# a b c d e f g h i j k l m n o p q r s t u v w x y z

সঞ্জীব চৌধুর

জন্ম-মৃত্যু : ১৯৬৪-২০০৭


সঞ্জীব চৌধুরী (২৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ – ১৯ নভেম্বর, ২০০৭) ছিলেন একজন বাংলাদেশী সংগীতশিল্পী ও সাংবাদিক। তিনি বাংলা ব্যাণ্ডদল দলছুটের প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন। সঞ্জীব দলছুটের চারটি অ্যালবামে কাজ করার পাশাপাশি অনেক গান রচনা ও সুরারোপও করেছেন।

প্রাথমিক জীবন

সঞ্জীব চৌধুরী ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা গোপাল চৌধুরী এবং মাতা প্রভাষিনী চৌধুরী। নয় ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম। ছোটবেলায় হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন ও এরপরে ঢাকার বকশী বাজার নবকুমার ইন্সটিটিউটে নবম শ্রেণীতে এসে ভর্তি হন ও এখান থেকে ১৯৭৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও মেধা তালিকায় স্থান করে নেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হন কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা শেষ না করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

Telegram Channel Join Now

কর্মজীবন

তিনি একজন খ্যাতনামা সাংবাদিকও ছিলেন এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ ও যায়যায়দিনে কাজ করেন। তিনি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একজন কর্মী ছিলেন।

সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া গান

বছরশিরোনামঅ্যালবামটীকা১৯৯৭”চোখ”আহ্ ২০০০”আমি তোমাকেই বলে দেবো”হৃদয়পুরদলছুট২০০০”চল বুবাইজান”হৃদয়পুরদলছুট২০০০”গাড়ি চলে না”হৃদয়পুরদলছুট২০০০”আমাকে অন্ধ করে”হৃদয়পুরদলছুট২০০০”খুঁজি যখন” (বাপ্পা মজুমদার সহ)হৃদয়পুরদলছুট২০০০”খোলা আাকাশ”হৃদয়পুরদলছুট২০০০”আল্লাহর ওয়াস্তে”হৃদয়পুরদলছুট২০০৭”হাতের উপর”জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”সবুজ খুঁজি” (বাপ্পা মজুমদার সহ)জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”চলতে চলতে”জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”দিন সারাদিন” (বাপ্পা মজুমদার সহ)জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”ভালো লাগে না”জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”নোঙরের গল্প”জোছনাবিহারদলছুট২০০৭”ধরি মাছ না ছুঁই পানি”জোছনাবিহারদলছুট “আমি ঘুরিয়া ঘুরিয়া”স্বপ্নবাজী  “হাওয়ারে তুই বাজা নূপুর”স্বপ্নবাজী  “কোথাও বাঁশি”   “অপেক্ষা”   “আমি ফিরে পেতে চাই”   “আমার বয়স হল সাতাশ”বাড়ি ফেরা হল না  “একটি চোখে কাজল”বাড়ি ফেরা হল না  “কালা পাখি”   “গাছ”   “চোখটা এত”বাড়ি ফেরা হল না  “তোমার ভাঁজ খোল আনন্দ দেখাও”   “দিন সারা দিন”   “নৌকা ভ্রমণ”   “বাড়ি ফেরা”বাড়ি ফেরা হল না  “বায়োস্কোপ”বাড়ি ফেরা হল না  “সবুজ যখন”   “সমুদ্র সন্তান”   “সাদা ময়লা”   “সানগ্লাস”   “স্বপ্নবাজি” সঞ্জীব চৌধুরী বাইলেটারেল সেরিব্রাল স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। নভেম্বর ১৫, ২০০৭ সালে আকস্মিক অসুস্থ বোধ করার কারণে তাকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। তিন দিন পর নভেম্বর ১৯ তারিখে সঞ্জীব চৌধুরী ঢাকার অ্যাপোলো হসপিটালের আইসিইউ শাখায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

অপেক্ষার অবসান, ঢাকায় তারেক রহমান

 

ঢাকায় পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এদিন সকাল ১১টার পর পর ফ্লাইটটি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজে ২০২ বিমানটি। এরপর একঘণ্টা যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রাবিরতি শেষে বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।

এদিকে, আজ সকালে দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের পর তারেক রহমান সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।

এদিকে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে এবং রাজকীয় সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর ৩০০ ফিট (পূর্বাচল) এলাকায় তৈরি করা হয়েছে এক সুবিশাল মঞ্চ। 

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হচ্ছেন সমাবেশস্থলে। স্লোগানে মুখর চারপাশ। বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বলা চলে স্লোগান, প্ল্যাকার্ড আর উচ্ছ্বাসে পুরো সমাবেশস্থল যেন ‘উৎসবকেন্দ্র’ হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় পৌঁছানোর পর রাজধানীর পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট এলাকা) যাবেন তারেক রহমান। সেখানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেবেন তিনি। তারপর মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। 

নতুন পে স্কেলে বেতন ২০২৫-২০২৬: বেতন কাঠামো, পরিবর্তন ও সম্ভাব্য আপডেট

 বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো বা “পে স্কেল” দীর্ঘদিন ধরে আধুনিকীকরণের অপেক্ষায় আছে। সরকার জাতীয় পে কমিশন, ২০২৫ গঠন করেছে এবং নতুন পে স্কেলে বেতন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, যার প্রভাব সরকারি চাকরি ধর্মীদের জীবিকা, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর উপর পড়বে। এই ব্লগ পোস্টে আমরা নতুন পে স্কেল কী, এর কারণে, সম্ভাব্য কাঠামো, প্রভাব, সুবিধা-অসুবিধা, তুলনা, FAQ এবং উপসংহারসহ বিশদভাবে আলোচনা করব। bartakontho.com+1



১. “পে স্কেল” কি? – মূল ধারণা

পে স্কেল (Pay Scale) হলো সরকারি চাকরিতে কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের একটি কাঠামো, যেখানে বিভিন্ন “গ্রেড” বা স্তর অনুযায়ী বেতন, ভাতা ও সুবিধা দেওয়া হয়। বাংলাদেশে এই পে স্কেল সিস্টেম ১৯৭৩ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে এবং একাধিকবার সংশোধন বা রিভিউ হয়েছে। বর্তমান (২০১৫) পে স্কেল অনুযায়ী সত্যিকার “গ্রেড” সংখ্যা ২০টি এবং সর্বনিম্ন মাসিক বেতন Tk 8,250 থেকে সর্বোচ্চ Tk 78,000 পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। Bdresult24.Com

এই পে স্কেল চাকরিজীবীদের বেতন ও অর্থনৈতিক প্রাপ্যতা নির্ধারণের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বেতন ছাড়াও বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পরিবহন ভাতা ইত্যাদি বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা পে স্কেলের অংশ হিসেবে প্রদান করা হয়।


২. কেন “নতুন পে স্কেলে বেতন” জরুরি?

📌 বর্তমান পে স্কেল পুরনো ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যহীন

বর্তমান পে স্কেল ২০১৫ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে মূল্যের দ্রুত বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও বেতন বৃদ্ধি তেমন হয়নি, যার ফলে কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। Voice 7 News

📌 মূল্যস্ফীতি ও জীবিকার চাপ

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় গত কয়েক বছর ধরে তুলনামূলকভাবে বেড়েছে, কিন্তু বেতন কাঠামো প্রায় স্থির থাকায় কর্মচারীদের আসল আয় কমে যাচ্ছে। নতুন পে স্কেল এই গ্যাপটি পূরণে সহায়ক হতে পারে। Voice 7 News

📌 সরকারি কর্মচারীদের নিরাপত্তা, প্রেরণা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

উচ্চ বা প্রকৃত আয় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কাজের প্রতি প্রেরণা ও মান উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে এবং সফল প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করবে।


৩. বাংলাদেশে পে স্কেলের ইতিহাস: সংক্ষিপ্ত রিভিউ

বাংলাদেশে পে স্কেল সিস্টেমটি বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • ১৯৭৩ সালে পে স্কেল চালু।

  • ১৯৯৭, ২০০৫ এবং ২০১৫ সালে পে স্কেল সংশোধিত।

  • সর্বশেষ ৮ম জাতীয় পে স্কেল ২০১৫ সালে কার্যকর হয়েছিল। Bdresult24.Com

৮ম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন Tk 8,250 এবং সর্বোচ্চ Tk 78,000 ধার্য ছিল। এই কাঠামোতে বেতন ছাড়াও বিভিন্ন ভাতা প্রদান করা হয়। Bdresult24.Com

তবে ২০১৫ সাল থেকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে এবং পে স্কেলটি এখন আর বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


৪. নতুন পে স্কেল: কি অপেক্ষা রয়েছে?

বর্তমানে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে কাজ চলছে এবং এটি ২০২৬ সালের শুরুতে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। Dhaka Tribune

🔹 পে কমিশন ও প্রস্তুতি

সরকার নেশানাল পে কমিশন, ২০১৫ গঠন করেছে এবং কমিশনকে বেতন কাঠামো সংশোধনের জন্য প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। MUNA Bulletin

এই কমিশনটি সরকারিভাবে প্রায় ৬ মাস সময় পাবে সম্পূর্ণ রিপোর্ট তৈরি করতে এবং পেশাগত, দক্ষতা, দায়িত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় অনুযায়ী নতুন পে স্কেলের প্রস্তাব দেবে। MUNA Bulletin

🔹 গ্রেড সংখ্যা ও কাঠামো

কথা রয়েছে বর্তমান ২০টি গ্রেডকে ১২ থেকে ১৫টি গ্রেডে হ্রাস করার পরিকল্পনা নিয়েও, যাতে বেতন কাঠামো আরও সহজ ও সমন্বিত হয়। Dhaka Tribune

🔹 বেতন কাঠামোর পরিবর্তন

সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন Tk 40,000 এবং সর্বোচ্চ Tk 200,000 বা তারও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও হয়নি। YouTube

🔹 ভাতা ও সুবিধা

এছাড়া মেডিকেল ভাতা, শিক্ষা ভাতা, পরিবহন ভাতা, এবং অন্যান্য সুযোগও বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। Dhaka Tribune


৫. নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য সুবিধা

✔️ উচ্চ বেতন ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি

নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের দৈনন্দিন ব্যয় ও পরিবার পরিচালনায় সহায়তা করবে।

✔️ কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

যখন কর্মচারীদের বেতন বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তখন কাজের প্রতি মনোযোগ, নিষ্ঠা ও উৎকর্ষতা বাড়বে।

✔️ প্রতিযোগিতামূলক বেতন

প্রাইভেট সেক্টরের সাথে সরকারি চাকরির বেতন হার তুলনায় অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক হবে, যা দক্ষ কর্মী আকৃষ্ট করতে সহায়তা করবে।


৬. নতুন পে স্কেল প্রবর্তনের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা

❌ বাজেট ও সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি

নতুন স্কেলের কারণে সরকারি ব্যয় বিপুল হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বাজেট-এ চাপ সৃষ্টি করবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতোমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন। bartakontho.com

❌ মূল্যস্ফীতি

যদি বেতন বেড়ে যায়, তা আবার মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর কারণও হতে পারে, যা জীবন ব্যয় আরও বেশি করে তুলতে পারে।

❌ প্রাইভেট সেক্টরের চাপ

প্রাইভেট সেক্টরের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি না হলে সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় তাদের অবস্থান বিপদের মধ্যে পড়তে পারে।


৭. আন্তর্জাতিক তুলনা: বাংলাদেশ বনাম অন্যান্য দেশ

বিশ্বের অনেক দেশে সরকারি বেতন কাঠামোতে সময়-সময় পরিবর্তন করা হয় মূল্যস্ফীতি, জীবন ব্যয় ও দক্ষতা বৃদ্ধির ভিত্তিতে। উদাহরণস্বরূপ:

  • ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে পে কমিশন বসিয়ে বেতন কাঠামো সংশোধন করে থাকে।

  • যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে সরকারি বেতন নির্ধারণ করার সময় Cost of Living Adjustment (COLA) ব্যবহৃত হয়।

এই আন্তর্জাতিক নজির থেকে বোঝা যায় যে নতুন পে স্কেলের গুরুত্ব বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতেও সুপরিচিত


৮. সরকারি ও ব্যক্তিগত সেক্টরের বেতন তুলনা

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে প্রাইভেট সেক্টরের বেতন সরকারি সেক্টারের সাথে তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বা বেশি হতে পারে, নির্ভর করে ক্ষেত্র, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার উপর। কিন্তু সরকারি চাকরির বেনিফিট যেমন পেনশন, ভাতা, সার্বিক স্থায়িত্ব, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি প্রাইভেট সেক্টরে সাধারণত পাওয়া যায় না।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে এই পার্থক্য আরও হ্রাস পেতে পারে।


৯. কর্মচারীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিক্রিয়া

এমন কিছু প্রতিবেদনও এসেছে যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরতরা নতুন পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন, যেমন ঢাকার ইউনিভার্সিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৩০০% পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির দাবিও জানিয়েছে। RTV Online

এ ধরনের দাবির মূলে জীবনের উচ্চ ব্যয়, দায়িত্ব ও দক্ষতা ভিত্তিক বেতন কাঠামো বজায় রাখা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।


১০. নতুন পে স্কেল-এর জন্য সরকারি প্রস্তুতি ও সময়সীমা

বর্তমান সময় অনুযায়ী নতুন পে স্কেল-এর রিপোর্ট ২০২৫ সালের মধ্যে প্রস্তুত হওয়ার আশা করা হচ্ছে এবং সেটি বাস্তবায়িত হতে পারে ২০২৬ সালের শুরুতেDhaka Tribune


উপসংহার

বাংলাদেশে “নতুন পে স্কেলে বেতন” নিয়ে আলোচনা শুধুমাত্র একটি বেতন বৃদ্ধি বিষয় নয়; এটি একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের অংশ। এটি সরকারি কর্মচারীদের জীবনের গুণগত মান বাড়াতে, সরকারি পরিষেবার দক্ষতা উন্নত করতে এবং কর্মক্ষেত্রে প্রেরণা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তা বাস্তবায়নে কিছু আর্থিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেশের অর্থনীতি ও সরকারি সেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)


নতুন পে স্কেল কখন বাস্তবায়িত হবে?

অনুমান করা হচ্ছে ২০২৬ সালের শুরুতে নতুন পে স্কেল কার্যকর হবে।



বর্তমান পে স্কেল কি বছরের পর বছর অপরিবর্তিত ছিল?


হ্যাঁ, ২০১৫ সালের পে স্কেল প্রায় ১০ বছর অপরিবর্তিত ছিল।

নতুন পে স্কেলে বেতন কত হবে?

চূড়ান্ত ঘোষণা না আসলেও সম্ভাব্য সর্বনিম্ন বেতন Tk 40,000 এবং সর্বোচ্চ Tk 200,000 বা তারও বেশি হতে পারে।



নতুন পে স্কেল কি শুধু সরকারি চাকরির জন্য?

হ্যাঁ, এটি মূলত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত।



বেতন ছাড়াও কী ভাতা বাড়বে?

হ্যাঁ, মেডিকেল, শিক্ষা ও অন্যান্য ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।



বাংলাদেশের রাজনীতিতে BNP: ইতিহাস, নেতৃবৃন্দ এবং প্রভাব

 ১. ভূমিকা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) একটি গুরুত্বপূর্ণ দল। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি দেশের জনগণের জন্য সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করে এবং সরকারে ক্ষমতা লাভ ও দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

BNP এর ইতিহাস, নীতি, নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং বর্তমান প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই ব্লগ পোস্টে।




২. BNP এর ইতিহাস

২.১ প্রতিষ্ঠা ও প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে। এই পার্টি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী দল গঠন করা, যা গণতান্ত্রিকভাবে দেশের সরকার পরিচালনা করতে পারবে। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জাতির পিতা জিয়াউর রহমান, যিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নায়ক ও পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

BNP এর প্রতিষ্ঠার সময়কাল ছিল দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ নানা রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এই সময় বিএনপি একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

২.২ ১৯৭৫–১৯৯০: রাজনৈতিক কার্যক্রম ও আন্দোলন

BNP প্রতিষ্ঠার পর প্রথমে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে দলের ভিত্তি মজবুত করা হয়। ১৯৭৮ সালে দল সরকারে অংশগ্রহণ শুরু করে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে। ১৯৯০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বিরোধিতা ও গণঅভ্যুত্থান শেষে বিএনপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

২.৩ ক্ষমতায় আসা এবং সরকারী কার্যক্রম

BNP নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় আসে। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি একটি শক্তিশালী জয় লাভ করে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিএনপি অর্থনীতি, শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়।

২.৪ সাম্প্রতিক ইতিহাস (২০১০-এর পর থেকে বর্তমান অবস্থা)

২০১০ সালের পর থেকে BNP বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। দলটি সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে সমালোচনা ও বিতর্কে জড়িয়ে থাকে। বর্তমানে BNP দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে অবস্থিত।


৩. BNP এর মূল নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি

BNP দেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতির ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী পরিচয় তৈরি করেছে। দলটির নীতি মূলত গণতন্ত্র, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা-এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

৩.১ রাজনৈতিক দর্শন

BNP গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অঙ্গীকারবদ্ধ দল। এটি বিশ্বাস করে যে দেশের শাসন ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। দলটি স্বাধীন ও মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের গঠনকে সমর্থন করে এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার উপর জোর দেয়।

৩.২ অর্থনীতি ও সামাজিক নীতি

BNP এর অর্থনৈতিক নীতি মূলত বাজারভিত্তিক। তারা বিশ্বাস করে যে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও ব্যবসায়ের স্বাধীনতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে। সামাজিক নীতির ক্ষেত্রে, দলটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক নিরাপত্তার উপর গুরুত্বারোপ করে।

৩.৩ বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক অবস্থান

BNP বিদেশনীতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেয়। তারা সমঝোতা, কূটনৈতিক সংলাপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে কাজ করে। BBC Bangla এর রিপোর্ট অনুযায়ী BNP প্রায়শই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দেশের কূটনৈতিক নীতি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়।


৪. নেতৃবৃন্দ ও সাংগঠনিক কাঠামো

BNP একটি সুসংগঠিত দল, যার মধ্যে রয়েছে প্রধান কমিটি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি, এবং যুব ও নারী সংগঠন।

৪.১ প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতৃবৃন্দ

  • জাতির পিতা জিয়াউর রহমান – BNP এর প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।

  • বেগম খালেদা জিয়া – দলটির দীর্ঘদিনের সভাপত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

  • বর্তমান সভাপতি ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নাম, দায়িত্ব এবং অবদান।

৪.২ পার্টির প্রধান কমিটি এবং সংগঠন কাঠামো

BNP এর সাংগঠনিক কাঠামো নীচের স্তরগুলিতে বিভক্ত:

  • কেন্দ্রীয় কমিটি: নীতি নির্ধারণ ও বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

  • জেলা ও উপজেলা কমিটি: স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রম পরিচালনা।

  • যুব সংগঠন ও মহিলা দলের নেতৃত্ব: যুব ও নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

৪.৩ নারী ও যুব সংগঠন

BNP নারী ও যুবদের রাজনৈতিক জীবনে সম্পৃক্ত করার জন্য বিশেষ সংগঠন পরিচালনা করে। এই সংগঠনগুলো নারী ও যুবদের নেতৃত্বে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সমাজসেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ায়।

৫. BNP এর রাজনৈতিক কার্যক্রম ও অবদান

BNP বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করছে।

৫.১ নির্বাচনী ইতিহাস

BNP বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং কিছু সময় সরকার গঠন করেছে। উল্লেখযোগ্য নির্বাচন:

  • ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচন – বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।

  • পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও দল গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী হিসেবে থাকে।

৫.২ জনপ্রিয় উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম

BNP শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও অবদান রাখে। যেমন:

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহায়তা।

  • নারী ও শিশু উন্নয়ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ।

  • দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ।

৫.৩ দেশের রাজনৈতিক উন্নয়নে BNP এর অবদান

BNP দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। দলটি আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার ও সরকারি নিয়মকানুনের যথাযথ বাস্তবায়নে অবদান রাখে।


৬. সমালোচনা ও বিতর্ক

BNP ইতিহাসে কিছু বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে গেছে।

৬.১ রাজনৈতিক সমালোচনা

  • বিরোধী দল ও সমালোচকেরা মাঝে মাঝে BNP কে ক্ষমতার জন্য রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে অনিয়মে জড়িত বলে অভিযোগ করে।

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে।

৬.২ বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

BNP কিছু সময়ে রাজনৈতিক আন্দোলন ও হরতাল প্রয়োগের কারণে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। তবে দল মনে করে এটি জনগণের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ।

৬.৩ BNP ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক

BNP দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং বিরোধ উভয় ক্ষেত্রেই জড়িত থাকে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমালোচনা এবং সমঝোতার চক্রান্ত লক্ষ্য করা যায়।


৭. সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রভাব

বর্তমান সময়ে BNP দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

  • নির্বাচনী অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে।

  • সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা এবং জনমত গঠন করে।

  • ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে দলের প্রভাব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

Bangladesh Election Commission অনুসারে, BNP আজও দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।


৮. উপসংহার

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দলটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশকে উন্নয়নের পথে পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে BNP দেশের গণতন্ত্র এবং সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখছে।


রুনা খান: বাংলাদেশী সমাজ উদ্যোক্তা ও মানবিক নেতা | জীবন, অবদান ও পুরস্কার


পরিচিতি

রুনা খান একটি বিশিষ্ট বাংলাদেশী সমাজ উদ্ভাবক (Social Entrepreneur), যিনি মানবিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য নিরসন, জলবায়ু অভিযোজন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সেক্টরে অসাধারণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। তিনি ভার্সেটাইল ব্যক্তি — শিক্ষক, লেখক, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর কাজ শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে। World Economic Forum+1


রুনা খানের প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

রুনা খান বাংলাদেশের একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর শৈশব এবং শিক্ষা জীবনে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও পরিবেশের সাথে পরিচিত হন — যার ফলে তিনি বিভিন্ন দিক থেকে সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা অনুধাবন করতে সক্ষম হন। Dhaka Tribune

তিনি Lady Brabourne College (কলকাতা) থেকে ভূগোল বিষয়ে এবং Eden College (ঢাকা) থেকে মানবিক বিষয়ে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি Harvard Business School থেকে নন‑প্রফিট ব্যবস্থাপনা (Strategic Perspectives in Nonprofit Management) এবং Harvard Kennedy School থেকে নেতৃত্ব ও পরিবর্তনশীল নেতৃত্ব (Leadership for System Change) প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন। Daily Times Of Bangladesh


একজন শিক্ষিকা থেকে সমাজ উদ্যোক্তা: রুনা খানের যাত্রা

শুরুতে রুনা খান একটি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা সাধারণত রটিয়ে পড়াশোনা করে এবং তা ব্যবহার করতে পারে না; তাই তিনি নতুন শিক্ষণ পদ্ধতি চালু করেন, যা সমালোচনামূলক চিন্তা (Critical Thinking) ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করে। Ashoka

শিক্ষাজগৎ থেকে সমাজসেবা করা পর্যন্ত তাঁর যাত্রা ছিল এক দীর্ঘ ও অনুপ্রেরণাদায়ক — যা পরবর্তীতে “Friendship” নামে একটি বৃহৎ সামাজিক প্রতিষ্ঠান তৈরির দিকে নিয়ে যায়। Ashoka


Friendship NGO: দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংকট মোকাবেলায় রাজপথে এক শক্তিশালী নাম

রুনা খান ২০০২ সালে “Friendship” নামক একটি Social Purpose Organization / NGO প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে দূরবর্তী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করা। World Economic Forum+1

Friendship এর মূল কার্যক্রম

Friendship এর দখলে এমন পোর্টফোলিও রয়েছে:

✔️ সারা দেশে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, বিশেষত জোয়ার চরাঞ্চলে ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে। World Economic Forum
✔️ শিক্ষা ও সাক্ষরতা বৃদ্ধির উদ্যোগ। World Economic Forum
✔️ জলবায়ু অভিযোজন (Climate Adaptation) ও দুর্যোগ‑সমন্বিত উন্নয়ন। World Economic Forum
✔️ সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সশক্তি — বিশেষত নারীদের কর্মসংস্থান ও নেতৃত্ব। World Economic Forum
✔️ সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। blueearthsummit.com

এই প্রকল্পগুলি শুধু সমাজপথে সাহায্য করছে না, বরং টেকসই উন্নয়নের (SDG) লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। World Economic Forum


রুনা খানের নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি

রুনা খান তার নেতৃত্বের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত। তিনি:

🔹 Ashoka Fellow (1994) — সামাজিক উদ্ভাবন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। Club of Rome
🔹 Rolex Awards for Enterprise (2006) — উৎকর্ষ সমাজ উদ্যোগের জন্য। Club of Rome
🔹 IDB Women’s Contribution Award (2008) — নারীর উন্নয়নে অবদানের জন্য। Club of Rome
🔹 Schwab Foundation Social Entrepreneur Award (2012)Club of Rome
🔹 Green Award (2016) — পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নে। World Economic Forum

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বোর্ড ও কাউন্সিলের সদস্য, যেমন Global Dignity, British Asian Trust Bangladesh এবং Duke of Edinburgh Award Bangladesh তে অংশগ্রহণ করেন। World Economic Forum


উন্নয়ন লক্ষ্য ও রুনা খানের দর্শন

রুনা খান বলেন, “মানুষ দারিদ্র্য সহ্য করতে পারে, কিন্তু এগিয়ে চলার জন্য মর্যাদা ও আশা থাকা প্রয়োজন।” এই দর্শন তার সমগ্র কর্মজীবনকে প্রভাবিত করেছে। Wikipedia

তার উন্নয়ন মডেল “মানব‑কেন্দ্রিক” এবং “সমন্বিত উন্নয়ন” — অর্থাৎ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অংশগ্রহণ সবকিছু একসঙ্গে করে। Daily Times Of Bangladesh


রুনা খানের সাহিত্য ও প্রকাশনা

রুনা খান একজন প্রকাশক ও লেখকও — তিনি মোট ৮টি বই লিখেছেন, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা সম্পর্কিত পাঠ্যপুস্তক, পঠন উপকরণ ও শিশু গল্প। Wikipedia


রুনা খানের প্রভাব ও আন্তর্জাতিক বক্তৃতা

রুনা খান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রোগ্রামে বক্তৃতা দিয়েছেন, যেমন World Economic Forum ও বিশ্বব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে — যেখানে তিনি সামাজিক উদ্ভাবন, নেতৃত্ব, মূল্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন চিন্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। World Economic Forum


স্থানীয় ও বৈশ্বিক উদ্যোগে রুনা খানের প্রভাব

রুনা খানের নেতৃত্বে Friendship বাংলাদেশতে শুধুমাত্র মানবিক সেবা দেয় না, বরং এটি সম্প্রদায়‑ভিত্তিক পরিবর্তনের নীতি তৈরি করছে। স্থানীয়দের স্ব‑সাহায্য ও টেকসই উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে যা ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক উদাহরণ হতে পারে। blueearthsummit.com


উপসংহার

রুনা খান একজন সত্যিকারের চেঞ্জমেকার (Change Maker) — যিনি শিক্ষামূলক চিন্তা থেকে শুরু করে সমাজসেবার বিস্তৃত পরিবেশের মাঝে মানুষকে সত্ত্বা ও সম্ভাব্য নির্ধারণে সাহায্য করেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মশৈলী বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

রুনা খানের কাজ আমাদের শেখায় — টেকসই উন্নয়ন শুধুমাত্র প্রকল্প নয়; এটি একটি দর্শন, মূল্য ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে আসে।


সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)


রুনা খান কে?

রুনা খান একজন বাংলাদেশী সমাজ উদ্যোক্তা, সমাজসেবী ও শিক্ষা এবং দারিদ্র্য নিরসনে কাজ করা বিশিষ্ট ব্যক্তি। তিনি Friendship NGO প্রতিষ্ঠা করেছেন।



Friendship NGO কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?


Friendship NGO ২০০২ সালে রুনা খান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়।

রুনা খান কী ধরনের স্বীকৃতি পেয়েছেন?

তিনি Ashoka Fellow, Rolex Laureate, Schwab Foundation Award প্রাপ্ত ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত।



রুনা খানের মূল লক্ষ্য কি?

তাঁর লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় মানব‑কেন্দ্রিক, সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো।



তিনি কি বই লিখেছেন?

হ্যাঁ, রুনা খান শিক্ষা ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন বই লিখেছেন — মোট আটটি প্রকাশনা রয়েছে।



১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন: তারেক রহমান

 

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ হওয়া সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পরে জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। আমি এদিনে দেশবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানাই শুভেচ্ছা। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ভরে উঠুক তাদের জীবন। এই দিনে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমি স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। বিদেশি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন- আমি জানাই তাদের সশ্রদ্ধ সালাম।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া স্বাধীনতাযুদ্ধ ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়, পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে। দেশের অদম্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজী রেখে এ বিজয় ছিনিয়ে আনে। তাই ১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন। আজকের এ মহান দিনে আমি সেসব বীর সেনাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই।’

Telegram Channel Join Now

তিনি বলেন, ‘শোষণমুক্ত ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক গণতান্ত্রিক নীতিমালার ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ছিল নতুন রাষ্ট্রের মর্মমূলে। কিন্তু অমানবিক ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বারবার সেই প্রত্যয়কে মাটিচাপা দিয়ে সর্বনাশা দুঃশাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়। থামিয়ে দেয় বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা।’

১৯৭১-এ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্তকারীদের নীলনকশা এখনও চলমান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগ্রাসী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অবজ্ঞা করার ঔদ্ধত্য দেখায়। ওই অপশক্তির এদেশীয় এজেন্টরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন করার চক্রান্তজাল বুনে চলেছে। এরা ১৬ গত বছর ধরে একের পর এক প্রহসনের একতরফা নির্বাচন করে জনমতকে তাচ্ছিল্য করেছে। এদেশের মানুষের সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়। নাগরিক স্বাধীনতা অদৃশ্য করে মানুষকে করে অধিকারহারা। এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিরুদ্দেশ করা হয়। নিরুদ্দেশ করা হয় সংবাদপত্রসহ বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা। গণতন্ত্রহীন দেশে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপটে সর্বত্র হতাশা, ভয় আর নৈরাজ্যের অন্ধকার নেমে আসে। ক্ষমতা জবরদখলকারীরা জনগণের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে অদৃশ্য ও হত্যা করে এবং লাখ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর নৈরাজ্যময় হয়ে উঠে। যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সেই অবিসংবাদিত নেত্রীকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে অন্ধকার কারাগারে রাখা হয়েছিল। অমানবিক নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য একের পর এক গণবিরোধী পদক্ষেপ নিতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে মহান বিজয় দিবসের প্রেরণায় বলীয়ান হয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে এবং ২৪ এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার দুনিয়া-কাঁপানো আন্দোলনে তারা পরাজিত হয়। পতন হয় ইতিহাসের এক নিষ্ঠুরতম একনায়কের। দেশে আবার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা জেগে উঠে। এই মুহূর্তে নির্বিঘ্নে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য এই বিজয়ের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক-আমরা বিভাজন ভুলে, হিংসা ভুলে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকবো। মহান বিজয় দিবসে আমি দেশবাসী সকলের প্রতি সেই আহবান জানাই। বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।’

সঞ্জয় দত্ত

সঞ্জয় দত্ত

 সঞ্জয় বলরাজ দত্ত (জন্ম:২৯ জুলাই ১৯৫৯) হলেন ভারতের একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি অভিনয়শিল্পী দম্পতি সুনীল দত্ত  নার্গিস দত্তের সন্তান। ১৯৮১ সালে রকি চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর তিনি ১৮০-এর অধিক হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যদিও দত্ত প্রণয়ধর্মী থেকে শুরু করে হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করে সফলতা অর্জন করেছেন, নাট্যধর্মী ও মারপিঠধর্মী চলচ্চিত্রে গ্যাংস্টার, গুন্ডা ও পুলিশ অফিসার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বেশি সমাদৃত হয়েছেন। এইসব চরিত্রে তার কাজের জন্য ভারতীয় গণমাধ্যম ও দর্শক তাকে "ডেডলি দত্ত" বলে অভিহিত করে। তার অভিনীত চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে খলনায়ক (১৯৯৩), বাস্তভ - দি রিয়েলিটি (১৯৯৯), মুন্না ভাই এম.বি.বি.এস. (২০০৩), কেজিএফ: চ্যাপ্টার টু (২০২২) অন্যতম। তিনি আমির খানের সাথে মিলে ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পিকে ছবিতে অসাধারণ এক পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন।[] ৩৭ বছরের অধিক চলচ্চিত্র জীবনে তিনি দুটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, দুটি আইফা পুরস্কার, দুটি বলিউড মুভি পুরস্কার, দুটি স্ক্রিন পুরস্কার, তিনটি স্টারডাস্ট পুরস্কার ও একটি করে গ্লোবাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম পুরস্কার ও বঙ্গ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার অর্জন করেছেন।

১৯৯৩ সালের এপ্রিলে দত্তকে সন্ত্রাসী ও সংহতি নাশমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেফতার করা হয়। তার উপর আনা চার্জ মওকুফ হলেও তাকে বেআইনি অস্ত্র রাখার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সাজা ভোগকালীন ভাল ব্যবহার ও আচরণের জন্য ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

প্রারম্ভিক জীবন

সঞ্জয় এর পিতামাতা হচ্ছেন প্রয়াত হিন্দি চলচ্চিত্র অভিনেতা-অভিনেত্রী সুনীল দত্ত এবং নার্গিস, যারা দুজনেই বলিউড চিত্র জগতে সুপরিচিত ছিলেন। সঞ্জয় একজন ধার্মিক মানুষ, হিন্দু ধর্মের প্রতি তার প্রগাঢ় আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।[] তার মা নার্গিস ১৯৮১ সালে মারা যান, এই ১৯৮১ সালে সঞ্জয় অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র রকি মুক্তি পায়, চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবার আগেই নার্গিস মারা যান, অনেকে মনে করেন মা নার্গিসের মৃত্যুর শোকেই সঞ্জয় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন।[] শিশুশিল্পী হিসেবে সঞ্জয় ১৯৭২ সালের চলচ্চিত্র 'রেশমা অউর শেরা'তে অভিনয় করেছিলেন, চলচ্চিত্রটিতে তার বাবা সুনীল দত্ত ছিলেন, সঞ্জয়কে চলচ্চিত্রটিতে কিছুক্ষণের জন্য বাচ্চা কাওয়ালি গায়ক হিসেবে দেখানো হয়।[]

কর্মজীবন

প্রারম্ভিক কর্মজীবন ও মাদকাসক্তি

১৯৮১ সালে রকি দিয়ে সঞ্জয় দত্তের বলিউড চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন টিনা মুনিম। তার পিতা সুনীল দত্ত পরিচালিত চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে হিট তকমা লাভ করেন। ১৯৮২ সালে তিনি সে বছরের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র বিধাতা ও ১৯৮৩ সালে সুপারহিট ম্যাঁ আওয়ারা হুঁ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৮৫ সালে প্রায় তিন বছর পর তিনি জান কি বাজি (১৯৮৫) ছবিতে কাজ করেন। এটি তার মাদক গ্রহণকালীন পর্যায় পরবর্তী প্রথম চলচ্চিত্র। ব্যক্তিগত সমস্যা ও মাদকাসক্তি নিরাময়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পূর্বে তার অভিনীত ও মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকটি চলচ্চিত্র বক্স অফিসে ফ্লপ হয় এবং তিনি পুনরায় চলচ্চিত্রে ফিরে আসতে নারাজ ছিলেন।

চলচ্চিত্রে সফলতা

জান কি বাজি ছবিটি সফল হলে ১৯৮০-এর দশকে তিনি ঈমানদারইনাম দাস হাজারজিতে হ্যাঁ শান সে (১৯৮৮), মার্দোঁ ওয়ালি বাত (১৯৮৮), ইলাকা (১৯৮৯), হাম ভি ইনসান হ্যাঁ (১৯৮৯), কানুন আপনা আপনা (১৯৮৯), ও তাকাতওয়ার-এর মত সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে।

ব্যক্তিগত জীবন এবং মিডিয়ার ভাবমূর্তি

২০১১ সালে পত্নী মান্যতার সঙ্গে সঞ্জয়

১৯৮০-এর দশকের শুরুতে তিনি তার প্রথম চলচ্চিত্রের সহশিল্পী টিনা মুনিমের সাথে সম্পর্ক গড়েন।[] তাদের সম্পর্কের সমাপ্তির পর তিনি ১৯৮৭ সালে অভিনেত্রী ঋচা শর্মাকে বিয়ে করেন।[] ঋচা ১৯৯৬ সালে মস্তিকের টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১৯৮৮ সালে তাদের কন্যা ত্রিশলা জন্মগ্রহণ করে। ঋচা মারা যাবার পর সঞ্জয় ত্রিশলাকে নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ঋচার মা-বাবার কাছে আইনি লড়াইয়ে হেরে যান। ত্রিশলা এখন তার নানা-নানীর সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে।[] সঞ্জয় ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিমানবালা থেকে মডেল হওয়া রিয়া পিল্লাইকে বিয়ে করেন।[] ২০০৫ সালে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং ২০০৮ সালে তা বিবাহবিচ্ছেদে রূপ নেয়। এরপর সঞ্জয় ২০০৮ সালে গোয়াতে গোপন এক অনুষ্ঠানে মান্যতা দত্তের (দিলনেওয়াজ শেখ) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।[১০] বিয়ের আগে তারা দুই বছর প্রেম করেছিলেন।[১১] ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর তারিখে সঞ্জয় আর মান্যতা জমজ ছেলেমেয়ের পিতামাতা হন।[১২]

বোম্বে বোমা হামলার সাথে সম্পৃক্ততা

১৯৯৩ সালে মুম্বই শহরে ধারাবাহিক বোমা হামলা হয়। গুজব উঠেছিল বলিউডের যারা এই হামলার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন সঞ্জয় দত্ত তাদের একজন। প্রমাণ মিলে যে দত্ত মুম্বই বোমা হামলার সাথে জড়িত আবু সালেম ও রিয়াজ সিদ্দিকীর কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র এনে তার বাড়িতে রাখেন। অভিযোগ ওঠে এই অস্ত্রগুলো সন্ত্রাসীদের বড় অস্ত্র হস্তান্তরের সাথে জড়িত ছিল। দত্ত তার স্বীকারোক্তিতে বলেন তিনি তার সনম চলচ্চিত্রের প্রযোজকের নিকট থেকে তার নিজের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য একটি একে-৫৬ রেখেছিলেন।[১৩]

১৯৯৩ সালের এপ্রিলে সন্ত্রাসী ও সংহতি নাশমূলক কর্মকাণ্ড (সংরক্ষণ) আইনের অধীনে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৯৩ সালের ৫ই মে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করে, কিন্তু ১৯৯৪ সালের ৪ঠা জুলাই তার জামিন বাতিল করা হয় এবং তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। ১৯৯৫ সালের ১৬ই অক্টোবর তিনি জামিনে ছাড়া পান।[১৪]

স্বাস্থ্য সমস্যা

২০২০ সালের আগস্টে সঞ্জয়ের ফুসফুসে তৃতীয় ধাপের ক্যান্সার ধরা পড়ে।[১৫] তিনি মুম্বইতে তার চিকিৎসা করান এবং এখন তিনি ফুসফুসের ক্যান্সার থেকে সেরে উঠেছেন।[১৬]

চলচ্চিত্রের তালিকা

ব্লকবাস্টার ট্রেড ম্যাগাজিন লঞ্চে সঞ্জয় দত্ত।

চলচ্চিত্র

Films that are in productionচিহ্নিত চলচ্চিত্রগুলির নির্মাণ চলছে
বছরচলচ্চিত্রচরিত্রপরিচালক
১৯৮১রকিরাকেশ / রকি ডি সুজাসুনীল দত্ত
১৯৯১সাজনঅমন বার্মা / সাগরলরেন্স ডি'সুজা
১৯৯৩খলনায়কবলরাম রাকেশ প্রসাদ / বাল্লুসুভাষ ঘাই
১৯৯৯বাস্তভ : দি রিয়েলিটিরঘুনাথ শিবলখরমহেশ মাঞ্জরেকর
২০০০মিশন কাশ্মীরএনায়েত খানবিধু বিনোদ চোপড়া
২০০২হাতিয়ার : ফেস টু ফেস উইথ রিয়েলিটিরোহিত রঘুনাথমহেশ মাঞ্জরেকর
২০০৩মুন্না ভাই এম.বি.বি.এস.মুরলি প্রসাদ শর্মা / মুন্না ভাইরাজকুমার হিরানী
২০০৬লাগে রাহো মুন্না ভাইমুরলি প্রসাদ শর্মা / মুন্না ভাইরাজকুমার হিরানী
২০০৯অল দি বেস্ট : ফান বিগিন্সধরম কাপুররোহিত শেট্টি
২০১১রাস্কেলসচেতন চৌহানডেভিড ধাওয়ান
২০১২সন অব সরদারবিল্লুআশ্বীন ধির
২০১৩জাঞ্জিরশের খানঅপূর্ব লাখিয়া
২০১৪পিকেভৈরন সিংহ (ব্যান্ড বাদক বড় ভাই)রাজকুমার হিরানী
২০১৮সঞ্জুসঞ্জয় দত্তরাজকুমার হিরানী
২০১৯প্রস্থানামবলরাজ কুন্ডুদেবা কত্তা
পানিপথআহমদ শাহ আবদলিআশুতোষ গোয়ারিকর
২০২০সড়ক ২ ছুরিরবিমহেশ ভাট
শামশেরা ছুরিআশুবীর সাক্সেনাকরণ মালহোত্রা
কেজিএফ: চ্যাপ্টার টু ছুরিআধীরাপ্রশান্ত নীল

জনসংস্কৃতিতে

সঞ্জয় দত্তের মাদকাসক্ত পর্যায় ও বিতর্কিত সন্ত্রাসী জীবন নিয়ে রাজকুমার হিরানী নির্মাণ করেন সঞ্জু। ছবিটিতে রণবীর কাপুর তার ভূমিকায় অভিনয় করেন।[১৭][১৮] ছবিটি বিশ্বব্যাপী ২০১৮ সালের ২৯শে জুন মুক্তি পায়।[১৯][২০]

তথ্যসূত্র

  1. "I would love to write my biography: Sanjay Dutt"। The Times of India। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১৪
  2. "Sanjay Dutt shot for his role in 'P.K' before going to jail: Rajkumar Hirani"। indianexpress..com। ৫ মার্চ ২০১৪।
  3. Personal Life Material - Religious Views Source
  4. "Sanjay Dutt used to Drugs"। bollywoodmantra.com। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৩
  5. PTI (২ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "Sanjay Dutt to do a qawwali after 41 years in Zanjeer"। The Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৬
  6. "Throwback Interview Of Sanjay Dutt About Ex-Girlfriend Tina Munim: I Am Very Possessive About Her"। বলিউড শাদীস (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০২০
  7. "I have become a family man: Sanjay Dutt"। দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। ১১ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০২০
  8. "Sanjay Dutt's tearful reunion with daughter" (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ.কম। ১০ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০২০
  9. "Life and loves of Sanjay Dutt he is a really fantastic" (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। এনডিটিভি। ১৪ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১০
  10. "Unknown starlet Dilnawaz's journey to Mrs Manyata Dutt" (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। Ibnlive.in। ৮ আগস্ট ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১০
  11. "Sanjay Dutt marries Manyata"। Reuters। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। ১৮ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১০
  12. "Manyata Dutt delivers twins"। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। ২১ অক্টোবর ২০১০। ১২ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১০
  13. "1993 Mumbai blasts: Sanjay Dutt's confessional statement"। নিউজ এইটিন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৮
  14. "From arrest to release: A complete, 23-year-long Sanjay Dutt timeline"। হিন্দুস্তান টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৮
  15. "Sanjay Dutt diagnosed with Stage 3 lung cancer, to fly to US for treatment | India News"। www.timesnownews.com। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০২১
  16. "Sanjay Dutt battles stage-3 lung cancer: Know more about causes, prevention of the condition"। The Economic Times। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০২১
  17. "বলিউড তারকা সঞ্জয় দত্তের বিভিন্ন বয়সে রণবীর"। দৈনিক প্রথম আলো। ২৪ এপ্রিল ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৮
  18. "যেভাবে 'সঞ্জু'তে রুপান্তরিত হলেন রণবীর (ভিডিও)"। দৈনিক কালের কণ্ঠ। ৭ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৮
  19. "'সঞ্জু' ছবি মুক্তি পাচ্ছে ২৯ জুন"। বৈশাখী অনলাইন। ৪ জুন ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৮[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  20. "কাল মুক্তি পাচ্ছে বায়োপিক 'সঞ্জু'"। দৈনিক ইনকিলাব। ২৮ জুন ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৮