# a b c d e f g h i j k l m n o p q r s t u v w x y z
গরমে মাথার ত্বকের সংক্রমণ এড়াতে কী করবেন?

গরমে মাথার ত্বকের সংক্রমণ এড়াতে কী করবেন?

Untitled design (3)

বসন্ত শেষে প্রকৃতিতে এসেছে গ্রীষ্মকাল, সেই সাথে নিয়ে এসেছে প্রচন্ড গরম, তাপ, ঘাম ও অত্যধিক আর্দ্র আবহাওয়া। এই গরমে মাথার ত্বকের সংক্রমণ বা স্ক্যাল্প ইনফেকশন একটি সাধারণ সমস্যা। প্রচন্ড গরমে মাথার ত্বক ঘেমে থাকে, যার ফলে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ফাংগাস খুব সহজেই আক্রমণ করে বসে।

স্ক্যাল্প ইনফেকশনের ফলে স্ক্যাল্প চুলকানো, লালচে ভাব, খসখসে ভাব দেখা দেয় এমনকি চুল পড়া বেড়ে যায়। এছাড়াও চুল রুক্ষ, শুষ্ক, ফ্রিজি হয়ে যাওয়ার সমস্যা তো আছেই। আজকের ফিচারে মাথার ত্বকের সংক্রমণ, এর কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ নিয়ে জানবো।

গরমে মাথার ত্বকের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণ

১. স্ক্যাল্প ঘেমে থাকা

প্রচন্ড আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে আমাদের শরীর খুব সহজেই ঘেমে যায়। স্ক্যাল্পও দ্রুত ঘেমে যায় এবং চুলের কারণে এই ঘাম সহজে শুকানো অনেক সময় সম্ভব হয়না। এতে মাথার ত্বক চিটচিটে হয়ে পড়ে এবং সেখানে খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোঅর্গানিজম আক্রমণ করে৷ এজন্য গরমে মাথার ত্বকের সংক্রমণ বেড়ে যায়।

২.ব্যাকটেরিয়াল স্ক্যাল্প ইনফেকশন

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া ব্যাকটেরিয়া আক্রমণের জন্য বেশ উপযোগী। বিশেষত স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই মাথার ত্বককে আক্রমণ করে যার ফলে মাথার ত্বকে প্রদাহ, ছোট ছোট বাম্পস, চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দেয়।

৩. ফাংগাল ইনফেকশন

অতিরিক্ত গরমে আর্দ্রতা ও ঘামের জন্য মাথার ত্বকে ফাংগাল আক্রমণ দেখা দেয়। যার ফলে মাথার ত্বকে দেখা দেয় খুশকি, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস ইত্যাদি।

৪. সঠিকভাবে মাথার ত্বক পরিষ্কার না করা

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য স্ক্যাল্প খুব সহজেই ঘেমে যায় ও আগের তুলনায় বেশি পরিমাণে তেল উৎপাদন করে, যা হেয়ার ফলিকল কে আটকে দেয়। এছাড়াও ঘাম ও তেল খুব সহজেই ময়লা ও জীবাণুকে আকর্ষণ করে, তাই স্ক্যাল্প গরমের দিনে খুবই দ্রুত নোংরা হয়ে বিভিন্ন ইনফেকশন দেখা দেয়। এজন্য নিয়মিত ভালো ক্লেনজার বা শ্যাম্পু দিয়ে স্ক্যাল্প পরিষ্কার করা উচিত, তা না হলে ইনফেকশনের সমস্যা বেড়ে যায়।

৫. দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা

রোদের প্রখর তাপের নীচে সরাসরি দীর্ঘক্ষণ থাকলে তা শরীরের ত্বকের পাশাপাশি মাথার ত্বকেরও ক্ষতি করে। এর ফলেও স্ক্যাল্পে ইনফেকশন দেখা দেয়।

এছাড়াও ত্বকে বিভিন্ন এলার্জির সমস্যার জন্যেও স্ক্যাল্প ইনফেকশন হতে পারে।

মাথার ত্বকের সংক্রমণ থেকে পরিত্রাণের উপায়

১. মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলে ফাংগাস বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. গরমকালে যেহেতু খুব দ্রুতই মাথার ত্বক ঘেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই এ সময় একদিন পরপর বা প্রতিদিনই শ্যাম্পু করার প্রয়োজন হতে পারে। এটি নির্ভর করে কতো দ্রুত আপনার স্ক্যাল্প নোংরা হয়ে পড়ছে তার উপর।

৩. যেহেতু গরমে শ্যাম্পু করার পরিমাণ বাড়াতে হয় তাই এসময় একটি মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। এতে মাথার ত্বক ও চুলের ন্যাচারাল অয়েল দূর হয়ে চুল ড্রাই হয়ে যাবে না।

৪. নিজের চিরুনি, হেয়ার বনেট, তোয়ালে, বালিশ ইত্যাদি জিনিসগুলো কারো সাথে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এগুলোর মাধ্যমে খুব সহজেই একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৫. যেহেতু ভেজা ও আর্দ্র ত্বক খুব সহজেই সংক্রমিত হয় তাই গোসলের পর ভেজা চুল এবং ঘামে ভেজা চুল খুব দ্রুত শুকিয়ে নিতে হবে।

৬. সরাসরি রোদের আলো থেকে মাথার ত্বককে দূরে রাখতে হবে। মাথার ত্বক সরাসরি যেনো সানবার্নের শিকার না হয় সেজন্য মাথার ত্বক স্কার্ফ, পাতলা কাপড়, হিজাব, হ্যাট অথবা ছাতা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে৷

৮.প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। এধরনের খাবার দেহের ইমিউনিটি বাড়ায় ও বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

আশা করি উপরের টিপস গুলো মেনে চলে এই গরমেও আপনার স্ক্যাল্প থাকবে একদম ফ্রেশ আর চুল থাকবে সুন্দর ও ঝলমলে। তবে যদি সংক্রমণ অতিমাত্রায় বেড়ে যায় তাহলে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

ছবি- সাটারস্টক

ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্ন কীভাবে নেওয়া উচিত?


 নিস আহমেদ নতুন এক জোড়া জুতা কিনেছেন। প্রথম দিন জুতা পায়ে অফিস করার পর থেকেই পায়ে ফোস্কা পড়েছে। তিনি ভাবলেন দিন কয়েকের মধ্যে সেরে যাবে। কিন্তু কয়েকদিন গেলেও ফোস্কা শুকাচ্ছে না, বরং ঘা বড় হয়েছে। ভাবনায় পরে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তিনি জানতে পারলেন তার এই সমস্যা ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা। ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্ন নিয়ে বিশেষভাবে সচেতন হতে হয়। অন্যথায় সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে।

ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত রাখে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে এর প্রভাব ফেলে। ডায়াবেটিসের ক্ষতিকর প্রভাব পায়ের ওপরে বিশেষভাবে দেখা যায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিসের কারণে পায়ের স্নায়ু ও রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে পায়ে সংবেদনশীলতার অভাব, রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা এবং সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি কেন?

ডায়াবেটিসের কারণে পায়ের স্নায়ু ও রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে পায়ের স্নায়ুগুলো সংবেদনশীলতা হারাতে শুরু করে। এই অবস্থাটি নিউরোপ্যাথি নামে পরিচিত। নিউরোপ্যাথির কারণে রোগী অনেকসময় পায়ে আঘাত পেলে বা ক্ষত সৃষ্টি হলে অনুভব করতে পারে না। এ কারণে ছোটখাটো আঘাতও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। তাছাড়া ডায়াবেটিসের কারণে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলে পায়ের ক্ষত সহজে শুকায় না, এতে সংক্রমণ বা আলসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সময়মতো যত্ন না নিলে সংক্রমণ থেকে গ্যাংগ্রিনে রূপ নিতে পারে এবং সার্জারির মাধ্যমে পা কেটে বাদ দিতে হতে পারে। তাই এই ধরনের জটিলতা এড়াতে আলাদাভাবে ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অবহেলার ঝুঁকি

ডায়াবেটিস রোগীরা পায়ের সঠিক যত্ন না নিলে বিভিন্ন জটিলতায় ভুগতে পারেন। এই জটিলতাগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো:

১। নিউরোপ্যাথি: দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস পায়ের স্নায়ুগুলোর ক্ষতি করে পায়ের সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেয়। ফলে অনেক সময় আঘাত লাগলেও তা বোঝা যায় না। এই অবহেলার ফলে ক্ষত দ্রুত সংক্রমিত হয়ে গুরুতর রূপ নিতে পারে।

২। রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা: ডায়াবেটিস পায়ের রক্তনালীগুলোর উপর প্রভাব ফেলে, যা রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত করে। এ কারণে পায়ের ক্ষত শুকাতে দেরি হয় এবং সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

৩। সংক্রমণ ও আলসার: সামান্য ফোস্কা বা ক্ষতও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। পায়ের ক্ষত বা ফোস্কা যদি অবহেলা করা হয় তবে তা দ্রুত সংক্রমিত হয়ে আলসারে পরিণত হতে পারে এবং পরবর্তীতে এই সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে।

৪। গ্যাংগ্রিনঃ অবহেলার কারণে পায়ের ক্ষত বা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে তা গ্যাংগ্রিনে পরিণত হতে পারে। গ্যাংগ্রিন একটি মারাত্মক অবস্থা, যা পায়ের রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করে দেয় এবং পায়ের টিস্যুগুলো মরে যেতে থাকে। এক্ষেত্রে কখনো কখনো পা কেটে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

যেভাবে পায়ের যত্ন নিতে হবে


পায়ের যত্ন নেওয়ার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। উল্লেখযোগ্য কিছু নিয়ম হলোঃ

১। নিয়মিত পা পরীক্ষা করা: প্রতিদিন পায়ের তলা, আঙুল এবং পায়ের অন্যান্য অংশ ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত। ক্ষত, ফোস্কা, ফাটা বা লালচেভাব দেখলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

২। পরিষ্কার রাখা: প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে সাবান দিয়ে পা ধুয়ে নিন। পা ভালোভাবে শুকিয়ে নিয়ে পায়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। তবে আঙুলের ফাঁকে যেন লোশন বা ক্রিম লেগে না থাকে সেদিকে খেয়াল করুন।

৩। সঠিক জুতা ব্যবহার: আরামদায়ক, সঠিক মাপের এবং হিলবিহীন জুতা পরা উচিত। জুতা বেশি ঢিলেঢালা বা বেশি টাইট হলে পায়ে আঘাতের সম্ভাবনা বাড়ে। হিলযুক্ত বা খোলা জুতা এড়িয়ে চলা ভালো।

৪। পায়ের নখের যত্ন: পায়ের নখ কাটা ও পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। নখ কাটার সময় খুব সাবধানে কাটতে হবে যাতে আঘাত না লাগে। সাধারণত নখ ইউ (U) আকৃতিতে না কেটে স্কয়ার (Square) আকৃতিতে কাটা উচিত। এতে নখের কোণার সাথে লেগে থাকা মাংসপেশি কেটে যাওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায়।

৫। রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি: পায়ের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখার জন্য হালকা ব্যায়াম ও পায়ের আঙ্গুল নাড়ানোর অভ্যাস করুন। প্রয়োজনে একজন ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী কী ধরনের ব্যায়াম করতে হবে, সেটা জেনে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে রোগী যেন পা ক্রস করে না বসেন। এতে রক্ত সঞ্চলন বাধাগ্রস্থ হয়।

৬। ধূমপান পরিহার করা: ধূমপান রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত করে এবং ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের জটিলতা বাড়ায়। তাই ধূমপান পরিহার করুন।

সতর্কতা



১। পায়ের ক্ষত বা আঘাতকে কখনোই অবহেলা করবেন না।

২। গরম পানি বা বৈদ্যুতিক হিটিং প্যাড দিয়ে পা গরম করবেন না। যেহেতু ডায়াবেটিসের কারণে পায়ে সংবেদনশীলতা কম থাকে তাই অনেক সময় তাপের তারতম্য বোঝা যায় না। এতে পা পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩। জুতা বা মোজা পরার আগে ভালোভাবে দেখে নিন যেন কোনো কিছু দিয়ে পায়ে খোঁচা না লাগে।

৪। পায়ের কোনো সমস্যা হলে নিজে নিজে ওষুধ গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের সঠিক যত্ন নেওয়া তাদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিকভাবে পায়ের যত্ন ও সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে ডায়াবেটিক রোগীরা অনেক গুরুতর জটিলতা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারেন। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের সঠিক যত্নের ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়া।

সাধারণ প্রশ্ন-উত্তর (FAQ)


ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের যত্ন কেন জরুরি?

ডায়াবেটিসের কারণে পায়ের স্নায়ু ও রক্ত সঞ্চালন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে সামান্য ক্ষতও বড় জটিলতায় রূপ নিতে পারে।


ডায়াবেটিসে পায়ে ফোস্কা হলে কী করা উচিত?

পায়ে ফোস্কা হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরিষ্কার করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি কী?

ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি হলো স্নায়ু ক্ষতির একটি অবস্থা, যেখানে পায়ের অনুভূতি কমে যায়।


ডায়াবেটিসে পায়ের ক্ষত কেন দেরিতে শুকায়?

রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার কারণে পায়ের ক্ষত স্বাভাবিকের তুলনায় ধীরে শুকায়।


ডায়াবেটিক রোগীরা কী ধরনের জুতা ব্যবহার করবেন?

আরামদায়ক, সঠিক মাপের, হিলবিহীন ও বন্ধ জুতা ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।


ডায়াবেটিসে গ্যাংগ্রিন কীভাবে হয়?

দীর্ঘদিন সংক্রমণ ও রক্ত চলাচল বন্ধ থাকলে পায়ের টিস্যু নষ্ট হয়ে গ্যাংগ্রিন হতে পারে।


ডায়াবেটিক রোগীরা কি খালি পায়ে হাঁটতে পারবেন?

না, খালি পায়ে হাঁটলে আঘাত বা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।


ডায়াবেটিসে পায়ের নখ কীভাবে কাটবেন?

পায়ের নখ সোজা স্কয়ার আকৃতিতে সাবধানে কাটতে হবে, যেন আঘাত না লাগে।


ধূমপান ডায়াবেটিক পায়ের ওপর কী প্রভাব ফেলে?

ধূমপান রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের জটিলতা বাড়ায়।


কখন ডায়াবেটিক রোগীর চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি?

পায়ে ক্ষত, ফোস্কা, ব্যথা, লালচে ভাব বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

লিখেছেন- মাহমুদা আক্তার রোজী
ফিজিওথেরাপি কনসালটেন্ট এন্ড জেরোন্টোলজিস্ট

সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা



এক সপ্তাহ না যেতেই আবারও দেশের বাজারে সোনার দামে রেকর্ড হয়েছে। এবার ভরিপ্রতি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে। ফলে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। এটিই দেশের বাজারে সোনার ভরির রেকর্ড দাম। সোনার নতুন এই দাম আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।


আজ সোমবার রাতে সোনার মূল্যবৃদ্ধির এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সংগঠনটি বলছে, স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার দাম বেড়েছে। তাই সোনার দাম সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার থেকে সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল জুয়েলার্স সমিতি। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। আজ পর্যন্ত এই দামেই প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হয়েছে। আগামীকাল থেকে নতুন দামে বিক্রি হবে সোনা।

নতুন দর অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা হবে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম বেড়ে হবে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

আজ সোমবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের সোনার ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা। আগামীকাল থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৪ হাজার ২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৩ হাজার ৪৪১ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম বাড়বে ২ হাজার ৯১৬ টাকা।

সোনার দামের পাশাপাশি এ দফায় রুপার দামও বেড়েছে। আজকে পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ছিল ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা। তবে আগামীকাল থেকে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ভরিপ্রতি ২৯১ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৬ হাজার ২৪০ টাকা। এ ছাড়া আগামীকাল থেকে ২১ ক্যারেট রুপার দাম বেড়ে প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম প্রতি ভরি বেড়ে ৫ হাজার ১৩২ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম প্রতি ভরি বেড়ে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা হবে।

সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)

আজ দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত?

আজ ২২ ক্যারেট সোনার ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকায়।

২১ ক্যারেট সোনার দাম কত বৃদ্ধি পেয়েছে?

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা হয়েছে।

১৮ ক্যারেট সোনার নতুন দাম কত?

১৮ ক্যারেট সোনার ভরি দাম বেড়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩০ টাকা হয়েছে।

সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কত?

সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এখন প্রতি ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

রুপার দাম কত বেড়েছে?

২২ ক্যারেট রুপার দাম ২৯১ টাকা বেড়ে ৬ হাজার ২৪০ টাকা হয়েছে।

নতুন সোনার দাম কখন থেকে কার্যকর হবে?

নতুন সোনার দাম আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।

সোনার দাম বাড়ার কারণ কী?

স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি দাম সমন্বয় করেছে।

গত বৃহস্পতিবার সোনার দাম কত বেড়েছিল?

সেসময় ২২ ক্যারেটের ভরি দাম ২ হাজার ৬২৫ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায় পৌঁছেছিল।

রুপার অন্যান্য ক্যারেটের দাম কত?

২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫,৯৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫,১৩২ টাকা, এবং সনাতন রুপা ৩,৮৪৯ টাকা হয়েছে।

সোনার ও রুপার নতুন দাম কোথায় চেক করা যাবে?

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ও স্থানীয় জুয়েলার্স মার্কেট থেকে সর্বশেষ দাম জানা যাবে।


যে ১০টি উপকারিতার জন্য আপনার খাদ্যতালিকায় কিশমিশ রাখবেন

 

কিশমিশ মিষ্টি জাতীয় খাবার বলে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন না তো? শুকনো আঙুর থেকে তৈরি হওয়া কিশমিশ শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। কিশমিশ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানে ভরপুর এবং নানা রকম স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে। এতে শর্করা, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। খাদ্যতালিকায় কিশমিশ কেন রাখতে হবে, সেই তথ্য কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না।

বিভিন্ন খাবার যেমন পায়েশ, পোলাও, ফিরনি ইত্যাদি খাবার সাজাতে কিশমিশ ব্যবহার করি কিন্তু এটি পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় এবং অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়। আজ আমরা জানবো কেন আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিশমিশ রাখা উচিত এবং এর বিভিন্ন উপকারিতা কী।

কিশমিশের যত পুষ্টিগুণ

কিশমিশে রয়েছে নানা উপাদান, যা আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি সরবরাহ করে। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি-৬, খনিজ উপাদান পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। এসব উপাদান আমাদের শরীরের নানারকম শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। প্রতি ১০০ গ্রাম কিশমিশে শর্করা থাকে প্রায় ৭৯ গ্রাম, ফাইবার ৩.৭ গ্রাম এবং ফ্যাট মাত্র ০.৫ গ্রাম। এগুলো ছাড়াও কিশমিশে রয়েছে পলিফেনলস, ফ্ল্যাভোনয়েডস, ট্যানিন ও ক্যাটেচিনস নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।


খাদ্যতালিকায় কিশমিশ কেন রাখা উচিত

১। শক্তি প্রদান করেঃ

কিশমিশে থাকা শর্করা শরীরে দ্রুত শক্তি প্রদান করে। এটি আপনার শরীরের কোষকে সজীব রাখে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকতে সহায়তা করে। বিশেষ করে ব্যায়ামের পর ক্লান্তি দূর করতে কিশমিশ বেশ সহায়ক।

২। পুষ্টির ভাণ্ডারঃ

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি শক্তি বাড়ায় এবং সারাদিন আমাদের প্রোডাক্টিভ রাখতে সহায়ক।

৩। হার্ট সুস্থ রাখেঃ

পটাসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত কিশমিশ খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।


৪। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ

কিশমিশে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়া সহজ করে। এটি পেটের গ্যাস, অম্বল ও হজম সমস্যা কমায়।

৫। মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ

কিশমিশের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ওলেনোলিক অ্যাসিড মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে। এটি দাঁতের প্লাক জমা প্রতিরোধ করে, মাড়ির ইনফেকশন প্রতিরোধ করে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। কিশমিশ খেলে মুখের বাজে গন্ধ দূর হয় এবং মুখের ভেতর সজীবতা বজায় থাকে।

৬। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ

এতে পটাসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে কিশমিশ খাওয়ার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পটাসিয়াম রক্তনালীর সংকোচন কমাতে সাহায্য করে, ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।

৭। ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ

কিশমিশে থাকা ফাইবার ও শর্করা ক্ষুধা কমায় এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পেট ভরা রাখে। এটি অতিরিক্ত খাওয়া এড়াতে সাহায্য করে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। তাই স্ন্যাকস হিসেবে কিশমিশ খেতে পারেন।


৮। ত্বক ও চুলের যত্নে কার্যকরীঃ

এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে সহজে বার্ধক্যের ছাপ আসতে দেয় না। এটি ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং চুলকে মজবুত রাখে।

৯। রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করেঃ

কিশমিশে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান শরীরের প্রদাহ কমায় এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যেমন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটি কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং শরীরকে শিথিল ও সজীব রাখে।

১০। হাড় মজবুত করে ও রক্ত স্বল্পতা প্রতিরোধ করেঃ

এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে। নিয়মিত কিশমিশ খেলে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমে। এছাড়া, কিশমিশে থাকা আয়রন শরীরের হিমোগ্লোবিন উৎপাদন বাড়ায়, যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সহায়ক।

এবার নিশ্চয় বুঝতে পারলেন কেন আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিশমিশ রাখা উচিত। বিভিন্ন খাবারের সাথে যেমন, সকালের সিরিয়াল বা মিল্কশেক ইত্যাদিতে কিশমিশ যুক্ত করে খেতে পারেন। আবার খাওয়ার পর একটু মিষ্টিমুখ করার জন্যও খেতে পারেন ভেজানো কিশমিশ। সকালে খালি পেটে কয়েকটি ভেজানো কিশমিশ খেলে এর পুষ্টি উপাদান সহজে শরীরে শোষিত হয়।

তবে, অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হলে অবশ্যই বাদ দিতে হবে। কিশমিশ খাওয়ার সময় পরিমাণের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে, কারণ এতে শর্করার পরিমাণ বেশি। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি মাত্রার হওয়ায় যারা ডায়াবেটিক রোগী তারা স্বল্প পরিমাণে খেতে পারেন। সুতরাং প্রতিদিনের খাবারে কিছু পরিমাণ কিশমিশ রাখুন এবং সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করুন।

সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)

কিশমিশ কী?

কিশমিশ হল শুকনো আঙ্গুর, যা সহজে খাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর।

কিশমিশের উপকারিতা কী কী?

এটি হাড় শক্ত রাখে, হজম ভালো রাখে, শক্তি দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

প্রতিদিন কত কিশমিশ খাওয়া উচিত?

সাধারণত ২০–৩০ গ্রাম (প্রায় ১০–১২ দানা) প্রতিদিন খাওয়া ভালো।

কিশমিশের সাথে কোন খাবার খেলে ভালো লাগে?

দুধ, দই, বাদাম, ওটস বা স্যালাডের সঙ্গে খেতে পারা যায়।

কিশমিশ কি ওজন বাড়ায়?

ক্যালোরি আছে, তাই অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়াতে পারে, তবে পরিমিত খেলে স্বাস্থ্যকর।

কিশমিশ হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী কি?

হ্যাঁ, এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে।

বাচ্চাদের জন্য কিশমিশ নিরাপদ কি?

হ্যাঁ, তবে ছোট বাচ্চাদের গিলে ফেলা ঝুঁকি এড়াতে কেটে খাওয়ানো ভালো।

কিশমিশ কীভাবে সংরক্ষণ করা উচিত?

ঠান্ডা, শুকনো জায়গায় বা এয়ারটাইট কন্টেইনারে সংরক্ষণ করুন।

কিশমিশ রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে কি?

হ্যাঁ, এতে লৌহ থাকে যা রক্তশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে।

কোন সময় কিশমিশ খাওয়া ভালো?

সকাল বা সন্ধ্যায় খাওয়া ভালো, বা স্ন্যাকস হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

কিশমিশ হজমে কিভাবে সাহায্য করে?

এতে ফাইবার আছে যা পাচনতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

গর্ভবতী নারীদের জন্য কিশমিশ কতটা উপকারী?

কিশমিশ লৌহ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ, যা গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

কিশমিশ দই বা দুধের সঙ্গে খাওয়া কেন ভালো?

প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম সহায়ক হওয়ায় এটি হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে।

কিশমিশ কি চুল ও ত্বকের জন্য ভালো?

হ্যাঁ, এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

কিশমিশ কি diabetics খাবার হিসেবে নিরাপদ?

পরিমিত পরিমাণে হ্যাঁ, তবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কিশমিশ কি শক্তি বৃদ্ধি করে?

হ্যাঁ, এতে প্রাকৃতিক শর্করা ও পুষ্টি থাকায় শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে।

কিশমিশ কি হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে?

হ্যাঁ, এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় রক্তনালী ও হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে।

কিশমিশ কোন ধরনের খাবারের সঙ্গে খাওয়া যায়?

দূধ, দই, ওটমিল, স্যালাড, মিষ্টি বা কেকের সঙ্গে খাওয়া যায়।

কিশমিশ কেটে খাওয়া উচিত কি?

ছোট বাচ্চা বা গিলে খাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে কেটে খাওয়া ভালো।

কিশমিশ কি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

হ্যাঁ, এতে ভিটামিন এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

কিশমিশ কি হাড়ের জন্য কার্যকর?

হ্যাঁ, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ হওয়ায় হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

কিশমিশের রঙের পার্থক্য কি উপকারিতায় প্রভাব ফেলে?

প্রকৃতপক্ষে, লাল বা কালো কিশমিশ পুষ্টিগুণে ভিন্নতা কম, সব ধরনের কিশমিশই উপকারী।

কিশমিশ কি দীর্ঘমেয়াদে খাবার স্বাস্থ্যকর?

হ্যাঁ, পরিমিতভাবে প্রতিদিন খেলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

কিশমিশ কি অন্য শুকনো ফলের সঙ্গে তুলনীয়?

হ্যাঁ, এটি প্রাকৃতিক শর্করা ও ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং অন্যান্য dried fruits-এর মতো স্বাস্থ্যকর।


ছবি- সাটারস্টক

পাইলস বা অর্শ্বরোগ কেন হয়? জেনে নিন এর প্রতিকার


মলদ্বারের নানা রকম রোগের মধ্যে একটি বহুল পরিচিত রোগ পাইলস। এটি একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও কষ্টদায়ক রোগ। পাইলস বা অর্শ্বরোগ কে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় “হেমোরয়েড” (Hemorrhoids) বলা হয়। এ রোগে মলদ্বারের নিচের দিকের রক্তনালীগুলো ফুলে উঠে স্ফীত হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে মলদ্বারের আবরণ বা ঝিল্লীসহ নিচের দিকে নেমে আসে। যার ফলে মলত্যাগের সময় অস্বস্তি, চুলকানি, ব্যথা ও রক্তনালী ফেটে যেয়ে রক্তপাতের কারণ হতে পারে। যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি তাদের মধ্যে এই রোগটি বেশি দেখা যায়। পাইলস বা অর্শ্বরোগ নিয়ে আজ আমরা বিশদে জানবো।

পাইলসের প্রকারভেদ

পাইলস প্রধানত দুই ধরনের-

অভ্যন্তরীন পাইলস বা অর্শ্বরোগ

প্রচলিত অর্থে পাইলস বলতে অভ্যন্তরীণ পাইলসকেই বোঝায়। এটি মলদ্বারের ভেতরের দিক থেকে শুরু হয়। এই ধরনের পাইলসের প্রধান উপসর্গ হল মলত্যাগের সময় মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত ও মলদ্বার বের হয়ে আসা। এই ধরনের পাইলসে সাধারণত ব্যাথা হয়না। যদি ভেতরের পাইলস মলদ্বার দিয়ে বাইরে চলে আসে এবং ভেতরে ঢুকানো সম্ভব না হয় বা ইনফেকশনের মতো কোনও জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে ব্যথা হতে পারে। তীব্রতার উপর ভিত্তি করে এদের গ্রেড I থেকে গ্রেড IV পর্যন্ত ভাগ করা হয়েছে।


  • গ্রেড I- মলদ্বারের ভেতরের আস্তরণে ছোট ফোলাভাব যা দেখা বা অনুভব করা যায় না।
  • গ্রেড II- এটি আকারে একটু বড় হয়ে থাকে যা মলত্যাগের সময় বাইরে বের হয়ে আসে আবার নিজে থেকেই ভেতরে চলে যায়।
  • গ্রেড III- এ ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় আবরণী ঝিল্লী মাংসপিন্ডের মত বাইরে বের হয়ে আসে এবং একে হাত দিয়ে ঠেলে ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয়।
  • গ্রেড IV- এ ক্ষেত্রে মলদ্বার বাইরে বের হয়ে আসে এবং একে ঠেলে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায় না। এক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।

বাহ্যিক পাইলস 

এ ছাড়া মলদ্বারের মুখে ও বাইরে এক ধরনের পাইলস হয়ে থাকে যাকে বাহ্যিক পাইলস বলে। এটিতে সাধারণত ব্যাথা হয়। মলদ্বারের মুখে ছোট শক্ত মাংসপিণ্ডের মতো কিছু অনুভূত হয়। কখনো কখনো এটি ফেটে রক্তপাত হতে পারে।

লক্ষণ

  • মলদ্বার দিয়ে উজ্জ্বল লাল রঙের রক্তপড়া (মলত্যাগের সময় বা মলত্যাগ ছাড়াও)
  • পায়ুপথের ফোলা ভাব এবং মিউকাস নিঃসরনের কারণে মলদ্বারের চারপাশের ত্বকে চুলকানি ও জ্বালা পোড়া হতে পারে
  • মলদ্বারে ব্যাথা ও অস্বস্তি হতে পারে
  • মলদ্বারের চারপাশে ফোলা ভাব থাকতে পারে
  • মলদ্বারের কাছে ছোট পিন্ড বা মাংসের চাকার মত লাগতে পারে

পাইলস নির্ণয়ের পদ্ধতি

পাইলস/হেমোরয়েড সাধারণত শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। ডিজিটাল রেক্টাল এক্সামিনেশন (DRE) এর মাধ্যমে চিকিৎসকরা মলদ্বারের ভেতরে পর্যবেক্ষণ করে হেমোরয়েডের ধরন নির্ণয় করে থাকেন।

কী কারণে পাইলস হয়ে থাকে?

মলদ্বারের নিচের অংশে অতিরিক্ত চাপের কারণে রক্তবাহী শিরায় চাপ পড়ে এবং এর ফলে শিরা ফুলে যেতে পারে। পরবর্তিতে মলত্যাগের সময় শিরা ফেটে রক্তপাত হতে পারে। এর কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে,

  • মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেয়া
  • দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা
  • বেশি সময় টয়লেটে বসে থাকা
  • আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া
  • পানি কম পান করা
  • অতিরিক্ত ওজন, যা পায়ুপথের আশেপাশের শিরায় চাপ ফেলতে পারে
  • গর্ভাবস্থা
  • ভারী মালপত্র বহন করা
  • বার্ধক্য
  • দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া

এ সমস্ত কারণে মলদ্বারের শিরার সহন ক্ষমতা হ্রাস পায়। এর ফলে শিরা প্রসারিত হয় ও শিরার প্রাচীর পাতলা হয়ে যায় এবং মলত্যাগের সময় শিরা ফেটে রক্তপাত হয়।

চিকিৎসা

১) ঘরোয়া চিকিৎসাঃ ফাইবার জাতীয় খাবার যেমন ফলমূল, শাকসবজি বেশি বেশি করে খেতে হবে যাতে মল নরম হয় এবং মলত্যাগ সহজ হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২৫-৩০ গ্রাম ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পানি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে, এবং পাইলসের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শিরার উপর চাপ কম পড়ে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও দিনে ২-৩ বার ১০-১৫ মিনিটের জন্য উষ্ণ গরম পানিতে বসলে কিছুটা উপশম হয়।


২) ঔষধের মাধ্যমেঃ হাইড্রোকর্টিসন জাতীয় মলম,ক্রিম বা সাপোজিটরি ব্যবহার করে সাময়িক ভাবে ব্যথা, চুলকানি এবং ফোলা ভাবের উপশম হতে পারে। এছাড়াও মুখে খাবার ঔষধ ব্যবহার করেও কিছুটা আরাম পাওয়া যেতে পারে। তবে এ সবই সাময়িক উপশমের উপায়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

৩) শল্যচিকিৎসাঃ অপারেশনের মাধ্যমে পাইলস বা অর্শ্বরোগ এর চিকিৎসার বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে যেমনঃ

রাবার ব্যান্ড লাইগেশন- এই পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ পাইলসের গোড়ায় একটি ছোট্ট রাবার ব্যান্ড স্থাপন করা হয়, যার ফলে এতে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে যায়।

স্ক্লেরোথেরাপি- এই পদ্ধতিতে হেমোরয়েডকে সঙ্কুচিত করার জন্য এক প্রকার রাসায়নিক দ্রবণ ইনজেকশন দেয়া হয়।

লেজার কোয়াগুলেশন- লেজার রশ্মির মাধ্যমে হেমোরয়েড এর টিস্যু পুড়িয়ে দেয়া হয়।

হেমোরইডেক্টমি- এ পদ্ধতিতে অপারেশনের মাধ্যমে সাধারণত বড় হেমোরয়েড টিস্যু অপসারণ করা হয়।

স্ট্যাপল্ড হেমোরয়েডোপেক্সি বা লঙ্গো (Longo) – এ পদ্ধতিতে একটি বিশেষ স্ট্যাপলিং ডিভাইস ব্যবহার করা হয় যার মাধ্যমে হেমোরয়েডের টিস্যু অপসারণ এবং নিচে নেমে আসা টিস্যু কে পুনরায় প্রতিস্থাপন করা যায়।

পাইলস বা অর্শ্বরোগ এর জটিলতা

এই সমস্যা প্রাণনাশকারি নয় তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে নানান রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। তার মধ্যে রক্তশূন্যতা ও ইনফেকশন অন্যতম।

পাইলস বা অর্শ্বরোগ বা হেমোরয়েডের সমস্যা খুবই সাধারণ হলেও ব্যথা ও অস্বস্তির জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন, ঘরোয়া প্রতিকার ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যা চিরতরে নির্মূল করা যায়। তবে পাইলসের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে কারণ অনেকসময় রক্তপাতের কারণ পাইলস ছাড়াও অন্য গুরুতর রোগও হতে পারে। তাই এসব লক্ষণের কোনটি দেখা দিলে সংকোচ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)

পাইলস বা অর্শ্বরোগ কী?

পাইলস বা অর্শ্বরোগ হল মলদ্বারের রক্তনালীর ফোলা ও প্রদাহ, যা ব্যথা, রক্তপাত ও অস্বস্তি সৃষ্টি করে।

পাইলসের প্রধান উপসর্গ কী কী?

রক্তপাত, ব্যথা, ফোলা ভাব, চুলকানি, এবং মলদ্বার থেকে টিস্যু বের হওয়া সাধারণ উপসর্গ।

পাইলস কেন হয়?

অতিরিক্ত চাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য, টয়লেটে দীর্ঘ সময় বসা, পানি কম খাওয়া, ওজন বেশি থাকার কারণে পাইলস হয়।

পাইলস কোন বয়সের লোকেরা বেশি লাভ?

বিশেষত ৫০ বছর থেকে বেশি বয়সীদের মধ্যে পাইলস বেশি দেখা যায়, তবে যেকোনো বয়সেই হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে পাইলসের সম্পর্ক কী?

দীর্ঘকাল ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মলত্যাগের সময় বেশি চাপ পড়ে, যার ফলে পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

পাইলস বাড়তি ওজনের ফলে হয় কি?

হ্যাঁ, বেশি ওজন পায়ুপথের রক্তনালীতে চাপ বাড়িয়ে পাইলসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পাইলস হওয়ার সময় কি রক্তপাত হওয়া স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, মলত্যাগের সময় রক্তপাত পাইলসের একটি সাধারণ লক্ষণ।

পাইলস কি গর্ভাবস্থায় বেশি দেখা যায়?

হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ ও চাপের কারণে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পাইলসের ঘরোয়া প্রতিকার কী কী?

ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি, হালকা ব্যায়াম এবং গরম পানিতে Sitz Baths সাহায্য করে।

কি ওষুধ পাইলসের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে?

হাইড্রোকর্টিসনজাতীয় মলম বা ক্রিম ব্যথা ও চুলকানি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

পাইলস আর শল্যা চিকিৎসা কখন প্রয়োজন?

যখন ঘরোয়া ও ওষুধে উন্নতি না হয় বা বড় পাইলস থাকলে শল্য চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

পাইলস কি আবার হতে পারে?

হ্যাঁ, প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রা পরিবর্তন না করলে পাইলস পুনরায় হতে পারে।

কোন খাবার পাইলসের জন্য ভালো?

ফল, শাকসবজি, দানা ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রোজগার করলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে পাইলসের ঝুঁকি কমে।

পানি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে মল নরম থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমে, যা পাইলস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

পাইলস কি সংক্রামক?

না, পাইলস একে অপরকে সংক্রামিত করে না। এটি শরীরের ভেতরের চাপের কারণে হয়।

কোন ব্যায়াম পাইলস প্রতিরোধে সাহায্য করে?

হালকা হাঁটা, পায়ে ব্যায়াম ও যোগ ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

পাইলস কি জীবনযাত্রার কারণে হয়?

হ্যাঁ, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, কম চলাফেরা ও খারাপ খাদ্য অভ্যাস পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।

পাইলস কি অ্যানিমিয়ার কারণ হতে পারে?

দীর্ঘমেয়াদি রক্তপাতের কারণে শারীরিক রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) হতে পারে।

পাইলস কত দ্রুত স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে?

হালকা পাইলস কয়েক সপ্তাহে উন্নতি হয়; জটিল বা বড় পাইলস বেশি সময় নিতে পারে।

পাইলস চিকিৎসায় কি ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি?

হ্যাঁ, যদি ব্যথা, রক্তপাত বা জটিলতা বেশি থাকে, ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


ছবি- সাটারস্টক

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির ডায়েট কেমন হবে?


ডে
ঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ জ্বরে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খাবারের রুচি একদম কমে যায়। তাই জ্বরের তীব্রতা কমানোর পাশাপাশি রোগীর দেহের সঠিক পুষ্টি চাহিদা বজায় রাখার জন্য এ সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় রোগীর খাবার এমন হওয়া উচিত যা পুষ্টিকর, দ্রুত হজম হয় এবং সেই সাথে খেতেও ভালো লাগে। চলুন তাহলে জেনে নিই, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর খাবার কেমন হওয়া উচিত।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির খাদ্যতালিকা

প্রথমত ডেঙ্গু জ্বর হলে প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে দেহকে কীভাবে হাইড্রেটেড রাখা যায়। সারাদিনে কমপক্ষে ৩ লিটার পানি পান করতে হবে। জ্বর হলে অনেক সময় পানি পান করতে অনীহা দেখা যায়, তাই পানির চাহিদা পূরণ করতে পানির পাশাপাশি তাজা ফলের রস, ডাবের পানি পান করতে হবে।

ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল

ভিটামিন সি যুক্ত খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং খাবারের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। সেই সাথে দ্রুত আরোগ্য লাভেও সহায়তা করে। মাল্টা, কমলা, লেবু, পেয়ারা, স্ট্রবেরি, পেঁপে, পাকা বেল, নাশপাতি, আনারস, ডালিম সহ পানি জাতীয় ফল ও ফলের রস খাওয়া এ সময় অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে ডাবের পানি বা লেবুর শরবত দেওয়া যেতে পারে। এগুলো শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে।

তরল জাতীয় খাবারের প্রয়োজনীয়তা

ডেঙ্গু জ্বরের সময় রোগীকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে তরল জাতীয় খাবার। তরল খাবার হজমে সহজ এবং এগুলো শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনতেও সহায়তা করে। তরল খাবার হিসেবে যে খাবারগুলো দেওয়া যেতে পারে সেগুলো হলো মিক্সড ভেজিটেবল স্যুপ, টমেটো স্যুপ, চিকেন বা কর্ণ স্যুপ দেওয়া যেতে পারে। এতে পানির চাহিদা পূরণ হবে, পাশাপাশি প্রোটিন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণ হবে।

সহজপাচ্য খাবার 

তরল খাবারের পাশাপাশি অর্ধতরল খাবার যেমন- নরম সেদ্ধ করা খাবার, জাউ ভাত, ভাতের মাড়, চিড়া ভেজানো পানি, সুজি, সাগু ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। এসব খাবার সহজপাচ্য এবং এ সময় দ্রুত শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত

এই সময়ে কিছু খাবার একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। যেমনঃ ভাজা পোড়া, বাসি খাবার, বেশি মশলা যুক্ত খাবার, পনির, বাদাম, ঘি, তৈলাক্ত খাবার, গরু বা খাসির মাংস, মাংসের চর্বি ইত্যাদি। এগুলো খেতে মুখে অনেক সময় সুস্বাদু লাগলেও আসলে ডেঙ্গু রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এসব খাবার রোগীর হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং অসুস্থতা বৃদ্ধি করতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে। এ সময় খাবারে রুচি না থাকলেও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে আর ভালোভাবে বিশ্রাম নিতে হবে। যে কোনও ধরনের জটিলতা যেমনঃ জ্বর খুব বেশি বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত পেটে ব্যথা বা কোনও ধরনের রক্তপাত দেখা দিলে সাথে সাথে হাসপাতালে যেতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, যেন সহজে এ জ্বরে আক্রান্ত না হয়। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ। সবাই ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।


সাধারণ প্রশ্ন‑উত্তর (FAQ)

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে ডায়েট কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ডেঙ্গুতে শরীর দুর্বল হয় এবং পুষ্টির চাহিদা বাড়ে, তাই সঠিক খাদ্য শরীরের শক্তি ও আরোগ্য উন্নত করে।

ডেঙ্গু রোগীদের কতটা পানি খেতে হবে?

প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ লিটার পানি বা তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে যাতে হাইড্রেশন বজায় থাকে।

ডেঙ্গুতে কোন ফল বেশি উপকারী?

ভিটামিন সি‑সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা, পেয়ারা, স্ট্রবেরি ও ডালিম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

তরল জাতীয় খাবার কি খাওয়া উচিত?

হ্যাঁ, মিক্সড ভেজিটেবল স্যুপ, টমেটো স্যুপ ও চিকেন স্যুপ হজম সহজ করে এবং শক্তি প্রদান করে।

ডেঙ্গুতে কি কেবল পানি খেলে হবে?

না, পানি ছাড়াও ফলের রস, ডাবের পানি, স্যুপ ইত্যাদি তরল খাবার শরীরকে দ্রুত হাইড্রেটেড রাখে।

ডেঙ্গুতে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত?

ভাজা, তৈলাক্ত, বেশি মশলা, বাদাম, ঘি ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

ডেঙ্গুতে সহজপাচ্য খাবারের উদাহরণ কী?

জাউ ভাত, সেদ্ধ খাবার, চিঁড়া ভেজানো পানি, সুজি ইত্যাদি সহজপাচ্য।

ডেঙ্গু রোগীর হজম কেমন রাখলে ভালো?

পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার + সহজপাচ্য খাদ্য হজম সহজ করে এবং শক্তি দেয়।

ডেঙ্গুতে প্রোটিন কোথা থেকে পাওয়া যায়?

চিকেন স্যুপ, ডিম বা পোল্ট্রি‑ভিত্তিক হালকা খাবার থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়।

ডেঙ্গুর সময় হজম কঠিন হলে কি করতে হবে?

তরল জাতীয় খাবার ও সহজপাচ্য খাদ্য বেশি খেলেই হজম সহজ হয় ও শক্তি ফেরে।

ডেঙ্গুতে শরীরের ব্যথা ও দুর্বলতা কমাতে কোন খাবার ঠিক?

ভিটামিন‑সমৃদ্ধ ফল ও তরল খাদ্য শরীরের শক্তি বাড়াতে সহায়ক।

ডেঙ্গুতে খাবারের পরিমাণ কেমন হওয়া উচিত?

একসাথে বেশি না খেয়ে নিয়মিত কম পরিমাণ খাদ্য খাওয়া উচিত।

ডেঙ্গুতে কি চা/কফি খাওয়া যাবে?

হালকা চা বা কফি খাওয়া যায়, কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরকে ডিহাইড্রেটেড করতে পারে।

ডেঙ্গুর সময় কি ফলের রস খাওয়া সুবিধাজনক?

হ্যাঁ, ফলের রস শরীরকে দ্রুত পুষ্টি ও পানি দেয়, বিশেষত ভিটামিন সি‑সমৃদ্ধ রস।

ডেঙ্গুতে কোন খাবার শক্তি দেয়?

স্যুপ, ফলের রস ও সহজপাচ্য খাবার শরীরে শক্তি দেয় এবং দ্রুত হজম হয়।


লিখেছেন- সাদিয়া ইসরাত স্মৃতি, পুষ্টিবিদ, সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল