লেখক: ইসাবেল উইলকারসন

৩. উলফ হল (২০০৯)

লেখক: হিলারি ম্যানটেল

৪. দ্য নোন ওয়ার্ল্ড (২০০৩)

লেখক: এডওয়ার্ড পি. জোনস

৫. দ্য কারেকশনস (২০০১)

লেখক: জনাথন ফ্রাঞ্জেন

৬. টু সিক্স সিক্স সিক্স (২০০৮)

লেখক: রোবের্তো বোলানিও; অনুবাদ: নাটাশা উইমার

৭. দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেইলরোড (২০১৬)

লেখক: কোলসন হোয়াইটহেড

৮. অউস্টারলিৎস (২০০১)

লেখক: ডব্লিউ. জি. সেবাল্ড; অনুবাদ: অ্যানথিয়া বেল

৯. নেভার লেট মি গো (২০০৫)

লেখক: কাজুও ইশিগুরো

১০. গিলিয়াড (২০০৪)

লেখক: ম্যারিলিন রোবিনসন

১১. দ্য ব্রিফ ওয়ান্ডারাস লাইফ অব অস্কার ওয়াও (২০০৭)

লেখক: জুনো ডিয়াজ

১২. দ্য ইয়ার অব ম্যাজিকাল থিংকিং (২০০৫)

লেখক: জোয়ান ডিডিয়ন

১৩. দ্য রোড (২০০৬)

লেখক: কর্ম্যাক ম্যাককার্থি

১৪. আউটলাইন (২০১৫)

লেখক: র‍্যাচেল কাস্ক

১৫. পাচিনকো (২০১৭)

লেখক: মিন জিন লি

১৬. দ্য অ্যামেইজিং অ্যাডভেঞ্চারস অব কাভালিয়ার অ্যান্ড ক্লে (২০০০)

লেখক: মাইকেল শ্যাবন

১৭. দ্য সেলআউট (২০১৫)

লেখক: পল বিটি

১৮. লিংকন ইন দ্য বার্ডো (২০১৭)

লেখক: জর্জ সন্ডার্স

১৯. সে নাথিং (২০১৯)

লেখক: প্যাট্রিক র‍্যাডেন কিফ

২০. ইরেজার (২০০১)

লেখক: পার্সিভাল এভারেট

২১. এভিক্টেড (২০১৬)

লেখক: ম্যাথিউ ডেসমন্ড

২২. বিহাইন্ড দ্য বিউটিফুল ফরএভারস (২০১২)

লেখক: ক্যাথরিন বু

২৩. হেটশিপ, ফ্রেন্ডশিপ, কোর্টশিপ, লাভশিপ, ম্যারেজ (২০০১)

লেখক: অ্যালিস মুনরো

২৪. দ্য ওভারস্টোরি (২০১৮)

লেখক: রিচার্ড পাওয়ার্স

২৫. র‍্যান্ডম ফ্যামিলি (২০০৩)

লেখক: এড্রিয়ান নিকোল লে ব্লঁ

২৬. এটোনমেন্ট (২০০২)

লেখক: ইয়ান ম্যাকইয়ান

২৭. আমেরিকানা (২০১৩)

লেখক: চিমামান্ডা এনগোজি আদিচি

২৮. ক্লাউড অ্যাটলাস (২০০৪)

লেখক: ডেভিড মিচেল

২৯. দ্য লাস্ট সামুরাই (২০০০)

লেখক: হেলেন ডিউইট

৩০. সিং, আনবারিড, সিং (২০১৭)

লেখক: জেসমিন ওয়ার্ড

৩১. হোয়াইট টিথ (২০০০)

লেখক: জেডি স্মিথ

৩২. দ্য লাইন অব বিউটি (২০০৪)

লেখক: অ্যালান হলিংহার্স্ট

৩৩. সালভেজ দ্য বোনস (২০১১)

লেখক: জেসমিন ওয়ার্ড

৩৪. সিটিজেন (২০১৪)

লেখক: ক্লডিয়া র‍্যাঙ্কিন

৩৫. ফান হোম (২০০৬)

লেখক: অ্যালিসন বেকডেল

৩৬. বিটুইন দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড মি (২০১৫)

লেখক: টা-নেহিসি কোটস

৩৭. দ্য ইয়ারস (২০১৮)

লেখক: অ্যানি এরনো; অনুবাদ: অ্যালিসন এল. স্ট্রায়ার

৩৮. দ্য স্যাভেজ ডিটেকটিভস (২০০৭)

লেখক: রোবের্তো বোলানিও; অনুবাদ: নাটাশা উইমার

৩৯. এ ভিজিট ফ্রম দ্য গুন স্কোয়াড (২০১০)

লেখক: জেনিফার ইগান

৪০. এইচ ইজ ফর হক (২০১৫)

লেখক: হেলেন ম্যাকডোনাল্ড

৪১. স্মল থিংস লাইক দিজ় (২০২১)

লেখক: ক্লেয়ার কিগান

৪২. আ ব্রিফ হিস্টরি অব সেভেন কিলিংস (২০১৪)

লেখক: মারলন জেমস

৪৩. পোস্টওয়ার (২০০৫)

লেখক: টোনি জাড্ট

৪৪. দ্য ফিফথ সিজন (২০১৫)

লেখক: এন. কে. জেমিসিন

৪৫. দ্য আর্গোনটস (২০১৫)

লেখক: ম্যাগি নেলসন

৪৬. দ্য গোল্ডফিনচ (২০১৩)

লেখক: ডোনা টার্ট

৪৭. আ মার্সি (২০০৮)

লেখক: টোনি মরিসন

৪৮. পারসেপলিস (২০০৩)

লেখক: মারজান সাত্রাপি

৪৯. দ্য ভেজেটেরিয়ান (২০১৬)

লেখক: হান কাং; অনুবাদ: ডেবোরা স্মিথ

৫০. ট্রাস্ট (২০২২)

লেখক: হারনান দিয়াস

৫১. লাইফ আফটার লাইফ (২০১৩)

লেখক: কেট অ্যাটকিনসন

৫২. ট্রেইন ড্রিমস (২০১১)

লেখক: ডেনিস জনসন

৫৩. রানঅ্যাওয়ে (২০০৪)

লেখক: অ্যালিস মুনরো

৫৪. টেন্থ অব ডিসেম্বার (২০১৩)

লেখক: জর্জ সন্ডার্স

৫৫. দ্য লুমিং টাওয়ার (২০০৬)

লেখক: লরেন্স রাইট

৫৬. দ্য ফ্লেমথ্রোয়ার্স (২০১৩)

লেখক: র‍্যাচেল কুশনার

৫৭. নিকেল অ্যান্ড ডাইমড (২০০১)

লেখক: বারবারা এহরেনরেইচ

৫৮. স্টে ট্রু (২০২২)

লেখক: হুয়া স্যু

৫৯. মিডলসেক্স (২০০২)

লেখক: জেফ্রি ইউজেনিডিস

৬০. হেভি (২০১৮)

লেখক: কিসে লেমন

৬১. ডেমন কপারহেড (২০২২)

লেখক: বারবারা কিংসলভার

৬২. টেন : ও ফোর (২০১৪)

লেখক: বেন লার্নার

৬৩. ভেরোনিকা (২০০৫)

লেখক: মেরি গেইটস্কিল

৬৪. দ্য গ্রেট বিলিভারস (২০১৮)

লেখক: রেবেকা মাক্কাই

৬৫. দ্য প্লট অ্যাগেইনস্ট আমেরিকা (২০০৪)

লেখক: ফিলিপ রথ

৬৬. উই দ্য অ্যানিম্যালস (২০১১)

লেখক: জাস্টিন টরেস

৬৭. ফার ফ্রম দ্য ট্রি (২০১২)

লেখক: অ্যান্ড্রু সলোমন

৬৮. দ্য ফ্রেন্ড (২০১৮)

লেখক: সিগ্রিড নুনেজ

৬৯. দ্য নিউ জিম ক্রো (২০১০)

লেখক: মিশেল আলেক্সান্ডার

৭০. অল আ্যান্ট হেগার'স চিলড্রেন (২০০৬)

লেখক: এডওয়ার্ড পি. জোনস

৭১. দ্য কোপেনহেগেন ট্রিলজি (২০২১)

লেখক: টোভ ডিটলেভসেন; অনুবাদ: টিনা নানলি ও মাইকেল ফাভালা গোল্ডম্যান

৭২. সেকেন্ডহ্যান্ড টাইম (২০১৬)

লেখক: স্ভেতলানা আলেকজেভিচ; অনুবাদ: বেলা শায়েভিচ

৭৩. দ্য প্যাসেজ অফ পাওয়ার (২০১২)

লেখক: রবার্ট কারো

৭৪. অলিভ কিটারিজ (২০০৮)

লেখক: এলিজাবেথ স্ট্রাউট

৭৫. এক্সিট ওয়েস্ট (২০১৭)

লেখক: মোহসিন হামিদ

৭৬. টুমরো, অ্যান্ড টুমরো, অ্যান্ড টুমরো (২০২২)

লেখক: গ্যাব্রিয়েল জেভিন

৭৭. আন আমেরিকান ম্যারেজ (২০১৮)

লেখক: টায়ারি জোন্স

৭৮. সেপটোলজি (২০২২)

লেখক: জন ফস; অনুবাদ: ড্যামিয়ন সিরলস

৭৯. এ ম্যানুয়াল ফর ক্লিনিং উইমেন (২০১৫)

লেখক: লুসিয়া বার্লিন

৮০. দ্য স্টোরি অফ দ্য লস্ট চাইল্ড (২০১৫)

লেখক: এলেনা ফেরান্তে; অনুবাদ: অ্যান গোল্ডস্টেইন

৮১. পাল্পহেড (২০১১)

লেখক: জন জেরেমিয়া সুলিভান

৮২. হারিকেন সিজন (২০২০)

লেখক: ফের্নান্ডা মেলচর; অনুবাদ: সোফি হিউজ

৮৩. হোয়েন উই সিজ টু আন্ডারস্ট্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড (২০২১)

লেখক: বেনজামিন লাবাটুট; অনুবাদ: অ্যাড্রিয়ান নাথান ওয়েস্ট

৮৪. দ্য এম্পেরর অব অল ম্যালেডিস (২০১০)

লেখক: সিদ্ধার্থ মুকার্জী

৮৫. পাস্টোরালিয়া (২০০০)

লেখক: জর্জ স্যান্ডার্স

৮৬. ফ্রেডেরিক ডগলাস (২০১৮)

লেখক: ডেভিড ডব্লিউ. ব্লাইট

৮৭. ডিটারানজিশন, বেবি (২০২১)

লেখক: টরি পিটারস

৮৮. দ্য কালেক্টেড স্টোরিজ অব লিডিয়া ডেভিস (২০১০)

লেখক: লিডিয়া ডেভিস

৮৯. দ্য রিটার্ন (২০১৬)

লেখক: হিশাম মাতার

৯০. দ্য সিমপ্যাথাইজার (২০১৫)

লেখক: ভিয়েত থান নগুয়েন

৯১. দ্য হিউম্যান স্টেইন (২০০০)

লেখক: ফিলিপ রথ

৯২. দ্য ডেইস অব অ্যাব্যান্ডনমেন্ট (২০০৫)

লেখক: এলেনা ফেরান্তে; অনুবাদ: অ্যান গোল্ডস্টেইন

৯৩. স্টেশন ইলেভেন (২০১৪)

লেখক: এমিলি সেন্ট জন ম্যান্ডেল

৯৪. অন বিউটি (২০০৫)

লেখক: জেডি স্মিথ

৯৫. ব্রিং আপ দ্য বডিস (২০১২)

লেখক: হিলারি ম্যানটেল

৯৬. ওয়ে ওয়ার্ড লাইভস, বিউটিফুল এক্সপেরিমেন্টস (২০১৯)

লেখক: সাইদিয়া হার্টম্যান

৯৭. মেন উই রিপড (২০১৩)

লেখক: জেসমিন ওয়ার্ড

৯৮. বেল ক্যান্টো (২০০১)

লেখক: অ্যান প্যাচেট

৯৯. হাউ টু বি বোথ (২০১৪)

লেখক: অ্যালি স্মিথ

১০০. ট্রি অব স্মোক (২০০৭)

লেখক: ডেনিস জনসন