# a b c d e f g h i j k l m n o p q r s t u v w x y z

সঞ্জীব চৌধুর

জন্ম-মৃত্যু : ১৯৬৪-২০০৭


সঞ্জীব চৌধুরী (২৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ – ১৯ নভেম্বর, ২০০৭) ছিলেন একজন বাংলাদেশী সংগীতশিল্পী ও সাংবাদিক। তিনি বাংলা ব্যাণ্ডদল দলছুটের প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন। সঞ্জীব দলছুটের চারটি অ্যালবামে কাজ করার পাশাপাশি অনেক গান রচনা ও সুরারোপও করেছেন।

প্রাথমিক জীবন

সঞ্জীব চৌধুরী ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা গোপাল চৌধুরী এবং মাতা প্রভাষিনী চৌধুরী। নয় ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম। ছোটবেলায় হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন ও এরপরে ঢাকার বকশী বাজার নবকুমার ইন্সটিটিউটে নবম শ্রেণীতে এসে ভর্তি হন ও এখান থেকে ১৯৭৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও মেধা তালিকায় স্থান করে নেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হন কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা শেষ না করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

Telegram Channel Join Now

কর্মজীবন

তিনি একজন খ্যাতনামা সাংবাদিকও ছিলেন এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ ও যায়যায়দিনে কাজ করেন। তিনি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একজন কর্মী ছিলেন।

সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া গান

বছরশিরোনামঅ্যালবামটীকা১৯৯৭”চোখ”আহ্ ২০০০”আমি তোমাকেই বলে দেবো”হৃদয়পুরদলছুট২০০০”চল বুবাইজান”হৃদয়পুরদলছুট২০০০”গাড়ি চলে না”হৃদয়পুরদলছুট২০০০”আমাকে অন্ধ করে”হৃদয়পুরদলছুট২০০০”খুঁজি যখন” (বাপ্পা মজুমদার সহ)হৃদয়পুরদলছুট২০০০”খোলা আাকাশ”হৃদয়পুরদলছুট২০০০”আল্লাহর ওয়াস্তে”হৃদয়পুরদলছুট২০০৭”হাতের উপর”জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”সবুজ খুঁজি” (বাপ্পা মজুমদার সহ)জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”চলতে চলতে”জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”দিন সারাদিন” (বাপ্পা মজুমদার সহ)জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”ভালো লাগে না”জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”নোঙরের গল্প”জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”ধরি মাছ না ছুঁই পানি”জোছনাবিহারদলছুট “আমি ঘুরিয়া ঘুরিয়া”স্বপ্নবাজী  “হাওয়ারে তুই বাজা নূপুর”স্বপ্নবাজী  “কোথাও বাঁশি”   “অপেক্ষা”   “আমি ফিরে পেতে চাই”   “আমার বয়স হল সাতাশ”বাড়ি ফেরা হল না  “একটি চোখে কাজল”বাড়ি ফেরা হল না  “কালা পাখি”   “গাছ”   “চোখটা এত”বাড়ি ফেরা হল না  “তোমার ভাঁজ খোল আনন্দ দেখাও”   “দিন সারা দিন”   “নৌকা ভ্রমণ”   “বাড়ি ফেরা”বাড়ি ফেরা হল না  “বায়োস্কোপ”বাড়ি ফেরা হল না  “সবুজ যখন”   “সমুদ্র সন্তান”   “সাদা ময়লা”   “সানগ্লাস”   “স্বপ্নবাজি” সঞ্জীব চৌধুরী বাইলেটারেল সেরিব্রাল স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। নভেম্বর ১৫, ২০০৭ সালে আকস্মিক অসুস্থ বোধ করার কারণে তাকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। তিন দিন পর নভেম্বর ১৯ তারিখে সঞ্জীব চৌধুরী ঢাকার অ্যাপোলো হসপিটালের আইসিইউ শাখায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

অপেক্ষার অবসান, ঢাকায় তারেক রহমান

 

ঢাকায় পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এদিন সকাল ১১টার পর পর ফ্লাইটটি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজে ২০২ বিমানটি। এরপর একঘণ্টা যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রাবিরতি শেষে বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।

এদিকে, আজ সকালে দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের পর তারেক রহমান সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।

এদিকে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে এবং রাজকীয় সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর ৩০০ ফিট (পূর্বাচল) এলাকায় তৈরি করা হয়েছে এক সুবিশাল মঞ্চ। 

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হচ্ছেন সমাবেশস্থলে। স্লোগানে মুখর চারপাশ। বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বলা চলে স্লোগান, প্ল্যাকার্ড আর উচ্ছ্বাসে পুরো সমাবেশস্থল যেন ‘উৎসবকেন্দ্র’ হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় পৌঁছানোর পর রাজধানীর পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট এলাকা) যাবেন তারেক রহমান। সেখানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেবেন তিনি। তারপর মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। 

Flight Tracking: ফ্লাইট ট্র্যাকিং কী, কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান বিশ্বে বিমান ভ্রমণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণ—সব ক্ষেত্রেই মানুষ এখন নিয়মিত ফ্লাইট ব্যবহার করছে। এই প্রেক্ষাপটে flight tracking বা ফ্লাইট ট্র্যাকিং একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

আপনি কি কখনো জানতে চেয়েছেন—আপনার প্রিয়জনের ফ্লাইট এখন কোথায় আছে? অথবা আপনার নিজের ফ্লাইট দেরি করছে কিনা? এসব প্রশ্নের উত্তর দেয় ফ্লাইট ট্র্যাকিং সিস্টেম।

এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো:

  • flight tracking কী

  • flight tracking কীভাবে কাজ করে

  • কোন প্রযুক্তিগুলো ব্যবহৃত হয়

  • ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা ও ব্যবহার

  • সেরা ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ও অ্যাপ

  • ভবিষ্যতে ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের সম্ভাবনা


Flight Tracking কী?

Flight tracking হলো এমন একটি প্রযুক্তি বা সিস্টেম যার মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে একটি বিমানের অবস্থান, গতি, উচ্চতা, রুট, এবং গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য জানা যায়।

সহজ ভাষায় বললে, আকাশে থাকা কোনো বিমানের “লাইভ লোকেশন” দেখার পদ্ধতিই হলো ফ্লাইট ট্র্যাকিং।

বর্তমানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে:

  • যাত্রী

  • বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ

  • এয়ারলাইন কোম্পানি

  • এভিয়েশন গবেষক

  • এমনকি সাধারণ মানুষও

সহজেই যেকোনো ফ্লাইটের তথ্য জানতে পারে।


Flight Tracking কীভাবে কাজ করে?

ফ্লাইট ট্র্যাকিং একক কোনো প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল নয়। এটি মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের সমন্বয়ে কাজ করে।

১. ADS-B (Automatic Dependent Surveillance–Broadcast)

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো ADS-B

এই সিস্টেমে:

  • বিমান নিজেই তার অবস্থান

  • GPS ডেটা

  • উচ্চতা

  • গতি

রেডিও সিগনালের মাধ্যমে ব্রডকাস্ট করে।

এই তথ্য গ্রহণ করে:

  • গ্রাউন্ড স্টেশন

  • স্যাটেলাইট

  • ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট

ADS-B সম্পর্কে অফিসিয়াল তথ্য পাওয়া যাবে
👉 https://www.faa.gov/air_traffic/technology/adsb

(Trusted Source: Federal Aviation Administration – FAA)


২. Radar-Based Flight Tracking

রাডার সিস্টেম বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

রাডার কীভাবে কাজ করে:

  • ভূমি থেকে রেডিও তরঙ্গ পাঠানো হয়

  • বিমান থেকে তা প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে

  • এর মাধ্যমে বিমানের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়

তবে রাডারের সীমাবদ্ধতা আছে:

  • সমুদ্র বা দুর্গম এলাকায় রাডার কাজ করে না

  • ব্যয়বহুল

এই কারণেই আধুনিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং এখন ADS-B নির্ভর।


৩. Satellite-Based Flight Tracking

দূরবর্তী অঞ্চল ও সমুদ্রের ওপর ফ্লাইট ট্র্যাক করতে ব্যবহৃত হয় স্যাটেলাইট।

বিশেষ করে:

  • লং-হaul ফ্লাইট

  • ট্রান্স-আটলান্টিক বা ট্রান্স-প্যাসিফিক রুট

এই প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত পাওয়া যাবে
👉 https://www.icao.int/safety/airnavigation/Pages/Satellite-based-ADS-B.aspx
(Trusted Source: ICAO – International Civil Aviation Organization)


Flight Tracking কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ফ্লাইট ট্র্যাকিং শুধুমাত্র কৌতূহলের বিষয় নয়, এটি বাস্তব জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১. যাত্রীদের জন্য

  • ফ্লাইট দেরি হচ্ছে কিনা জানা

  • আগমনের সঠিক সময় অনুমান

  • ট্রানজিট ফ্লাইট মিস হবে কিনা বোঝা

২. এয়ারলাইন কোম্পানির জন্য

  • ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট

  • জ্বালানি দক্ষতা বিশ্লেষণ

  • রুট অপটিমাইজেশন

৩. বিমানবন্দর ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের জন্য

  • আকাশে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা

  • দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো

  • ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট


Flight Tracking-এর প্রধান ব্যবহারসমূহ

✈️ লাইভ ফ্লাইট স্ট্যাটাস দেখা

✈️ ঐতিহাসিক ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণ

✈️ আবহাওয়ার প্রভাব বোঝা

✈️ এভিয়েশন রিসার্চ

✈️ সাংবাদিকতা ও তদন্তমূলক কাজ


জনপ্রিয় Flight Tracking ওয়েবসাইট ও অ্যাপ

১. Flightradar24

👉 https://www.flightradar24.com

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম।
এখানে আপনি পাবেন:

  • লাইভ ম্যাপ

  • ফ্লাইট ইতিহাস

  • বিমান মডেল তথ্য


২. FlightAware

👉 https://www.flightaware.com

বিশেষভাবে পরিচিত:

  • নির্ভুল ETA

  • ব্যবসায়িক ও প্রফেশনাল ডেটার জন্য


৩. Plane Finder

👉 https://planefinder.net

সহজ ইন্টারফেস ও মোবাইল অ্যাপের জন্য জনপ্রিয়।


Flight Tracking কি সম্পূর্ণ ফ্রি?

আংশিকভাবে হ্যাঁ।

  • সাধারণ লাইভ ট্র্যাকিং: ফ্রি

  • বিস্তারিত ঐতিহাসিক ডেটা: পেইড

  • এয়ারলাইন-গ্রেড ডেটা: সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক


Flight Tracking ও গোপনীয়তা (Privacy)

অনেকেই প্রশ্ন করেন—ফ্লাইট ট্র্যাকিং কি নিরাপদ?

বাস্তবতা হলো:

  • সামরিক বিমান সাধারণত ট্র্যাক করা যায় না

  • ব্যক্তিগত জেট চাইলে ডেটা হাইড করতে পারে

  • সাধারণ যাত্রী বিমানের ডেটা পাবলিক

ICAO এই বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা দিয়েছে
👉 https://www.icao.int


ভবিষ্যতে Flight Tracking প্রযুক্তি

আগামী দিনে flight tracking আরও উন্নত হবে:

  • ১০০% স্যাটেলাইট কাভারেজ

  • AI-ভিত্তিক পূর্বাভাস

  • স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট

  • দুর্ঘটনা ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের এভিয়েশন নিরাপত্তার মূল ভিত্তিই হবে উন্নত ফ্লাইট ট্র্যাকিং। 


উপসংহার

Flight tracking আধুনিক এভিয়েশন জগতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু যাত্রীদের সুবিধা দেয় না, বরং বিমান চলাচলকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং দক্ষ করে তোলে। ADS-B, রাডার ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সমন্বয়ে আজ আমরা ঘরে বসেই আকাশের যেকোনো বিমানের অবস্থান জানতে পারছি।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হবে এবং বৈশ্বিক এভিয়েশন ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।


সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)


Flight tracking কি রিয়েল-টাইম?

হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আপডেট হয়।



সব ফ্লাইট কি ট্র্যাক করা যায়?


বাণিজ্যিক ফ্লাইট প্রায় সবই ট্র্যাক করা যায়, তবে সামরিক ফ্লাইট নয়।

Flight tracking কি ফ্রি?

বেসিক তথ্য ফ্রি, তবে অ্যাডভান্সড ফিচার পেইড।



মোবাইলে ফ্লাইট ট্র্যাক করা যাবে?

অবশ্যই, Flightradar24 ও FlightAware অ্যাপ ব্যবহার করা যায়।



ফ্লাইট ট্র্যাকিং কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, এটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত।



Shafali Verma: জীবন, ক্যারিয়ার ও ক্রিকেটে তার অসাধারণ সাফল্য

 

পরিচিতি

Shafali Verma হলেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের এক উজ্জ্বল তারকা। তার জন্ম ২০০৪ সালের ২ জানুয়ারি নরওয়াল, ঝাড়খণ্ড, ভারতের একটি ছোট শহরে। শৈশব থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তার আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। ছোটবেলায় মাঠে তার ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং দেখেই বোঝা যেত যে একদিন সে ভারতের মহিলা ক্রিকেটের একটি বড় নাম হয়ে উঠবে।

শাফালি কেবল প্রতিভাবান নয়, বরং আত্মবিশ্বাসী, আগ্রহী এবং খেলায় ঝুঁকিপূর্ণ রণনীতি গ্রহণের জন্যও পরিচিত। তার এই বৈশিষ্ট্য তাকে অন্য অনেক যুব খেলোয়াড়ের থেকে আলাদা করে।

ক্যারিয়ারের সূচনা

শাফালির ক্রিকেট যাত্রা শুরু হয় স্থানীয় ক্রিকেট ক্লাব থেকে। মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। তার অসাধারণ ট্যালেন্ট লক্ষ্য করে Jharkhand Cricket Association তাকে যুব দলের জন্য নির্বাচিত করে।

২০১৯ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে শাফালি ভারতের মহিলা T20 দলেই অভিষেক করেন। এই অভিষেকের সময় তার বোলিং ও ব্যাটিং উভয়েই অনন্য পারফরম্যান্স ছিল। এই পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে পরিচিতি এনে দেয়।


গুরুত্বপূর্ণ খেলা ও রেকর্ড

শাফালি Verma বিভিন্ন ফরম্যাটে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন।

T20 আন্তর্জাতিক খেলা

শাফালি বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী মহিলা ক্রিকেটার যিনি আন্তর্জাতিক T20 তে শতক করেছেন। তার আগ্রহ ও সাহসিকতার কারণে, অনেকের মতে তিনি ভারতের ভবিষ্যতের স্টার ব্যাটসম্যান

  • সর্বোচ্চ স্কোর: ७৮ রান (T20)

  • ডেবিউ ম্যাচ: 2019, বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড ESPNcricinfo স্ট্যাটস

ODI খেলা

শাফালি ODI ফরম্যাটেও তার স্কিল দেখিয়েছেন। বিশেষ করে দ্রুত রান করার ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চাপ সামলানোর দক্ষতা তাকে দলের জন্য অপরিহার্য করেছে।

রেকর্ড ও অর্জন

  • সবচেয়ে কম বয়সে শতক: শাফালি মাত্র ১৭ বছর বয়সে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।

  • T20 ও ODI-তে দ্রুততম রান: তার ব্যাটিং ধৈর্য এবং আক্রমণাত্মক খেলার সংমিশ্রণ উল্লেখযোগ্য।


খেলার ধরন ও স্টাইল

শাফালির ব্যাটিং স্টাইল এক কথায় “অ্যাগ্রেসিভ এবং ডায়নামিক।” তিনি প্রায় সব ধরনের বোলিং শৈলীতে খেলার ক্ষমতা রাখেন।

  • ড্রাইভ ও কভার হিটিং: অত্যন্ত শক্তিশালী

  • ফাস্ট বোলিং মোকাবেলা: কম বয়সে আন্তর্জাতিক ম্যাচে বোলারদের চাপে ফেলেছেন

  • ফিল্ডিং স্কিল: দ্রুত, প্রিসাইস এবং রিয়েকশন টাইম ভালো

শাফালি শুধু স্কিলের জন্য নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তার জন্যও খ্যাত। তিনি চাপের মুহূর্তে হাল ছাড়েন না, বরং দলের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেন।


সামাজিক ও মিডিয়া প্রভাব

শাফালি Verma কেবল মাঠের মধ্যে নয়, সামাজিক মাধ্যমেও অত্যন্ত প্রভাবশালী। তার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং টুইটার ফলোয়িং লক্ষ লক্ষ।

  • ফ্যান ফলোয়িং: ভারতের যুবসমাজে প্রেরণার উৎস

  • নারী ক্রিকেট উন্নয়ন: মহিলা ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

শাফালি অন্যান্য ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণা। বিশেষ করে নারী খেলোয়াড়রা তার মাধ্যমে প্রমাণ করে যে যুবক বয়সেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন সম্ভব।


পুরস্কার ও স্বীকৃতি

শাফালি Verma আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে বহু পুরস্কার অর্জন করেছেন।

  • ICC Rising Star Award (নারী ক্রিকেট বিভাগ)

  • মহিলা T20 ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স পুরস্কার

  • জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি প্রশংসাপত্র

এছাড়াও, তার নাম ICC ও ESPNcricinfo এর ওয়েবসাইটে বিভিন্ন রেকর্ডে উল্লিখিত।


চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

যখন একজন খেলোয়াড় তাড়াতাড়ি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আসে, তখন চ্যালেঞ্জও বেশি থাকে। শাফালি বিভিন্ন সময়ে ইনজুরি, চাপ এবং মিডিয়ার দৃষ্টি সহ্য করেছেন।

তবে তিনি প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তার লক্ষ্য ভারতের মহিলা ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও শক্তিশালী করা। ভবিষ্যতে তিনি বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক পর্যায়ে ভারতের জন্য অবদান রাখতে চান।


উপসংহার

Shafali Verma হলেন একটি উদাহরণ যে কিভাবে ট্যালেন্ট, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস মিলিয়ে একজন খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করতে পারে। তার কর্মপদ্ধতি, পারফরম্যান্স এবং সামাজিক প্রভাব তাকে যুবক নারী খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শাফালির গল্প প্রমাণ করে যে যদি আপনি ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখেন এবং কঠোর পরিশ্রম করেন, তবে অসম্ভব কিছুই নয়।

সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)


Shafali Verma কখন জন্মগ্রহণ করেছেন?

Shafali Verma জন্মগ্রহণ করেছেন ২০০৪ সালের ২ জানুয়ারি, নরওয়াল, ঝাড়খণ্ড, ভারত।



Shafali Verma কোন ফরম্যাটে সবচেয়ে ভালো?


তিনি মূলত T20 ফরম্যাটে সবচেয়ে শক্তিশালী, তবে ODI-তে ও গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।

তার আন্তর্জাতিক অভিষেক কখন হয়েছিল?

Shafali Verma-এর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ২০১৯ সালে T20 ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।



Shafali Verma সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় কি?

হ্যাঁ, তিনি ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং টুইটারে সক্রিয় এবং লক্ষ লক্ষ ফলোয়ারদের দ্বারা সমর্থিত।



Shafali Verma-এর সবচেয়ে বড় রেকর্ড কী?

তিনি সবচেয়ে কম বয়সে T20 আন্তর্জাতিক শতক করা মহিলা ক্রিকেটার, যা তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দিয়েছে।



বাংলাদেশের রাজনীতিতে BNP: ইতিহাস, নেতৃবৃন্দ এবং প্রভাব

 ১. ভূমিকা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) একটি গুরুত্বপূর্ণ দল। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি দেশের জনগণের জন্য সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করে এবং সরকারে ক্ষমতা লাভ ও দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

BNP এর ইতিহাস, নীতি, নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং বর্তমান প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই ব্লগ পোস্টে।




২. BNP এর ইতিহাস

২.১ প্রতিষ্ঠা ও প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে। এই পার্টি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী দল গঠন করা, যা গণতান্ত্রিকভাবে দেশের সরকার পরিচালনা করতে পারবে। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জাতির পিতা জিয়াউর রহমান, যিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নায়ক ও পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

BNP এর প্রতিষ্ঠার সময়কাল ছিল দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ নানা রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এই সময় বিএনপি একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

২.২ ১৯৭৫–১৯৯০: রাজনৈতিক কার্যক্রম ও আন্দোলন

BNP প্রতিষ্ঠার পর প্রথমে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে দলের ভিত্তি মজবুত করা হয়। ১৯৭৮ সালে দল সরকারে অংশগ্রহণ শুরু করে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে। ১৯৯০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বিরোধিতা ও গণঅভ্যুত্থান শেষে বিএনপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

২.৩ ক্ষমতায় আসা এবং সরকারী কার্যক্রম

BNP নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় আসে। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি একটি শক্তিশালী জয় লাভ করে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিএনপি অর্থনীতি, শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়।

২.৪ সাম্প্রতিক ইতিহাস (২০১০-এর পর থেকে বর্তমান অবস্থা)

২০১০ সালের পর থেকে BNP বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। দলটি সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে সমালোচনা ও বিতর্কে জড়িয়ে থাকে। বর্তমানে BNP দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে অবস্থিত।


৩. BNP এর মূল নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি

BNP দেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতির ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী পরিচয় তৈরি করেছে। দলটির নীতি মূলত গণতন্ত্র, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা-এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

৩.১ রাজনৈতিক দর্শন

BNP গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অঙ্গীকারবদ্ধ দল। এটি বিশ্বাস করে যে দেশের শাসন ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। দলটি স্বাধীন ও মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের গঠনকে সমর্থন করে এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার উপর জোর দেয়।

৩.২ অর্থনীতি ও সামাজিক নীতি

BNP এর অর্থনৈতিক নীতি মূলত বাজারভিত্তিক। তারা বিশ্বাস করে যে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও ব্যবসায়ের স্বাধীনতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে। সামাজিক নীতির ক্ষেত্রে, দলটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক নিরাপত্তার উপর গুরুত্বারোপ করে।

৩.৩ বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক অবস্থান

BNP বিদেশনীতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেয়। তারা সমঝোতা, কূটনৈতিক সংলাপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে কাজ করে। BBC Bangla এর রিপোর্ট অনুযায়ী BNP প্রায়শই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দেশের কূটনৈতিক নীতি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়।


৪. নেতৃবৃন্দ ও সাংগঠনিক কাঠামো

BNP একটি সুসংগঠিত দল, যার মধ্যে রয়েছে প্রধান কমিটি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি, এবং যুব ও নারী সংগঠন।

৪.১ প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতৃবৃন্দ

  • জাতির পিতা জিয়াউর রহমান – BNP এর প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।

  • বেগম খালেদা জিয়া – দলটির দীর্ঘদিনের সভাপত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

  • বর্তমান সভাপতি ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নাম, দায়িত্ব এবং অবদান।

৪.২ পার্টির প্রধান কমিটি এবং সংগঠন কাঠামো

BNP এর সাংগঠনিক কাঠামো নীচের স্তরগুলিতে বিভক্ত:

  • কেন্দ্রীয় কমিটি: নীতি নির্ধারণ ও বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

  • জেলা ও উপজেলা কমিটি: স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রম পরিচালনা।

  • যুব সংগঠন ও মহিলা দলের নেতৃত্ব: যুব ও নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

৪.৩ নারী ও যুব সংগঠন

BNP নারী ও যুবদের রাজনৈতিক জীবনে সম্পৃক্ত করার জন্য বিশেষ সংগঠন পরিচালনা করে। এই সংগঠনগুলো নারী ও যুবদের নেতৃত্বে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সমাজসেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ায়।

৫. BNP এর রাজনৈতিক কার্যক্রম ও অবদান

BNP বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করছে।

৫.১ নির্বাচনী ইতিহাস

BNP বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং কিছু সময় সরকার গঠন করেছে। উল্লেখযোগ্য নির্বাচন:

  • ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচন – বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।

  • পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও দল গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী হিসেবে থাকে।

৫.২ জনপ্রিয় উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম

BNP শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও অবদান রাখে। যেমন:

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহায়তা।

  • নারী ও শিশু উন্নয়ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ।

  • দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ।

৫.৩ দেশের রাজনৈতিক উন্নয়নে BNP এর অবদান

BNP দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। দলটি আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার ও সরকারি নিয়মকানুনের যথাযথ বাস্তবায়নে অবদান রাখে।


৬. সমালোচনা ও বিতর্ক

BNP ইতিহাসে কিছু বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে গেছে।

৬.১ রাজনৈতিক সমালোচনা

  • বিরোধী দল ও সমালোচকেরা মাঝে মাঝে BNP কে ক্ষমতার জন্য রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে অনিয়মে জড়িত বলে অভিযোগ করে।

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে।

৬.২ বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

BNP কিছু সময়ে রাজনৈতিক আন্দোলন ও হরতাল প্রয়োগের কারণে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। তবে দল মনে করে এটি জনগণের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ।

৬.৩ BNP ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক

BNP দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং বিরোধ উভয় ক্ষেত্রেই জড়িত থাকে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমালোচনা এবং সমঝোতার চক্রান্ত লক্ষ্য করা যায়।


৭. সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রভাব

বর্তমান সময়ে BNP দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

  • নির্বাচনী অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে।

  • সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা এবং জনমত গঠন করে।

  • ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে দলের প্রভাব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

Bangladesh Election Commission অনুসারে, BNP আজও দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।


৮. উপসংহার

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দলটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশকে উন্নয়নের পথে পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে BNP দেশের গণতন্ত্র এবং সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখছে।


মহান বিজয় দিবস আজ

 

বিজয়ের এই দিনে একাত্তরের সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতি। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পতাকা ও ফুল হাতে নামবে অগণিত মানুষের ঢাল     বিজয়ের এই দিনে একাত্তরের সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতি।          সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পতাকা ও ফুল হাতে নামবে অগণিত মানুষের          ঢালছবি: বাসস

আজ লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করার দিন। আজ সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। সাধারণত বিজয়ী হওয়া আনন্দের। তবে মরণপণ করে সশস্ত্র যুদ্ধে শত্রুকে পরাজিত করে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের যে বিজয়, তার কোনো তুলনা নেই। আজ জাতির জন্য চিরগৌরবময় অবিস্মরণীয় এক দিন। স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙালির আত্মপ্রকাশ ও পৃথিবীর মানচিত্রে সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের আলোকোজ্জ্বল দিন আজ।

তবে একই সঙ্গে দিনটি গভীর বেদনারও। দেশ-জাতিকে পরাধীনতার নিগড়মুক্ত করতে অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা। অগণিত মা-বোন তাঁদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। জানমালের ক্ষতি হয়েছে অপরিমেয়। কৃতজ্ঞ জাতি আজ এই বিজয়ের আনন্দের দিনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে আত্মদানকারী সেই শহীদদের। স্মরণ করবে সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

Telegram Channel Join Now

আজ রাজধানীসহ সারা দেশের সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার, জাতীয় পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন করবে। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পতাকা ও ফুল হাতে নামবে অগণিত মানুষের ঢাল।

বাসস জানায়, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের আত্মার চিরশান্তি কামনা করেছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘আসুন ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রাখি।’

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘দেশকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল ভোগ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিজয় দিবস কেবল আমাদের গর্বের উৎস নয়, এটি আমাদের শপথের দিনও। শপথ আমাদের একতাবদ্ধ থাকার, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার।’

১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন: তারেক রহমান

 

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ হওয়া সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পরে জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। আমি এদিনে দেশবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানাই শুভেচ্ছা। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ভরে উঠুক তাদের জীবন। এই দিনে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমি স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। বিদেশি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন- আমি জানাই তাদের সশ্রদ্ধ সালাম।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া স্বাধীনতাযুদ্ধ ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়, পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে। দেশের অদম্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজী রেখে এ বিজয় ছিনিয়ে আনে। তাই ১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন। আজকের এ মহান দিনে আমি সেসব বীর সেনাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই।’

Telegram Channel Join Now

তিনি বলেন, ‘শোষণমুক্ত ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক গণতান্ত্রিক নীতিমালার ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ছিল নতুন রাষ্ট্রের মর্মমূলে। কিন্তু অমানবিক ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বারবার সেই প্রত্যয়কে মাটিচাপা দিয়ে সর্বনাশা দুঃশাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়। থামিয়ে দেয় বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা।’

১৯৭১-এ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্তকারীদের নীলনকশা এখনও চলমান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগ্রাসী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অবজ্ঞা করার ঔদ্ধত্য দেখায়। ওই অপশক্তির এদেশীয় এজেন্টরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন করার চক্রান্তজাল বুনে চলেছে। এরা ১৬ গত বছর ধরে একের পর এক প্রহসনের একতরফা নির্বাচন করে জনমতকে তাচ্ছিল্য করেছে। এদেশের মানুষের সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়। নাগরিক স্বাধীনতা অদৃশ্য করে মানুষকে করে অধিকারহারা। এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিরুদ্দেশ করা হয়। নিরুদ্দেশ করা হয় সংবাদপত্রসহ বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা। গণতন্ত্রহীন দেশে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপটে সর্বত্র হতাশা, ভয় আর নৈরাজ্যের অন্ধকার নেমে আসে। ক্ষমতা জবরদখলকারীরা জনগণের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে অদৃশ্য ও হত্যা করে এবং লাখ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর নৈরাজ্যময় হয়ে উঠে। যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সেই অবিসংবাদিত নেত্রীকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে অন্ধকার কারাগারে রাখা হয়েছিল। অমানবিক নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য একের পর এক গণবিরোধী পদক্ষেপ নিতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে মহান বিজয় দিবসের প্রেরণায় বলীয়ান হয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে এবং ২৪ এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার দুনিয়া-কাঁপানো আন্দোলনে তারা পরাজিত হয়। পতন হয় ইতিহাসের এক নিষ্ঠুরতম একনায়কের। দেশে আবার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা জেগে উঠে। এই মুহূর্তে নির্বিঘ্নে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য এই বিজয়ের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক-আমরা বিভাজন ভুলে, হিংসা ভুলে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকবো। মহান বিজয় দিবসে আমি দেশবাসী সকলের প্রতি সেই আহবান জানাই। বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।’

মোটরসাইকেলে করে আসা দুই জন সম্প্রতি ওসমান হাদির প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল'

মোটরসাইকেলে করে আসা দুই জন সম্প্রতি ওসমান হাদির প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল'

 যারা ওসমান হাদির ওপর গুলি চালিয়েছে তারা প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তার প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের একজন সদস্য।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মোহাম্মদ ওসামা জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুইজনের মধ্যে থেকে একজন ওসমান হাদির ওপর গুলি চালায়।

তার দাবি, "এই দুই জন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওসমান হাদির প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল। মাঝখানে কিছুদিন তাদের দেখা যায়নি। কয়েকদিন আগে তারা আবার এসে প্রচারণার কাজে যোগ দেয়"।

এদিকে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনার বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তা জানান, তারা সব তথ্য যাচাই করে দেখছেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন বলে জানায় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন ওসমান হাদি।

Telegram Channel Join Now

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ সেলিম বিবিসি বাংলাকে জানান, বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন মি. হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয় তাকে।

"ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন" বলেও জানান মি. সেলিম।

সন্ধ্যার দিকে মি. হাদির অস্ত্রোপচার শুরু হয় এবং ঢাকা মেডিকেলের সিনিয়র চিকিৎসকরা এতে অংশ নেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।

ওসমান হাদির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে অপারেশন থিয়েটারের সামনে অপেক্ষমাণ স্বজনদের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপারেশনের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। তাকে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউতে নেওয়া হবে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মি. হাদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসমান হাদির অপারেশন থিয়েটারের সামনে ভিড়
ছবির ক্যাপশান,ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসমান হাদির অপারেশন করা হয়
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

গত বছর জুলাই গণঅভ্যুথানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ।

Telegram Channel Join Now

নিজেদের 'অভ্যুত্থানে অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম' বলে দাবি করে এই মঞ্চের অফিশিয়াল ফেসবুক পাতায় লেখা রয়েছে, "সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণই" তাদের লক্ষ্য।

ওসমান হাদির জনসংযোগ বা পিআর টিমের প্রধান এবং ইনকিলাব মঞ্চের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল জাবের বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য প্রচার চালানোর সময় ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো হয়।

মি. জাবের জানান, ঘটনার সময় ওসমান হাদির সঙ্গে থাকা দুইজন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন, তাই সেসময় ঠিক কী হয়েছিল সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত তারা বিস্তারিত জানতে পারেননি।

এই ঘটনার জন্য কাউকে সন্দেহ করছেন কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের যারা শত্রু তাদের বিপক্ষে তিনি (ওসমান হাদি) সবসময় কথা বলেন। সেক্ষেত্রে বর্তমানে যে পরাজিত শক্তি রয়েছে, তাদের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আবার যারা নির্বাচনের মাঠে ওসমান হাদিকে থ্রেট (হুমকি) মনে করছেন, তাদের মাধ্যমে এটা হতে পারে।"

ঘটনাস্থলের যে ভিডিও ফুটেজ আছে তাদের কাছে, সেখান থেকে গুলি করা ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

এদিকে, তার খোঁজ নিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে দলটির প্রার্থী মির্জা আব্বাস হাসপাতালে গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে তিনি সেখান থেকে চলে যান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সামনে বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্য, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করতে দেখা গেছে।

কা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ভিড়
ছবির ক্যাপশান,ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর সেখানে অনেকে ভিড় করেন যাদের মধ্যে তার কর্মী-সমর্থকরাও ছিলেন

অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।

Telegram Channel Join Now

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

"নির্বাচনী পরিবেশে এমন সহিংস হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা" বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে 'দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত' চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ওসমান হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও প্রেস উইং জানিয়েছে।

"নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না" এবং "দোষীরা যে-ই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে" বলেও এই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন ঢাকা- ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস
ছবির ক্যাপশান,ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন ঢাকা- ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস

রাজনৈতিক নেতারা কী বলছেন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হবার ঘটনায় উদ্বেগ, নিন্দা ও শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

ঘটনার পরপরই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, "গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। কোনো সময়ই না। আমাদের মতাদর্শ যাই হোক, যে কেউ ভয়ভীতি বা শক্তির আশ্রয় নিলে তাকে একসঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে হবে"।

তিনি আরও বলেন, "যখন পুরো জাতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন খোদ ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার নিন্দা জানানোর কোনো ভাষা নেই"।

ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন মি. আলমগীর। একইসাথে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাস দমনে দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Telegram Channel Join Now

ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হবার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। দুপুর তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি লেখেন, "কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা মতভিন্নতার কারণে এ ধরনের সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়"।

এই ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেন মি. রহমান। একইসাথে মি. হাদির পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

এই ঘটনার পর এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, "আল্লাহ আমার ভাইকে বাঁচাইয়া রাখো"।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব নিজের ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, 'জান দেব তবু জুলাই দেব না' ---- ওসমান হাদি"।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীও।

"গণহত্যার দায়ে কনভিকটেড হাসিনা ভারতে বসে একের পর এক খুনের হুমকি দিচ্ছিল গত কিছুদিন ধরেই। আর আজকে গুলিবিদ্ধ হলো ওসমান হাদি। এর আগে হাদী বহুবার ভারতীয় নাম্বার থেকে খুনের হুমকি পেয়েছেন," লিখেছেন তিনি।

"আমরা এখনো নিশ্চিত জানি না, কে বা কারা এটা ঘটিয়েছে। যারাই ঘটাক এটার মূল‍্য তাদের দিতে হবে"।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন ঢাকা- ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস
ছবির ক্যাপশান,ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চলে যান বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস

হাদিকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা আব্বাস

এদিকে গুলিবিদ্ধ হাদীকে দেখতে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলটির ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। এসময় সেখানে উপস্থিত ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সাথে মির্জা আব্বাসের সাথে থাকা নেতাকর্মীদের উত্তেজনা তৈরি হয়।

উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। তবে সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি সেখানে।

Telegram Channel Join Now

কিছুক্ষণ পর মির্জা আব্বাস তার কর্মীদের নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান।

পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে মি. হাদির অবস্থার খোঁজ নেন।

এদিকে, হাসপাতালে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েন করতেও দেখা গেছে।

সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঢাকা মেডিকেলের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়
ছবির ক্যাপশান,সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঢাকা মেডিকেলের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়